দোষীদের শাস্তির আশ্বাস, ছাত্রদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান

news_BG20180801192409.jpg

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালসহ নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যে দাবিতে রাস্তায় নেমেছে তা আমরা মেনে নিয়েছি। তাদের সব দাবি যৌক্তিক। সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

বুধবার (১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকপক্ষের নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের যেসব দাবি-দাওয়া বিভিন্নভাবে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে, আমরা তা পর্যালোচনা করে দেখেছি, তাদের সব দাবিই যৌক্তিক। আমরা (সরকার) তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছি। তারা সড়কপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। আমরা তা নিশ্চিত করতে একমত হয়েছি। তারা বলেছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালক গাড়ি চালাতে পারবে না। আমরা তা নিশ্চিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সোজা কথা আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সন্তানদের দাবি অনুযায়ী, কোনো ধরনের ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং রোড পারমিট ছাড়া চলতে দেওয়া হবে না। এসব না মেনে রাস্তায় নামলে সংশ্লিষ্ট বাসের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আইন অনুযায়ী  জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এখন আমি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা এবং নিরাপদ সড়কের জন্য জনসচেতনতাও জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাস্তায় চালকদের সচেতন করতে ব্যবস্থা নেবেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। আর এক্ষেত্রে পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে। তাদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা আপনাদের ছাত্রদের, ছেলে-মেয়েদের ঘরে ও ক্লাসে ফেরত নিন। কারণ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢুকে এক ধরনের স্বার্থান্বেষী মহল তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইবে। এই সুযোগে এই মহলটি গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করছে।

‘গত তিন দিনে ৩০৯টি গাড়িতে ভাঙচুর করা ছাড়াও পুলিশের দুটি ও ফায়ার সার্ভিসের একটিসহ মোট আটটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।’

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ছাড়াও নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ২৯ জুলাই এক দুর্ঘটনায় কোমলমতি দুই শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু ঘটেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এরপরই এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ দেন। আমরা সে মতো ব্যবস্থা নিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালক ও তাদের দুই সহকারীকে আটক করা হয়েছে। আদালত তাদের সাত দিনের রিমান্ড দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করেছেন। আমরা তাদের ফিটনেস, লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিট বাতিল করেছি। আমরা নিশ্চিত করছি আইন অনুযায়ী তাদের সর্বচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে কামাল বলেন, তারা তিন দিন যাবত পথে আছে। এই কোমলমতি শিশুরা আমাদের সন্তান। আমরা তাদের আবেগ ও মনের অবস্থা বুঝি। আমি তাদের বলতে চাই, তোমরা কেবল তোমাদের সহপাঠী হারাওনি। আমরাও আমাদের সন্তান হারিয়েছি। তোমরা যে তথ্য বা বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছাতে চেয়েছিলে, তা সারাদেশের প্রতিটি কোণে পৌঁছে গেছে। আমরা তোোদের সব দাবি মেনে নিয়েছি। এবার তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও। কারণ এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশ ও শহর অচল হয়ে পড়ছে। বেশিদিন এই অবস্থা চললে তাতে অন্যরা সুযোগ নিতে পারে।

তিনি বলেন, আমি আজকের বৈঠকে যাকে কাছে পেয়েছি সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। শিক্ষামন্ত্রীকেও (নুরুল ইসলাম নাহিদ) ফোন করেছিলাম। কিন্তু তিনি ঢাকায় নেই। সিলেটে আছেন। তবে তার সঙ্গে এ বিষয়ে ফোনে কথা হয়েছে।

আজকের বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে প্রতিটি টার্মিনাল বা স্টার্ট পয়েন্টে মালিক-শ্রমিকরা মিলে গাড়ির ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করবে। প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সহায়তা করবে। তদারকির জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় টহল দেবে। সন্দেহ হলেই গাড়ি চেক করবে। কাগজ চেক করবে। সচেতনতা তৈরিতে প্রতিটি স্থানে প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেবে মালিক-শ্রমিকরা। মোট কথা, পরিবহনখাতে অরাজকতা দূর করতে, অবৈধ প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করতে মালিক-শ্রমিকরা সরকারকে সবধরনের সহায়তা করবে বলে আজ কথা দিয়েছে।

এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, আজ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব ধরনের সহযোগিতা করবো। আগের মতো কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা আর ঘটবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top