২ নং ওয়ার্ড নামেই ভিআইপি এলাকা;প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ সড়কের ‘নরক যন্ত্রণা’ দূরীকরণ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ

10-07-2018-800x420-1.jpg

দিসিএম ডেস্ক।।

বিমানবন্দর লাগোয়া ভিআইপি এলাকা হিসেবে পরিচিত পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড।বিমানবন্দরের প্রধান গেট থেকে পুরো পূর্বদিক ও উত্তর দিক পড়েছে নতুন বাহারছড়ার একাংশ, ৬নম্বার ঘাট, গাড়ির মাঠের একাংশ, মধ্যম নুনিয়াছড়া, ফিশারি ঘাট, উত্তর নুনিয়াছড়া, শিল্প এলাকাও পানির কোয়া এলাকা নিয়ে ২নং ওয়ার্ড গঠিত। তবে এই ভিআইপি এলাকার অবস্থা খুবই নাজুক।বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিরক্তকর। নেই কোনো ড্রেনের ব্যবস্থাও। মাদকের আস্তানা রয়েছেমোড়ে মোড়ে। কিছু দূর পর পরেই দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনায় ভরপুর। গত আট বছরে দৃশ্যমান কোনোউন্নয়ন নেই এই ওয়ার্ডে। দিন দিন বেকায়দায় পড়েছে এলাকাবাসী। তবে আগামী পৌরসভানির্বাচনে এসব সমস্যা সমাধানের আশ^াস দিয়ে ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন ৬ জন কাউন্সিলরপ্রার্থী। আগামী ২৫ জুলাই কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন।
২নং ওয়ার্ড থেকে উন্নয়নের ফুলঝুড়ি নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া প্রার্থীরা হচ্ছেন, জেলা ছাত্রদলেরসাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মনির উদ্দীন (ব্ল্যাকবোর্ড), মো. জসিম উদ্দিন (টেবিল ল্যাম্প), জেলাযুবদল নেতা হোসাইন ইসলাম বাহাদুর (পাঞ্জাবী), বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমান (পানিরবোতল), এম.জাফর আলম হেলালী (উটপাখি) ও আবু তাহের (ডালিম)।
ভোটাররা বলছেন, নির্বাচন সামনে আসলে প্রার্থীরা নানান ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তুকাজের কাজ কিছু হয় না। গত পাঁচ বছর ধরে ২নং ওয়ার্ডের সব সড়কগুলোর বেহাল দশা। দিনযতোই যাচ্ছে ততোই মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। একটু বৃষ্টি হলে বাসা–বাড়িতে হাঁটু পরিমাণ পানিজমে থাকে। রাস্তার সব আবর্জনা ও নোংরা পানি প্রতিটি বাসায় ঢুকে পড়ে। কোথাও ড্রেইনের ব্যবস্থানেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২নং ওয়ার্ড মাদক ব্যবসায় এগিয়েরয়েছে। নুনিয়াছড়ার শিল্প এলাকার মাদকের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। মাদকের গডফাদারওরয়েছে শিল্প এলাকায়। টেকনাফকে যেসব মাদক ব্যবসায়ীরা অনিরাপদ মনে করছে, তারা এখননুনিয়াছড়াকে নিরাপদ আস্তানা হিসাবে নিয়েছেন। নুনিয়াছড়া শিল্প এলাকা এখন ‘দ্বিতীয়টেকনাফ’এ পরিণত হয়েছে।
শিল্প এলাকার বাসিন্দা ও সমাজ সেবক মো. আলম বলেন, এই এলাকায় কোনোভাবে মাদক বিক্রিও সেবনকারীদের আনাগোনা বন্ধ হচ্ছে না। দিন দিন তাদের বিচরণ বাড়ছে। পুলিশ ইতোমধ্যেঅনেকজনকে ইয়াবাসহ আটক করে। তারপরও থেমে নেই অপকর্ম। ওয়ার্ডের বিষয়ে জানতেচাইলে কাউন্সিলর প্রার্থী হোসাইন ইসলাম বাহাদুর (পাঞ্জাবী) বলেন, এলাকায় অতীতের কর্মকা–ের উপর ভিত্তি করে জনগণ কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন। জনগণেই জানেন– ওয়ার্ডের জন্য কেযোগ্য প্রার্থী। কার মাধ্যমে এলাকায় উন্নয়ন হবে। এলাকাবাসীর দাবির মুখে পড়ে আমি প্রার্থী হয়েছি।সুতরাং তারাই নির্বাচন করবে।
কাউন্সিলর প্রার্থী এম.জাফর আলম হেলালী (উটপাখি) বলেন, গত আট বছরে ওয়ার্ডে দৃশ্যমানকোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি। বেড়েছে যোগাযোগ সমস্যা। বিমানবন্দর গেট থেকে নুনিয়াছড়ার শেষসীমানা পর্যন্ত হাজারো গর্ত রয়েছে। কিছু দূর পরপরেই মিনি পুকুরে পরিণত হয়েছে। ওয়ার্ডেরলোকজন রাস্তা নিয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে সর্ব প্রথম রাস্তার উন্নয়ন নিয়েকাজ করে যাবো। তারপর মাদক।
কাউন্সিলর প্রার্থী মনির উদ্দীন (ব্ল্যাকবোর্ড) বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভবনারয়েছে। এলাকার যুব সমাজও আমাকে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায়। নির্বাচিত হওয়ার পরপরেইসড়ক ও মাদক নিয়ে কাজ করবো। তবে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননিকাউন্সিলর প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন (টেবিল ল্যাম্প)। অনেকবার ফোন দেয়ার পরও সংযোগ পাওয়াযায়নি অপর কাউন্সিলর প্রার্থী মিজানুর রহমান (পানির বোতল) ও আবু তাহের (ডালিম) এর।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, কাউন্সিলর প্রার্থী আবু তাহের ও বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমান খুবইকাছের আত্মীয়। দু’জনের বাড়ি সামনা সামনি। বিমানবন্দরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এই দুইপরিবারের মধ্যে ঝামেলা রয়েছে। এতে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিরোধ। তাই কাউন্সিলর প্রার্থীমিজানুর রহমানকে (বর্তমান কাউন্সিলর) নির্বাচনে ঠেকাতে প্রার্থী হয়েছেন আবু তাহের।

সূত্র দৈনিক পূর্বকোণ

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top