নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি তিন মেয়র প্রার্থীর

elec.docxc-1-720x540-720x540.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক :
পৌরসভা নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার, হুমকি ধমকি সহ একে অন্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি সহিংসতার আশংকা করে সুষ্ঠু , অবাধ ও নিরপেÍগ নির্বাচনের জন্য সেনা মোতায়ানের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীরা।
শনিবার বিকেলে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভার উম্মুক্ত আলোচনা অংশ নিয়ে তারা এই দাবী তুলেন। তবে “ প্রার্থীদের সাথে জেলা প্রশাসনের মত বিনিময় সভায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না।
কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেনের আহবানে উম্মুক্ত আলোচনা অংশ নিয়ে মেয়র প্রার্থীদের পÍগ থেকে প্রথমেই জাতীয় পার্টির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন আমিন সিকদার নির্বাচনে প্রাণহানীর আশঙ্কা রয়েছে দাবি করে তার বক্তব্যে বলেন সেনা বাহিনী, বিজিবি মোতায়নের পাশাপাশি সুনির্দ্দিষ্ট এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনতে হবে। এতে প্রার্থী এবং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে ।
ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, নৌকা প্রতিকের প্রার্থী সবচেয়ে বেশি আচরণ বিধি লঙ্গন করছেন। ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন এলাকায় এক’শর বেশি নির্বাচনী অফিস করেছে। রঙ্গিন পোস্টার এবং খালের নৌকা রা¯ত্মায় নিয়ে এসেছেন। একই সাথে বিএনপি প্রার্থীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানির হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান যখন ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো। তখন তিনি লাশ উপহার দিয়েছিলেন। এবারো আমরা এমন আশঙ্কা করছি। তাই জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মতো আমিও সেনা বাহিনী মোতায়নের দাবি জানাচ্ছি।
নাগরিক কমিটির প্রার্থী জামায়াত নেতা সরওয়ার কামাল বলেন, গত পৌরসভা নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে আমার এজেন্ট বের করে দিয়ে ভোট কারচুপি করা হয়। এবারও তাই হতে পারে। আওয়ামীলীগ প্রার্থীর আচরণে তাই আশঙ্কা করছি। মেয়র প্রার্থী সবাই আচরণ বিধি মেনে চললেও আওয়ামীলীগ প্রার্থী তা মানছেন না।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আপনারা একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নির্বাচনের ব্যবস্থা কর¤œন। কক্সবাজারে দল ও ভিন্ন মতের মানুষের মাঝে যে সৌহার্দ্য রয়েছে তা ধরে রাখতে প্রশাসনকে ভূমিকা রাখতে হবে। তাঁর কর্মীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে তিনিও সেনাবাহিনী মোতায়নের দাবি জানান। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ট করতে ব্যবস্থা নিতে না পারলে আমরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিবো। তখন সরকারের সুনাম বিশ্বের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো জাহেদুর রহমান বলেন, কক্সবাজার পৌরসভায় সুষ্ঠ নির্বাচন না হলে দেশের কোথাও সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।
এদিকে উম্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী (সাধারণ) আক্তার কামাল বলেন, এবারের নির্বাচনে কিছু প্রার্থীদের বল প্রয়োগের চেষ্টা করছে। তাই নির্বাচন যেন সুষ্ট ও শান্তিপূর্ণভাবে হয় সে জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো¯ত্মাক আহম্মদ ও আতিক উল¯œাহ বলেন, সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা একটি অফিস করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আক্তার কামাল ২০টিরও অধিক অফিস করেছেন । এছাড়া কয়েকশত মহিলাকে দৈনিক চার শত টাকা দিয়ে ব্যবহার করছেন ।তাই কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি।
৭নং ওয়ার্ডেও কাউন্সির প্রার্থী আশরাফুল হুদা ছিদ্দিক জামশেদ বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে শুনছি নির্বাচনের শাšিত্ম শৃঙ্খরা নষ্ট করা হবে। ভোটকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে আমার ওয়ার্ডে দুজন খুন হয়েছে। তাদের মাঝে একজন আমার শুভাকাঙ্খি তানবির। অন্যজন ইসমাইল। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আমরা উদ্বিগ্ন। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট প্রদান করবে। যে নির্বাচিত হউক আমরা মেনে নিবো। কিন্তু কোন প্রকার কারচুপি হলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আচরণ বিধি বিষয়ে দু:খ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার কিছু কর্মী ভুল করে দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছে। পরে আমি তা উঠিয়ে নিতে বলেছি।
কাউন্সিলর প্রার্থী (মহিলা সংরক্ষিত ৪নং ওয়ার্ড) নাছিমা আক্তার বকুল বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে বিদেশের অনেক নাগরিক কক্সবাজারে অবস্থান করছে। যদি নির্বাচনে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয় তবে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হবো। তাই নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ট করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিতে হেব।
৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ মোহাম্মদ শহীদুল¯œা বলেন, যেসব প্রার্থী ভোটের দৈন্য দশায় ভূগছেন তারাই অশান্তি হবে বলে অপ-প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা জানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে দিবেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু প্রার্থী ইয়াবার কালো টাকা নিয়ে নির্বাচন করছেন। যদি টাকার ব্যবহার বন্ধ করা না হয় তবে পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।
