টেকনাফে র‍্যাবের ছয় ক্যাম্প :দেশের ৮০ ভাগ ইয়াবা ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণ করে টেকনাফের শীর্ষ ২০ জন

images-1-5.jpeg

নিউজ ডেস্ক::
দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি ইয়াবা ব্যবসা। ইয়াবার রাজ্য কক্সবাজারে র‌্যাব আরো শক্তিশালী হওয়া দরকার। তাই এবার ইয়াবা ঠেকাতে কক্সবাজারের টেকনাফে নতুন করে পাঁচটি ক্যাম্প করছে র‍্যাব। সাধারণ থানার চেয়ে বেশি জনবলের এসব ক্যাম্পে মাদক শনাক্তকরণে ডগ স্কোয়াডও থাকছে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফের শীর্ষ ২০ জন দেশে মোট ইয়াবা ব্যবসার ৮০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন।
র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ইয়াবার বাজার মানেই টেকনাফ। মূল ব্যবসা টেকনাফ থেকেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এ কারণে সেখানে নজরদারিটা খুব জরুরি। টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করতেই ক্যাম্প বসানো হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে গত ৪ মে থেকে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ১৯০ জন নিহত হয়েছেন। তারপরও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। ইয়াবা পাচার ও উদ্ধার এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা পাচারের অন্যতম পথ হলো টেকনাফ। এই পথ দিয়ে সবচেয়ে বেশি ইয়াবার চালান আসে। জেলা পুলিশের তালিকা অনুসারে কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ১৫১ জন সরাসরি ইয়াবা ব্যবসায়ী আছেন, যাঁদের মধ্যে টেকনাফ সদরে তালিকাভুক্ত বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী আছেন ১৯৩ জন। টেকনাফের শীর্ষ ২০ জন মোট ইয়াবা ব্যবসার ৮০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন।

সাগরঘেঁষা টেকনাফের ওপারেই মিয়ানমার। সীমান্তে পাহারার জন্য বিজিবি এবং নৌপথ পাহারার জন্য কোস্টগার্ড রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে পুলিশ। তারপরও ইয়াবা পাচার বন্ধ হয়নি। অবশ্য অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত বলে তা বন্ধ হচ্ছে না। এই অবস্থায় নতুন ক্যাম্প করছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৭-এর পরিচালক লে. কর্নেল মেফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন পাঁচটি ক্যাম্প হলো শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া ও হোয়াইক্যং। আজ বৃহস্পতিবার ক্যাম্পগুলোতে কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি জানান।

টেকনাফে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহপরীর দ্বীপের ক্যাম্পটি হাজি বশির আহমদ উচ্চবিদ্যালয়ে। এটি নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরঘেরা এলাকা। মিয়ানমার থেকে নদী ও সাগরপথেই ইয়াবার চালান বাংলাদেশে আসে। এ পথে বিভিন্ন সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বড় বড় চালান আটকও করেছেন। এখানে নাফ নদীর তীরসংলগ্ন এলাকায় বিজিবির একটি সীমান্তচৌকি ও পুরান বাজার এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের একটি স্টেশন আছে।

সাবরাংয়ের ক্যাম্পটি হচ্ছে সাবরাং ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে। এর পূর্ব দিকে নাফ নদী ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। নাফ নদীর তীরে নয়াপাড়া এলাকা ও খুরেরমুখে বিজিবির দুটি সীমান্তচৌকি রয়েছে। তারপরও নাফ নদীসংলগ্ন নয়াপাড়া, আছারবনিয়া, ঝিনাপাড়া, মগপাড়া, হারিয়াখালী ও সাগরসংলগ্ন খুরেরমুখ, বাহারছড়া, আলীরডেইল এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবার চালান আটকের নজির আছে।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ক্যাম্পটি হচ্ছে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে। এই এলাকায় বিজিবির একটি ব্যাটালিয়ন, একটি সীমান্তচৌকি ও কোস্টগার্ডের একটি স্টেশন রয়েছে। এ ইউনিয়নের নাজিপাড়া, মৌলভীপাড়া, খাংকারপাড়া, হাবিবপাড়া, বরইতলি, কেরুনতলি, মহেষখালীয়াপাড়া, লেঙ্গুরবিল, লম্বরী, হাতিয়ারঘোনা এলাকার বিভিন্ন পথ দিয়ে ইয়াবার চালান মিয়ানমার থেকে আসছে। এ ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিসহ একাধিক বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী আছেন।

বাহারছড়ায় ক্যাম্পটিও হচ্ছে উপকূলীয় এলাকায়। সেখানে পুলিশের একটি ফাঁড়ি, কোস্টগার্ডের একটি সিজি স্টেশন ও বিজিবির একটি অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি রয়েছে। পরের ক্যাম্পটি হচ্ছে হোয়াইক্যং তেচ্চিব্রিজ মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ ক্যাম্পের পাশেই পুলিশের একটি ফাঁড়ি ও বিজিবির দুটি সীমান্ত ফাঁড়ি রয়েছে।

টেকনাফে আগে থেকেই র‍্যাবের একটি ক্যাম্প ছিল। নতুন পাঁচটি হওয়ার কারণে সেখানে ক্যাম্পের সংখ্যা দাঁড়াল ছয়ে।
এত ক্যাম্প করার পরও ইয়াবা ব্যবসা আদৌ বন্ধ হবে কি, জানতে চাইলে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, ‘সাধ্যমতো চেষ্টা তো করে যাচ্ছি।’

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top