কে হচ্ছেন কক্সবাজারের পৌর পিতা

34815581_2038121826438091_4760730755217227776_n-18.jpg

মমতাজ আহমদ :
আগামীকাল ২৫ জুলাই বুধবার প্রায় সাড়ে ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন। ৮৩ হাজার ৭২৮ জন ভোটারের ভোটে নির্বাচিত হবেন একজন মেয়র। কক্সবাজার পৌরসভার এ নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন ৫ জন মেয়র প্রার্থী। তাদের মধ্যে কে হচ্ছেন এই পৌর পিতা? বর্তমানে এটি নিয়েই হচ্ছে কক্সবাজার পৌরবাসীর সরব আলোচনা। দোকানপাট, গাড়িতে, অফিসে সর্বত্র এই আলোচনাই যেন মুখ্য আলোচনায় পরিণত হয়েছে ভোটারদের মাঝে। মোট ৮৩ হাজার ৭২৮ জন ভোটারের মধ্যে ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন পুরুষ ভোটার ও ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন নারী ভোটার রয়েছে। আর এ ভোটাররাই বিজয়ী করবেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে। তবে মেয়র পদে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের হিসেব নিকেশ একটু ভিন্ন রকম। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক হিসেবে নৌকা ও ধানের শীষসহ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক চলে আসায় ব্যক্তির চেয়ে দল বড় কি না, সে প্রশ্নের উত্তর জানার অপেক্ষায় সকলে।
গতকাল ২৩ জুলাই সোমবার কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা সরজমিনে ঘুরে সাধারণ ভোটারের সাথে কথা বলার পর তাদের কাছে বিভিন্ন সমীকরণের তথ্য পাওয়া যায়। কেউ কেউ দলের বাইরে যাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেও কেউ কেউ আবার দলের চেয়ে ব্যক্তিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। মেয়র ও কাউন্সিলর দুই ক্ষেত্রেই এই চিত্র দেখা গেছে।
কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন প্রার্থী আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে চাইলেও কিন্তু শেষপর্যন্ত সকলকে টেক্কা দিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে যান। কক্সবাজারে আওয়ামীলীগের রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিয়েছেন। জরিপ কিংবা আলোচনা সবখানে এগিয়ে থাকা এ প্রার্থী যদি নির্বাচিত হন তাহলে তিনিই হবেন দলীয় প্রতীক কিংবা মেয়রপদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়র।
অন্যদিকে ২০১১ সালে এ পৌরসভার নির্বাচনে জামায়াত নেতা সরওয়ার কামালকে ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপি থেকে কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি তখন। উক্ত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেনও সরওয়ার কামাল। কিন্তু এবার সে ভুল করেনি তারা। দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি রফিকুল ইসলামকে। রফিকুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা যুক্তি দেখিয়ে বলেন, তিনি কয়েকবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বতর্মানে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় তেমন প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি বলে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা একসাথে মাঠে নেমেছেন।
কিন্তু এ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর জন্য মাথাব্যথার কারণ দুটো। এর একটি সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করা এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তা।
অন্যদিকে নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেয়া সাবেক মেয়র সরওয়ার কামালও প্রচারণায় তেমন পিছিয়ে নেই। কোন দলের ব্যানারে তিনি নির্বাচন না করলেও তাকে ভাবা হচ্ছে জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে। তিনি তাই কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচনের মতো একটি নির্বাচন আশা করছেন। যেখানে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে বিগত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি যতটা সহজে পার পেয়েছেন এবার তা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে নৌকা ও ধানের শীষ এসে পড়ায় ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। আবার অনেকে সরওয়ার কামালকে যোগ্য প্রার্থী হিসাবে যুক্তিও দেখাচ্ছেন।
তবে যে যাই বলুক, কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাইরে পুরো পৌরসভায় আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু মেয়র নির্বাচন। মেয়র পদে মোট ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসবে না এমনটাই মনে করছে সচেতন ভোটাররা। তাদের ধারণা এ পর্যন্ত মাঠের অবস্থায় নিশ্চিত বলা যাচ্ছে লড়াইটা ত্রিমুখী হবে।
তবে কক্সবাজার পৌরসভার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে কয়েকবার জরিপ করার পর দেখা যায়, কোন অঘটন না ঘটলে পৌর পিতা হচ্ছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান!
তিনি নির্বাচিত হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণও দেখাচ্ছেন জেলার সিনিয়র কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারাও। তারা মনে করেন, সরকার ক্ষমতায় থাকায় গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে একাধিক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু এ নির্বাচনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। কারণ তার নেতৃত্বে কক্সবাজারের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট। এমনকি যে ব্যক্তিকে এ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের কোন নেতা বশে আনতে পারেন নি, সেই নেতা কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছারও এবার আওয়ামীলীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে বিএনপি নেতারা মনে করছেন, কক্সবাজার জেলা হচ্ছে বিএনপি কিংবা ধানের শীষের ঘাঁটি। তাই তাদের মনোনীত প্রার্থীই নিবার্চিত হবেন এ নির্বাচনে।
অপরদিকে জামায়াতের কয়েকজন নেতা মনে করছেন, সকল জরিপ ভুল প্রমাণ করে সরওয়ার কামালই মেয়র নির্বাচিত হবেন।
অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রুহুল আমিন সিকদার ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা জাহেদুর রহমান জরিপে পিছিয়ে থাকলেও তারা মনে করছেন, নির্বাচন সুষ্ঠ হলে তারাই নির্বাচিত হবেন!
আগামীকাল ২৫ জুলাই কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ্যাৎ কক্সবাজার পৌরবাসী আগামীকালই জেনে যাবেন কে হচ্ছেন তাদের ভবিষ্যৎ পৌর পিতা? মুজিব? রফিক? নাকি সরওয়ার?
উল্লেখ্য কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মোট ৮৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৬ জন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল ২৫ জুলাই ১২টি ওয়ার্ডের মোট ৩৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহন করা হবে। ওইসব কেন্দ্রে মোট ভোট কক্ষ থাকবে ২২৪টি। অস্থায়ী কক্ষ থাকবে ১১টি। মোট ভোটার ৮৩ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন এবং নারী ভোটার ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top