বিএনপি নেতাকর্মীরাও কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রচারনায়

37240370_1789901067768299_6453050274746466304_n-2.jpg

শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের বনরুপা পাড়ায় মুজিবুর রহমানের গনসংযোগ

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপির তৃনমূল অনেক নেতাকর্মীও আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। এতে তৃনমূলের বিএনপি নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েছে নিজ দলের প্রার্থীর জয় নিয়ে, অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের এমন কর্মকান্ডে সাধারণ ভোটার ও বিএনপি সমর্থকরা সমালোচনায় মুখর। তবে ইতি মধ্যে পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করা নেতাকর্মীদের তালিকা হচ্ছে এবং প্রকাশ্য যারা বিরোধীতা করছে তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হবে বলে জানান বিএনপি নেতারা। তবে বিএনপির সাধারন সমর্থকদের দাবী যদি বিএনপি নিজেদের ভোট গুলোও সঠিক ভাবে নিতে পারে তাহলে তাদের জয়ের সম্ভাবনা আছে।
কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার মনোয়ার হোসেন বলেন,আমি যতটুকু জানি ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি স্থানীয় সমাজপতি আজিম সওদাগর তবে তিনি পৌর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করাতো দূরের কথা গত শুক্রবার মসজিদে প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চায়ছে এবং উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকাতে ভোট দিতে বলেছে এতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এখানে আগে বিএনপি করতো এমন অনেক লোক এখন আওয়ামীলীগের পক্ষে কাজ করছে। অনেকে প্রকাশ্য আবার অনেকে গোপনে দলের বিরুদ্ধে কাজ করছে। পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির একজন যুগ্ন সম্পাদক বলেন,আমাদের ১নং ওয়ার্ড বলতে গেলে বিএনপির ঘাটি এখানে সাড়ে ৭ হাজার ভোটের মধ্যে ৬ হাজার বিএনপির আর বাকিগুলো জামায়াত আর আওয়ামীলীগের তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন,এখন পৌরসভা নির্বাচনে সবাই আওয়ামীলীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীকের মুজিবুর রহমানকেই ভোট দিতে প্রস্তুত, তিনি বলেন কেন জানিনা আমাদের নেতাকর্মীরা স্বক্রিয় না সবাই কেমন জানি চুপচাপ বরং ভেতরে ভেতরে সবাই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ১নং ওয়ার্ডের সমিতি পাড়াঘুরে দেখা গেছে সেখানে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে তেমন কোন অফিস নেই তেমন কোন প্রচারনাও নেই।
আলাপকালে জেলে নাজিব মিয়া (৬০) বলেন, আমি সারা জীবন বিএনপি সমর্থক, আগে কোন দিন নৌকায় ভোট দিই নাই কিন্তু এবার মুজিবুর রহমানকে ভোট দিব। কারন হিসাবে তিনি বলেন, এখানে সবাই দিচ্ছে সব বিএনপি নেতাও আওয়ামী লীগের পক্ষে তাহলে আমি কোথায় যাব। ভেতরে ভেতরে সবাই নৌকার পক্ষে কথা বলছে। যদি বিএনপির নেতারা ঠিকমত এগিয়ে আসতো এখানে বিএনপি অনেক ভোটে এগিয়ে থাকতো। পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি পশ্চিম শাখার এক নেতা বলেন, আমাদের সভাপতি নুরুল আলম মাস্টার এবং সাধারণ সম্পাদক জহুর এ পর্যন্ত কোন দিন ওয়ার্ডের সভা করে বা সবাইকে সাথে নিয়ে বিএনপি প্রার্থী বা ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলামের পক্ষে কোন প্রচারনায় নামেনি। বরং আমরা খবর পাচ্ছি আমাদের সভাপতি কোন মন্তব্য করতে চাইছে না। শুনেছি ওনার অনেক জমিজমা আছে যেগুলোতে কিছু সমস্যা আছে তাই তিনি নিরব ভুমিকা পালন করছেন।
এদিকে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডের বেশ কিছু নেতাকর্মী কয়েক বছর আগেও বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিল তারা এখন পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে বলে জানা গেছে। এতে সব জায়গায় সাধারণ ভোটার এবং বিএনপি সমর্থরকরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। ১২নং ওয়ার্ডে আবদুল আলীম নামের এক সমর্থক জানান আমি দেখছি এখানে আগে মানুষ বিএনপির জন্য পাগল ছিল কিন্তু এখন পৌর নির্বাচনে কি হলো বুঝতে পারছি না,অনেকে নৌকার পক্ষে কাজ করছে। তবে আমার মনে হয় জাতীয় নির্বাচনে সেটা হবে না এটা স্থানীয় নির্বাচন বলেই্ হয়তো এমন হচ্ছে। তিনি বলেন,আসলে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা অনেকটা হতাশ তারা মনে করছে তাদের প্রার্থী জয়ী হতে পারবে না,কারন জামায়াতের আরেকজন প্রার্থী আছে যিনি আগে পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ছিলেন,অন্যদিনে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম আগে তেমন পৌর এলাকার সব এলাকাতে মানুষের সাথে মিশেনাই তাই উনাকে মানুষের মাঝে পরিচিত করতে এবং ভোট আদায় করতে কষ্ট হচ্ছে। অন্য দিকে নৌকার প্রার্থী অনেক আগে থেকে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভাবে পরিচিত,আর সাধারণ ভোটাররা মনে করছে যেহেতু বর্তমান সরকার আওয়ামীলীগ তাই আওয়ামীলীগের প্রার্থীকেই জয়ি করলে ভাল হবে, এলাকার উন্নয়ন হবে।
এব্যাপারে কক্সবাজার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, নুরুল আজিম সওদাগর আমাদের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি পশ্চিম শাখার সভাপতি,উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে এছাড়া এ ধরনের পদবীধারি যারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদের স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করার সিন্ধান্ত দিয়েছে জেলা নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া যারা পদে থেকে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে না তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন জিকু বলেন,আমার মতে বিগত ১০ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ যতই অত্যাচার নির্যাতন করেছে ততই বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবন্ধ হয়েছে। আমার মতে তেমন বড় কোন অংশ দলের সাথে বেঈমানি করেনি। আর পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটা আগেই ঘোষনা দিয়েছে জেলা নেতারা।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দলীয় প্রার্থী এবং প্রতীকের পক্ষে কাজ না করা মানে তার আর বিএনপি করার যোগ্যতা নেই। সে কোন মতেই বিএনপির কোন পর্যায়ের নেতা হতে পারে না। যারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top