বৃষ্টিতে ভূমি ধসের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে রোহিঙ্গারা

jashim.docx-721x540-721x540.jpeg

জসিম মাহমুদ :
ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত কয়েক দিন ধরে টানা ভারী বর্ষণে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই সতর্কতা এখনও অব্যাহত আছে। এমন পরিস্থিতিতে টেকনাফ পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। তবে বর্ষায় সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে প্রশাসন এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা গুলো।
শরনার্থী ও কর্মকর্তারা জানান, উখিয়া-টেকনাফের দুই পাশে পাহাড় ও বন কেটে বসতি গড়েছেন রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে টেকনাফের পুটুবনিয়া, শারবাগান, জাদিমুড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে হাজারো রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন। এতে নতুন করে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনা নির্যাতনের ফলে গত বছর ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। পুরোনোসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।
টেকনাফের জাদিমুড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা কথা হয় কোরবান আলী বলেন, ‘গত আট মাস আগে রাখাইন রাজ্যে থেকে পালিয়ে এসে এপারে পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু বর্ষা আসার পর থেকে খুব বেশি ভয় কাজ করছে। দিনের চেয়ে রাতে ভয়টা বেশি। গত তিন দিন ধরে ভারী বর্ষণ হওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি। তাছাড়া আশ্রয় নেওয়া ঘরগুলো খুবই দুর্বল। বাতাস হলে নড়াচড়া করতে থাকে। এসময় ছেলেমেয়েদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। গত কয়েকদিনে এই শিবিরে ৩০টির ওপরে ঘর ভেঙে গেছে।’
টেকনাফের হোয়াইক্যং পুটুবনিয়া পাহাড়ের পাদদেশে আশ্রয় নিয়েছেন আমিনা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারী। তিনি বলেন, ‘ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ঘরে ঢুকে পড়েছে। তাই না ঘুমিয়ে বসে থাকতে হয়। গত তিন দিন ধরে ঠিকমতো গোসল-খাওয়া হচ্ছে না। তাছাড়া বৃষ্টির থামছে না তাই ঘুমাতে গেলেও নানা চিন্তায় আর ঘুম আসে না। বসে-শুয়ে কোনোরকমে কাটিয়ে দিচ্ছি রাত।’
টেকনাফের লেদা ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি অনেকের চাল, ডাল ও ছোলা নষ্ট হয়ে গেছে। ভারী বর্ষণে দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুুতি নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা গুলি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘ইতোমধ্যে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের নিরাপদ স্থানে চলে আসার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরে যেসব এনজিও সংস্থা রয়েছে তাদেরকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি থাকতে বলা হয়েছে। ভারী বর্ষণে রোহিঙ্গারা সমস্যার মুখে পড়েছেন, তবে সরকার রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তাদেরকে আবার এনজিওর মাধ্যমে নিরাপদে রাখা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top