১১নং ওয়াডের্র প্রার্থী শহিদুল আলম কাজল বলেন, কিছু অযোগ্য ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে ভোটে জিততে চায়। এটি নিয়ন্ত্রন করা গেলে নির্বাচনে কোন প্রভাব পড়বেনা।
একই এলাকার প্রার্থী গোরা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কয়েক প্রার্থী ভোটারদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড নিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া না হলে, আমরা নির্বাচন বয়কট করবো। সভ্যরা ভোট দিলে নির্বাচিত হবো, না দিলে হবো না।
৭ নং ওয়ার্ড প্রার্থী ফোরকান আহম্মদ খোকন বলেন, আমার এলাকায় বর্তমান যে কাউন্সিলর রয়েছেন তিনি জয় পেতে কয়েকশত রোহিঙ্গা ভোটার তালিকাভুক্ত করেছেন। একই সাথে পৌরসভার যেসব ভোটার শহরের বাহিরে রয়েছে তারা যেন ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
৮ নং ওয়ার্ড প্রার্থী রাজ বিহারি বলেন, ২৫ জুলাই ভোট গ্রহণ হলেও এখন থেকে কালো টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে। একই সাথে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ভোটারদের বাঁধা প্রদান হতে পারে বলেও অভিযোগ করে সুষ্ট ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
৬ নং ওয়ার্ড ফাহাদ আলী বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা পাহাড়ি হওয়ায় রাতে সন্ত্রাসীরা চলাফেরা করে। একই সাথে কালো টাকা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের জিম্মি করছে। এ অবস্থায় তিনি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার দাবি জানান।
তাদের বক্তব্যে শেষে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হাবিবুল হাসান বলেন, আপনারা (প্রার্থীরা) যেসব প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেছেন আমরা তা আমলে নিয়ে একটি অবাধ নিরপেক্ষ, সুষ্ট নির্বাচন উপহার দিতে আমরা কাজ করবো। তবে এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সহযোগীতা কাম্য।
এদিকে মত বিনিময় সভায় শুর¤œতেই নির্বাচনের আচরণ বিধি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার ও রির্টানিং কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা একে অন্যের বির¤œদ্ধে কোন কথা না বলে অভিযোগ থাকলে লিখিত জানান। আমিই আইনগত ব্যবস্থা নিবো। নির্বাচনকে সামনে রেখে পর্যটন শহর কক্সবাজারের পরিবেশ শান্ত রাখতে পরিকল্পনা গ্রহন করেছি।
তিনি বলেন, আপনারা প্রতিদিন আচরণ বিধি লঙ্গন করছেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে। ইতিমধ্যে আচরণ বিধি লঙ্গনের অভিযোগে ১৯ জন প্রার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। অনেকে জবাব দিয়েছেন,আবার অনেকে এখনো জবাব দেননি। নিষেধ থাকার পরও আপনারা রঙ্গিন পোস্টার করেছেন। এছাড়া দেয়ালে, খাম্বায়ও পোস্টার লাগিয়েছেন। আচরণ বিধি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মো. মোজাম্মেল হোসেন আরো বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে ১১নং ওয়ার্ডকে ইভিএম ব্যবহারের উপযুক্ত মনে হওয়ায় উক্ত ওয়ার্ডে ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। ইভিএম নিয়ে বিভ্রাšত্ম না হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, রোববার (১৫ জুলাই) থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ওয়ার্ডের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইভিএম’র বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
এদিকে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য দেশের বৃহত্তর স্বার্থের ক্ষতি না করার পরামর্শ দিয়ে পৌর নির্বাচেন অংশগ্রহনকারী প্রার্থীদের উদ্দ্যেশে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শহরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের উপরে বিদেশি মেহমান আছে। যে সমস্ত এনজিও রোহিঙ্গাদের সাথে কাজ করেছে,তারা কিন্তু দেশের উন্নয়নের সাথেও সম্পর্কিত। ওদিকে যাতে বিরুপ প্রভাব না পড়ে সেদিকে সকলের খেয়াল রাখতে হবে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন বিশৃঙ্খলা কিংবা সহিংসতা চাই না। কোন দূর্ঘটনাও চাই না। তাই আপনাদের কর্মী-সমর্থক যেন বিশৃংখলা না করে। যদি করে তবে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনের সময় প্লাটাপ্লাটি অভিযোগ থাকে। তবে সব অভিযোগ সত্য নয়। আচরণবিধি যারা লঙ্ঘন করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ র‌্যাব,বিজিবি সহ নির্বাচনী আচরণ বিধি পর্যবেক্ষন ও সুষ্ঠুভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহনের জন্য ভ্রাম্যমান আদালতের ৬ টিম মাঠে থাকবে। এছাড়া আরো প্রস্তুতি রয়েছে। প্রয়োজন হলে তারাও মাঠে নামবে। তিনি আরো বলেন, প্রার্থীদের প্রতি সমান আচরণ করা হবে। ইভিএম নিয়ে ভোট দানে বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই। আপনাদের সব আশংকার কথা আমি নোট করে নিয়েছি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এমন আশ্বাস দিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, অপরাধী, অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসি যে দলের হোক ছাড় দেয়া হবে না। শংকা হতে পারে সেটা মাথায় রেখেই পুলিশ কাজ করছে। বাইরের কোন সন্ত্রাসী এখানে আশ্রয় পাবে না। সন্দেহজনক বহিরাগতদের আনাগোনা দেখলে পুলিশকে জানাবেন। সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top