শহরে বেড়েছে খুন, ডাকাতি ও ছিনতাই

Presentation1-6.jpg

দিসিএম।।

কক্সবাজার শহর ও আশেপাশের এলাকায় বেড়েছে হত্যা, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মত ঘটনা। গত ২৯ জুন থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত শহরে ১২ দিনে এক শিশু সহ ৪ জন খুন হয়েছে। চলতি মাসে ডাকাতি আর ছিনতাই পরিণত হয়েছে নিত্য নৈমত্তিক ঘটনায়। একদিকে পৌর নির্বাচন অন্যদিকে হঠাৎ করে খুন, ডাকাতি ও ছিনতাই অস্বাভাবিক গতিতে বেড়ে যাওয়ায় শহরে বিরাজ করছে অস্থির অবস্থা। শুধু ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি ঘটনা বৃদ্ধিই নয়, অপহরণ ও মাদক বিকিকিনিও বেড়েছে। একারণে ভীতি আর আতঙ্কে দিন কাটছে কক্সবাজার শহরবাসীর। এমন ভীতিকর অবস্থার জন্য অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগের তীর থানা পুলিশের দিকে।
অপরাধ যে গতিতে বাড়ছে, পুলিশের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের গতি সে হারে বাড়ছেনা। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধ কর্ম চলছে বেশ জেরে শোরে । গড়ে উঠছে প্রশিক্ষিত একাধিক অপরাধী গ্রুপ । বিশেষ করে ছিনতাই বেড়ে গেছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। এই কর্ম শুধু শহরে হচ্ছে তা নয় শহরের আশেপাশের এলাকায় ও ছিনতাইকারীদের হাতে সর্বস্ব হারাচ্ছে লোকজন। গত ২৯ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত শহরে শিশু সহ ৪ জন খুন হয়েছে। অথচ এই ৪ টি খুনের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে ৩ জনকে আটক করতে পেরেছে পুলিশ।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জের, মসজিদ নির্মাণ ও দু’পক্ষের কোন্দল , খুন করে ফেলা যাওয়া এবং শিশুদের বালু খেলাকে কেন্দ্র করে ওই ৪ দিন খুনের ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ২৯ জুন দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার বাচাঁমিয়ার ঘোনা দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে এএইচএম তানভীর আহমেদ (২৬) নামে এক কলেজ ছাত্র খুন হন। এই ঘটনায় পুলিশ সেদিন রাতে দুজনকে আটক করলেও বাকিদের এখনো আটক করতে পারেনি। অথচ সেই হত্যার বিচার নিহতের পরিবার, আতœীয়- স্বজন, বন্ধুবান্ধব মানবন্ধন, স্মারকলিপি ও সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। এরপর ৩ জুলাই আধিপত্য বিস্তার, দুই সন্ত্রাসী বাহিনী কোন্দল ও সরকারি খাস জমিতে কেন্দ্র করে একই ওয়ার্ডের পাহাড়তলির ইসলামপুরে প্রতিপক্ষের গুলিতে মো. ইসমাঈল (২৬) নামে এক যুবক খুন হন। কিন্তু ওই ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। তারপর ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় কলাতলীর বাইপাস সড়কের উত্তরণ হাউজিং সোসাইটির সীমানা দেয়ালের বাইরের ঝোপ থেকে হত্যার শিকার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু এখনো সেই যুবকের পরিচয় কিংবা হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। একইদিন বিকেলে বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় শিশুদের বালুখেলাকে কেন্দ্র করে শাহাব উদ্দিন (১০) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। ওই ঘটনার ঘাতককে জনতা আটক করে পুলিশে সোপার্দ করে।
এদিকে, খুনের ঘটনার পাশাপাশি শহরে উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত তিন মাসে সদর থানায় রেকর্ড হয়েছে ৮ টি ডাকাতির মামলা। এরমধ্যে ১৭ জুলাই সকাল ৬ টায় একদল স্বশস্ত্র ডাকাত শহরের আইবিপি রোড়ের সুমন পালের বাড়িতে ডুকে তাকে ছুরিকাঘাত করে ৪ টি মোবাইল, ২টি ল্যাপটপ ও নগদ ১০ হাজার টাকা লুট করে। আহত সুমন পাল বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আর ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার পথে একটি ছুরি সহ শহরের বৈদ্যঘোনার খাজামঞ্জিল এলাকার সিরাজের ছেলে রাসেলকে ধরে পুলিশে সোপার্দ করেছে এলাকাবাসী। এদিকে চলতি মাসেই সদর থানায় ৩ টি ছিনতাইয়ের ঘটনার এজাহার জমা দিয়েছে ভোক্তভোগীরা। এরমধ্যে ২০ জুলাই শহরের টেকপাড়ার হাঙ্গরপাড়ার দুই কলেজ ছাত্রের কাছ থেকে মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ৪ ছিনতাইকারী। ওইসময় জনগন ধাওয়া করে বৈদ্যঘোনার খাজামঞ্জিল গ্রামের মো. হোসেনের ছেলে রঞ্জন আলী সিকদার বাবু (১৭)কে আটক করে। পরে পুলিশে সোপার্দ করে। এর আগে ১৬ জুলাই রাতে খুরুশকুলের হামজার ডেইল এলাকায় একই ইউপি’র মেহেদী পাড়ার আব্দুল আজিজের বুকে ছুরি ধরে ৬৫ হাজার ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিএনজির গতিরোধ করে টাকাসহ একই ইউপির হামজার ডেইল এলাকার নুর আহমদ মিস্ত্রীর দুই ছেলে মোবারক ও সাইফুল ইসলামকে ধরে পুলিশে সোপার্দ করে এলাকাবাসী। তারও আগে ১২ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় হাশেমিয়া মাদ্রাসার পেছনের খোরশেদ ভবন থেকে বের হওয়ার পথে কলেজ ছাত্র রাশেদ খান সাগরকে মারধর করে নগদ ৮ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয় ৫ জন ছিনতাইকারী। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার চেয়ারম্যানঘাটার মো. ইছহাকের ছেলে মো. মোশাররফ ছিদ্দিকী আকাশকে ধরে পুলিশে সোর্পাদ করে। ওই ঘটনায় সেদিন রাতেই ৫ জন ছিনতাইকারীর নাম উল্লেখ করে সদর থানায় এজাহার দায়ের করে ভিকটিমের বাবা মো. শহিদুল্লাহ।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সোসাইটির সহ সভাপতি কলিম উল্লাহ বলেন,সদর থানা পুলিশের সদিচ্ছার অভাবেই ছিনতাইমুক্ত হচ্ছে না পর্যটন শহর। জায়গা জমির বিরোধ, পারিবারিক কলহ কিংবা সালিশী বৈঠকে পুলিশের বেশী। কারন বিচারও সালীশিতে বসার জন্য তারা বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ থেকে টাকা নিতে পারে। এ প্রথা ভাঙ্গতে হবে। না হয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
এবিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন ) এর সভাপতি ও কক্সবাজার সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল বারী বলেন, ইদানিং কক্সবাজার শহরে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কিশোর অপরাধীর সংখ্যা বেড়েছে। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অদূরদর্শিতা ও কতিপয় পুলিশ সদস্যের অসাধু আচরনের কারণে শহরে অপরাধী কাজকর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরে পরিবেশ অস্থিত্বিশীল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে সদর থানা পুলিশ ১৫ জুলাই থেকে সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযান নিয়মিত চলবে।

সূত্র দৈনিক কক্সবাজার
আপনার মন্তব্য লিখুন
Top