র‌্যাবের অভিযানে ২০টি বন্দুক, গুলি ও সরঞ্জামসহ দুই কারিগর গ্রেফতার

Presentation1-11.jpg

মাহবুব রোকন :
কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ বন্দুক তৈরির একটি বিশাল কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। রাত ব্যাপী অভিযানের পর এ কারখানা থেকে ২০টি বন্দুক, বন্দুকের বিপুল সংখ্যক গুলি, বন্দুক বানানোর যন্ত্রপাতিসহ বন্দুক বানানোর দুই জন কারিগরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রামস্থ র‌্যাব-৭ ও র‌্যাবের কক্সবাজার ক্যাম্পের বিপুল সংখ্যক সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন। শনিবার রাত ৮ টায় শুরু হওয়া এই অভিযান শেষ হয় রোববার ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে । এ সময় র‌্যাব-সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা র‌্যাব-৭ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, র‌্যাবের কাছে তথ্য ছিলো -মহেশখালীর পাহাড়ের গহীনে বনের ভেতর বন্দুক তৈরির কারখানা রয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে বেশ কিছু সংখ্যক কারিগর এতে বন্দুক বানানোর কাজ করে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামস্থ র‌্যাব-৭ এখানে অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হন। শনিবার সকাল থেকে র‌্যাব সদস্যরা সাদা পোশাকে এলাকায় অবস্থান নেন। রাত ৮ টার পর থেকে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান।
তিনি জানান -এ মিশনে র‌্যাব মূলতঃ দুই জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেন। প্রথমে কালারমার ছড়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় র‌্যাব বন্দুক বানানোর দুইজন কারিগরকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতার কৃতরা হল -আব্দুল হাকিম(৩৮) ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ (৩১)। পরে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এ সময় কালারমার ছড়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের গহীনে বনের ভেতর স্থাপন করা অস্ত্রের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। তখন বেশ কয়েকজন কারিগর ওই কারখানায় বন্দুক বানানোর কাজ করছিল। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রের কারখানা থেকে র‌্যাবের অভিযান দলকে লক্ষ করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। র‌্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় কারিগরদের অনেকেই কারখানা ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য মতো ২০টি বন্দুক, ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি, বন্দুক বানানোর যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়। ধৃতরা স্থানীয় কালারমার ছড়ার বাসিন্দা ।
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান -রোববার ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে অভিযান সমাপ্ত হওয়ার পর গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অস্ত্র, গুলি ও সরঞ্জামসহ তাদেরকে মহেশখালী থানায় সোপর্দ করা হবে। এটি একটি বড় অভিযান ছিলো এবং এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব সদস্য অংশ নেন -জানান এ কর্মকর্তা। পরে বেলা ২ টায় র‌্যাবের কক্সবাজার ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিং এ অভিযানের বিবরণ দেন মেজর মেহেদী হাসান।
মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান -রোববার রাত সাড়ে ৭টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদেরকে থানায় সোপর্দ করা হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top