পানির নিচে কক্সবাজার শহর, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

IMG_20180726_154545.jpg

দিসিএম

টানা তিন দিনের প্রবল বর্ষণে কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ এলাকা ও প্রধান সড়কের প্রায় বাজার পানির নিচে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ে ধস নেমেছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ।
বর্ষণ অব্যাহত থাকায় কক্সবাজার শহর, ঈদগাঁও ও বিভিন্ন উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এই এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের বাজারঘাটা এলাকায় কোমরসমান পানি। বড় বাজার এলাকার প্রায় তিন শ দোকান এখন ডুবো ডুবো অবস্থায় পানিতে। এ ছাড়া টেকপাড়া, বার্মিজ মার্কেট, লারপাড়াও শত শত ঘরবাড়ি পানির নিচে। এদিকে হোটেল-মোটেল জোনের শতাধিক হোটেলের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহ জানান, ভারী বর্ষণে শহরের বাজারঘাটা, বড়বাজার, গোলদীঘিরপাড়, টেকপাড়া, সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, নাজিরারটেকসহ উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রাম পানির নিচে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
সড়কে পানি উঠায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। পাহাড় ধসের আশঙ্কায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার সদরের এ্যসিল্যান্ড নাজিম উদ্দিন জানান, টানা বর্ষণে কক্সবাজার সদর উপজেলার প্রায় ৫,৫৮০ টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অতিবর্ষণ জনিত কারণে পিএমখালী, লাইট হাউজ, উপজেলা পাড়া ও বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন অঞ্চলে পাহাড় ধ্বসের আশংকা রয়েছে। তাই এসব অঞ্চলে বসবাসরত নাগরিকদের জেলা প্রশাসনের আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার জন্য অনুরোধ করেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী আবদুর রহমান জানান, গত তিনদিনের ভারী বর্ষণে অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top