জামায়াতের ভোট গেলো কই

FB_IMG_1532811093823.jpg

দিসিএম ডেস্ক

কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের ভোট কোথায় গেলো, কই গেলো জানিয়েছেন বিএনপির কয়েক শীর্ষ স্থানীয়রা নেতারা। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ফাটল ধরেছে রাজপথের বিরোধীদল বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে গত ২৫ জুলাই কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে মেয়র পদে রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের পক্ষ থেকে সরওয়ার কামাল প্রার্থী ছিলো। এদিকে দু’দলের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা ছিলো। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ও জামায়াত সমর্থিত সরওয়ার কামাল নারিকেল গাছ প্রতীক নিয় লড়ছে। তাদের উভয় দলের মধ্যে কে কাকে পরাজিত করবে তা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করেছিলো একদল আরেক দলের উপর দাবি উভয় দলের নেতা-কর্মীদের। শেষ পর্যন্ত কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মারাতœক বিপর্যয় ঘটলো। একদিকে নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ধানের র্শীষ প্রতীক নিয়ে ১০ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত সরওয়ার কামাল নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে বিপুল ভোটে বিজয় সরকার দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪১ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। কক্সবাজার পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের দৃশ্যত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ভাংগন দেখা দিয়েছে।

এমনকি প্রকাশ্যে ফাটল ধরেছে রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি ও জামায়াতের দীর্ঘ দিনের মধু চন্দ্রিমায়। এরই রেশ ধরে আসন্ন কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী পৃথক দু’জন প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। কক্সবাজার জেলা বিএনপি এবার একাট্টা হয়ে জোটের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে কক্সবাজার জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর রফিকুল ইসলামকে। অন্যদিকে আগের মতো বিএনপির সমর্থন না পাওয়ায় জামায়াত মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে গেলবার নির্বাচনে বিএনপি- জামায়াত জোটের নির্বাচিত মেয়র সরওয়ার কামালকে। ইতোমধ্যে নিজ নিজ দলের সমর্থন নিয়ে ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রধান দু’দলের দু’মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়ে বাছাই পর্বে উৎরে গেছেন। ফলে আসন্ন কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে সরকার সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরাসরি ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন দেশীয় রাজনীতির মাঠে একই জোটের দু’প্রার্থী রফিক ও সরওয়ার। অন্যদিকে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটের শরীক জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী, জেলা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার নির্বাচন করছেন। এছাড়া মেয়র পদে ভোট যুদ্ধে নামা ৫ মেয়র প্রার্থীর অপর জন হলেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মৌলানা মো. জাহেদুর রহমান। সূত্র জানায়, পাসপোর্ট আইনের মামলায় ভারতের শিলংয়ে অবস্থান করা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদের নির্দেশে জেলা বিএনপি রাজনৈতিক মিত্র জামায়াত এড়িয়ে মেয়র পদে শ্রমিক নেতা রফিককে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায়। জেলা জামায়াতের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- জেলা বি এনপির নেতাদের সাথে আলোচনা করে মেয়র পদে জোটবদ্ধ প্রার্থী দেয়ার চেষ্টার কমতি ছিলো না। কিন্তু ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বদানকারী কক্সবাজার বি এনপি নিজের আগে থেকে প্রার্থী ঠিক করে রাখায় আলোচনা সফল হয়নি।

ফলে সরকারের মিথ্যা মামলায় নির্যাতিত, নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র সরওয়ার কামালকে জামায়াত সমর্থন দিয়েছে। এদিকে জেলা বিএনপির এক নেতা জানান, বিএনপি এবং জামায়াত দু’ দলেরই কক্সবাজারের শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে পৃথক নির্বাচন করেও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে হারানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে- কক্সবাজারের সচেতন রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন- কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের দু’ মেরুতে অবস্থান আগামী জাতীয় নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এসব কারনে কক্সবাজার কেন্দ্রিক বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়নের বদলে আগামী নির্বাচনে একটি ইতিবাচক ফলাফলেরও আশা করছেন ক্ষমতাসীনরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top