দ্বিতীয় দফা সংলাপের আগে নিজেদের শক্তির জানান দিতে সোহরাওয়ার্দী জনসভা

oikya-front-assembly-06112018-0020.jpg
গণভবনে দ্বিতীয় দফা সংলাপের আগের দিন নিজেদের শক্তির জানান দিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় মিলিত হয়েছে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

মঙ্গলবার বেলা দেড়টায়  কোরআন তেলাওয়াত, গীত ও ত্রিপিটক পাঠের  মধ্য দিয়ে জনসভার কার্য্ক্রম শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন। আর জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব আছেন প্রধান বক্তা হিসেবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনের সময়ে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, ইভিএম বাতিলসহ ৭ দফা দাবিতে এই জনসভা থেকে জোটের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

জোটের শরিক বিএনপি, জেএসডি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া এবং নতুন যুক্ত হওয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত আছেন এ জনসভায়।

গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর ঢাকায় এটাই এ জোটের প্রথম জনসভা। এর আগে ২৪ অক্টোবর সিলেটে এবং ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে সাত দফা নিয়ে জনসভা করেছে তারা।মঙ্গলবারের জনসভায় অংশ নিতে দুপুরের আগে থেকেই ঢাকার বিভিন্ন অংশ থেকে মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা।

দুপুরে জনসভার কার্যক্রম শুরুর পর ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু , যুব দলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বক্তব্য দেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উত্তর-দক্ষিণমুখী জনসভা মঞ্চের ব্যানারে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তিসহ ৭ দফা দাবির কথা লেখা আছে।

মঞ্চের পশ্চিম দিকে টানানো হয়েছে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের রায় বাতিলের দাবি সম্বলিত বেশ কিছু ডিজিটাল ব্যানার।এছাড়া জিয়াউর রহমান, জোটের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, নিখোঁজ সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীর ছবি সম্বলিত ব্যানারও দেখা গেছে।

এই জনসভা ঘিরে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণসহ সোহরাওয়ার্দীর আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মৎস্যভবনের কাছে জলকামানের গাড়ি, সাঁজোয়া যান ও প্রিজন ভ্যান দেখা গেছে।

এদিকে সমাবেশের কারণে শাহবাগ থেকে মৎস্যভবনমুখী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় আশপাশের সড়কে তৈরি হয়েছে তীব্র জট। নিরুপায় হয়ে অনেককে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

নাজিম নামে একজন বলেন, “মিরপুর থেকে এসেছি সমস্যা হয়নি, কিন্তু শাহবাগে এসে সব থেমে গেছে।”কাকরাইল মসজিদের সামনের সড়কেও দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানবাহনকে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক দক্ষিণ)  মোহাম্মদ মুরাদ আলি বলেন, “এত মানুষ রাস্তায় থাকলে গাড়ির গতি এমনিতেই কমে যায়। কিছু কিছু সড়কে বিকল্পভাবে যানবাহন চলার ব্যবস্থা করেছি আমরা।”

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top