কক্সবাজার উপকূলে জোয়ার-ভাটা : ঠিকাদারদের তলব করেও কাজ হয়নি

37105287_2048295741882373_5436690592505528320_n-1-660x330.jpg

দিসিএম

কক্সবাজার জেলার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনের চাপের মুখেও ঠিকাদাররা কাজ না করার অমাবস্যার জোয়ারে ভাসছে কক্সবাজার উপকূল। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারদের তলব করেছিলেন জেলা প্রশাসক। এতে ঠিকাদারদের প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন উপকূলে বসবাসরত লোকজন।  জোয়ারের পানি ২/৩ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে।

বৈরী আবহাওয়া ও নিম্ন চাপের ফলে সাগরে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২/৩ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজার উপকূলের বিভিন্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহারপাড়া,কাজির পাড়া, তেলিপাড়া,বায়ুবিদ্যুৎ, কুমিরারছড়া জেলেপাড়া,বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরালিয়া,লেমশীখালী ইউনিয়নের পেয়ারাকাটা, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ফয়জানিরবাপের পাড়া, চরধুরুং, পশ্চিমচরধুরুং,কাইছারপাড়া, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের আলী ফকির ডেইল,বাতিঘর পাড়া, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়া,উত্তর বড়ঘোপ এলাকাসহ প্রায় ১৪ কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের নোনা পানি লোকালয়ে ডুকে পড়লে ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত পরিবার পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পুরো মাতারবাড়ি এখন জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে।

বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধূরী জানান, দক্ষিণ মুরালিয়া ৯নং স্লুইচ গেইট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নোনা পানিতে ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় শত শত একর ফসলি জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে না।

কুতুবদিয়া আলী আকবর ডেইল এর চেয়ারম্যান নুরুচ্ছফা বিকম জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা থাকায় কুতুবদিয়া দ্বীপের ৬ ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের শত শত একর ফসলি জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে না। মারাতœক ঝুঁিকপূর্ণ বেড়িবাঁধ জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট পাউবোর কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানান।

এদিকে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথে একমাত্র যোগাযোগের রাস্তাটি অচল হয়ে পড়েছে। ওই সড়কের উপর দিকে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হওয়া বিভিন্ন স্থানে বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে মাতারবাড়ির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও পুরো মাতারবাড়িতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যেতে নৌকায়ই একমাত্র বাহন হয়ে দাড়িয়েছে।

মাতারবাড়ির চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ সিরাজুল মোস্তফাসহ নেতৃবৃন্দরা ঠিকাদারদের গাফিলাতির ব্যাপারে সতর্ক করে দ্রুত কাজ করার তাগিদ দিলেও কোন কাজ হয়নি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top