শহরে চাপাতি দিয়ে পুলিশকে তাড়া, গুলি করে হামলাকারীকে আটক

Presentation1-8.jpg

দিসিএম ডেস্ক।।

কক্সবাজার শহরের লালদিঘীর পাড়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের পথে ছেড়ে যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা বাস ভাংচুর করতে থাকে এক ব্যক্তি। একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করে। ওই সময় যে বাধা দিতে আসছে তাকে তাড়া করছে। মারধর করছে বাসের স্টাফদের। এক পর্যায়ে পুলিশ বাধা দিতে আসলে সে চাপাতি নিয়ে পুলিশকে তাড়া করে। পরে পুলিশ বাধ্য হয়ে তাকে গুলি করে। বর্তমানে সে পুলিশ পাহারায় কক্সবাজার সদর হাসপতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার (২১ জুলাই) সকাল ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। চাপাতি দিয়ে পুলিশকে তাড়া করা ব্যক্তির নাম মোঃ জাহিদুর রহমান (৪৭)। সে লালদিঘীর পাড়স্থ ডাস বাংলা ব্যাংকের ভবন রহমান ম্যানশনের মালিক মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে।
এ ঘটনায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার-ঢাকা সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছিল ক্ষতিগ্রস্থ বাস মালিকেরা। পরে পুলিশের আশ^াসে তা প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা যায়, মোঃ জাহিদুর রহমান মাদকাসক্ত। এর আগেও কয়েকবার ওই এলাকার আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন তিনি। শনিবার সকালে তার আচমকা হামলায় এস আলম পরিবহনের তিনটি ও সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
কক্সবাজার এস আলম বাসের ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, কোনো কারণ ছাড়াই ওই এলাকায় তিনি আচমকা আমাদের গাড়ির গ্লাস ভাংতে থাকেন। এসময় পাশে থাকা সৌদিয়া এসি পরিবহনেও হামলা চালায়। আর পেট্টোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাকে বাধা দিতে গিয়ে আমাদের তিনজন স্টাফ আহত হয়। এতে আমরা মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হই। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি। নয়ত বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
কক্সবাজার সদর থানার অপারেশন অফিসার মাঈন উদ্দিন জানান, টিএসআই জয়নালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ লালদিঘীর পাড় এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। এই সময় হঠাৎ জাহিদুর রহমান গাড়ি ভাংচুর শুরু করে এবং গাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাকে বাধা দিতে গেলে ওই ব্যক্তি চাপাতি নিয়ে পুলিশকে তাড়া করে। ফলে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গুলি করেতে বাধ্য হয়। পরে তিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঘরে আশ্রয় নিলে পুলিশ তাকে আটক করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ পাহারায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, জাহিদুর রহমানের শরীরের কয়েক জায়গায় গুলি লাগলেও আঘাত মারাত্বক নয়। চিকিৎসায় সেরে উঠবেন তিনি। এছাড়া তিনি স্বাভাবিক রয়েছেন।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন জানান, জাহিদুর রহমানের হামলায় বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারত। তাই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া গাড়ি ভাংচুর আর আগুন লাগানোর অপরাধেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top