সরকারকে বি. চৌধুরী, পরিবর্তন হলে কম্বল খুঁজে পাবেন না

45a115e0ec91dc8930d0bda023b32096-5b1aa0ae76478.jpg

দিসিএম

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, এক মাঘে শীত যায় না। তেমনি কোনো সরকারও চিরস্থায়ী নয়। পরিবর্তন হবেই। পরিবর্তনের সঙ্গে মাঘ মাসটাও আসে। তাই যখন পরিবর্তন আসবে, তখন আর কম্বল খুঁজে পাবেন না। কেননা যারা অত্যাচারিত হয়েছে, তারা তখন বসে থাকবে না।

আজ শুক্রবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বদরুদ্দোজা চৌধুরী এ কথা বলেন। বিকেলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এই সমাবেশের প্রধান বক্তা ছিলেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্প ধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান প্রমুখ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেএসডি চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি গোলাম জিলানি চৌধুরী। সভাকে ঘিরে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবে বিপুল পুলিশের উপস্থিতি ছিল। নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জাসদের নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। সভায় বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থকও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে। মানুষের বাঁচার অধিকার বিপন্ন। গুম হচ্ছে, হত্যা হচ্ছে। আসলে এই সরকার দয়ামায়াহীন, নিষ্ঠুর। হাজার হাজার লোককে জেলে আটকে রেখেছে।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তফ্রন্ট করেছি। আমরা পরিবর্তন চাই। আমাদের মধ্যে যাঁরা নেতৃত্বে আছেন, তাঁদের কোনো চুরির মামলা নেই। আমাদের দাবি স্পষ্ট, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। নির্বাচনের ১০০ দিন আগে সরকার ভেঙে দিতে হবে।’

বদরুদ্দোজা চৌধুরী নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করুন। সে জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের এক মাস আগে থেকে সেনাবাহিনীর টহল দিতে হবে। নির্বাচনের সময় তাদের ভোটকেন্দ্রে থাকতে দিতে হবে। বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে।

সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যে সরকার এখন ক্ষমতায় আছে, তারা জালেম সরকার। বাংলাদেশে ইতিহাসে এত বড় প্রতারক সরকার আগে কখনো ছিল না।

কয়লা চুরির সমালোচনা করে মান্না বলেন, ‘১০ বছর ধরে কয়লা চুরি হচ্ছিল। এখন এমডিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেবে। বিচার করে শাস্তি দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হবে। কিন্তু এত বড় চুরির ঘটনায় সরকারের দায় কেন থাকবে না? আমার জিজ্ঞাসা, কয়লার মন্ত্রী কে? তিনি কেন পদত্যাগ করবেন না? যারা সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে পারেন না, যাঁরা শেয়ারবাজার রক্ষা করতে পারেন না, তাঁদের মন্ত্রী থাকার কোনো অধিকার নেই। গায়ের জোরে কেবল মন্ত্রী থাকতে চান, এবার মানুষ জেগেছে।’

মান্না বলেন, ‘এই সরকারের আমলে এক হাজারের মতো মানুষ খুন, গুম ও ক্রসফায়ারে মারা গেছে। তাই সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ করতে হবে। আমরা লড়াই করতে চাই এই স্বৈরাশাসকের বিরুদ্ধে। তারা বিনা ভোটের সরকার। সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের “মাননীয়” বলা হয়। মাননীয় মানে মান্য করা। আপনারা তো ভোটে জেতেননি। কেন মান্য করতে হবে?’

মান্না বলেন, ‘সরকার ভেবেছে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি কেবল বিএনপির আছে। খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে ভেবেছে আর কোনো সমস্যা নেই। এত কী মনে আপনাদের? যদি বিএনপি নির্বাচন না করে তাহলে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এই সরকার গায়ের জোরে থাকতে চায়। আমরা জনগণের জোরে বলছি, এই সরকারকে চলে যেতে হবে। আমরা সেই ভোট ও ঐক্য চাই, যারা জনগণকে সুশাসন দেবে। মাদক পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক ডাকাতদের বিচার করবে। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট লড়াই চালিয়ে যাবে। এর শেষ দেখে ছাড়ব আমরা। লোভ দেখিয়ে, ভেতরে ভেতরে ঘুঁটি চালিয়ে লাভ নেই।’

সভায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পদত্যাগ এবং সংসদ ভেঙে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি করেছেন জেএসডির আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, ‘আপনারা (সরকারপ্রধান) হেলিকপ্টারে চড়ে ভোট চাইবেন। আর আমরা সভা করার অনুমতি পাই না। আমাদের লালদীঘি মাঠে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবে সভা করতে হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রব বলেন, আপনার আশপাশের লোকজন আপনাকে ভুল তথ্য দিচ্ছে। দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ আপনার সঙ্গে নেই। আপনি বলেছেন, জনগণ যতক্ষণ চাইবে আপিন ততক্ষণ ক্ষমতায় থাকবেন। তাহলে পদত্যাগের মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। জনগণ ভোটের সুযোগ পেলে কী হয়, দেখুন।

বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়নের সমালোচনা করে রব বলেন, তিন কোটি টাকার জন্য খালেদা জিয়া কারাগারে। অথচ ব্যাংক লুটের তিন হাজার কোটি টাকা কোনো টাকা নয় বলে অর্থমন্ত্রী বলেছেন। তাহলে তিন কোটি টাকা কি কোনো টাকা হলো? আর খালেদা জিয়া তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, সেটাও কি বিশ্বাসযোগ্য?

বিকল্প ধারার আবদুল মান্নান বলেন, দুর্নীতি ও গণতন্ত্র হত্যার কারণে স্বাধীনতার সুফল জনগণ পাচ্ছে না। বিগত সরকারগুলো মিথ্যা ওয়াদা করে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা তারা ভুলে গেছে। এই সরকারও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেনি বরং ২০১৪ সালে একটি ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top