নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়ার থিমছড়ি-বাইশারী সড়ক টানা বষর্ণে ভাঙ্গন-গর্ত চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ

NC-News-Pic-790x540-790x540.jpg

মাঈনুদ্দিন খালেদ :
পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে কিছু অংশ ও কক্সবাজার জেলার রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে সড়কটি যেন যাত্রিদের মরণ ফাঁদ। গর্জনিয়া ইউনিয়নের নিজস্ব লোকজন তো রয়েছেই, কিন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার যাত্রি বাইশারী ও দৌছড়ি ইউনিয়নের ৭০ হাজার মানুষ এখন যাতাকলে। গত বেশ ক’দিন ধরে এ সড়কের চলাচল অনেকটা বন্ধ। কেননা গত ৫দিন ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সড়কটির অধিকাংশ স্থানে খানা খন্দক হয়ে যায়। মাত্র ৫ কিলোমিটার সড়কে গর্জনিয়া অংশে বড় গর্ত হয় প্রায় ৫ শতাধিক। এ যেন সড়ক নয়- পাহাড়ী ছড়া। এ কারনে বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ। এ কারণে চরম দুর্ভোগে বাইশারী,দৌছড়ি ও গর্জনিয়ার লাখো মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষাথী ও রোগীরা পড়েছে চরম বিপাকে।
সরজমিন গিয়ে আরো জানা যায়, বাইশারী দৌছড়ির একাংশ ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের লাখো মানুষের উপজেলা সহ জেলা সদরে যাতায়তের একমাত্র মাধ্যম এ সড়কটি। দীর্ঘ ৬ কিলোমিটারের সড়কটি ব্রীক সলিনে করা। তা-ও আবার দীর্ঘ ১৩ বৎসর আগের। উক্ত সড়কটি ইট দিয়ে তৈরী করা হলেও দীর্ঘ এক যুগের অধিককাল ধরে যাবত সংস্কার/মেরামত করা হয়নি সড়কটির। গোলাম যায় তৈয়ব আসে। আর তৈয়ব যায় সৈয়দ আসে, কিন্তু নজরে পড়ার কোন কাজ তারা এ পর্যন্ত করেন নি। তারা শুধু নিজের কাজ ও এলাকা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন ৫ বছর। এ সড়কের তদারকির দায়িত্বে থাকা রামু এলজিইডি অফিস যেন নির্দিষ্ট কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান উপজেলা সদরেই। তারা মফস্বল এলাকার কোন কাজে মনোযোগি নন।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ফরিদ আহমদ চৌধুরী জানান,গর্জনিয়া ও বাইশারী ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম উক্ত সড়ক । দৈনিক সড়কটি দিয়ে হাজারো মানুষ এবং ৫ শতাধিক পরিবহণ সহ যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে থাকে নিয়মিত। সড়কটির মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে যথাক্রমে শাহ্ মোহাম্মদের পাড়া, থিমছড়ি, থোয়াঙ্গাকাটা, দক্ষিণ বড়বিল ও উত্তর বড়বিল নামক এলাকায় পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে খান খন্দকসহ পাহাড়ী ছড়ায় পরিণত হয়েছে দীর্ঘ এক সপ্তাহ। আর সড়কের ৪ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ৫ শতাধিক গর্ত চলাচলের মরণ ফাঁদ যাত্রিদের। এর উপর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ তো আছেই।
বাইশারী-গর্জনিয়া সড়কের সিএনজি, অটো রিক্সা সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশে পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে যাওয়ায় আজ তিনদিন যাবত গাড়ী যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল জব্বার জানান, বড়বিল এলাকায় ইস্কান্দর নামে জনৈক ব্যক্তি কালভার্টটি বন্ধ করে দেওয়ায় পার্শ্ববর্তী জায়গা ভেঙ্গে পাহাড়ী ছড়ায় পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি টানা বর্ষণ পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে যাওয়া সড়কের বিভিন্ন অংশে খানা-খন্দকে পরিনত হয়েছে। অচিরেই এ সব মেরামত করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করবেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top