চলছে টাকা এবং শপথের সিজন!

unnamed-6.jpg

আমিনুল ইসলাম

অনেককেই দেখা যায়, কোরআন ছুঁয়ে, মাথা ছুঁয়ে, মাজার বা পীরের নামে শপথ করে। আর তা বেশি প্রচলন হয় নির্বাচনে ভোট  কেনা বেচার   জন্য। ইসলামী বিধান মতে, তা শিরক ও সবচেয়ে বড় গুনাহ। হাদিস শরিফে আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করে, সে অবশ্যই কুফরি বা শিরক করল। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১৫৩৫)

শপথ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে করতে হয়। কিন্তু কোরআন স্পর্শ করে যদি কেউ শপথ করে, তাহলে সে শপথও রক্ষা করতে হবে। কেননা কোরআন আল্লাহর কালাম। এটি রাব্বুল আলামিনের কথা। তাই এটিও এক ধরনের কসম। এই ধরনের কসম করলে অবশ্যই তা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে কোরআনের মর্যাদা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই। আল্লাহর নামে কসম করলে যেমন তার মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি, তেমনি কোরআন ছুঁয়ে শপথ করলে এর মর্যাদা কোনোভাবে ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

কোনো ব্যক্তি আল্লাহর নামে করা শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারাস্বরূপ তিনটি কাজের মধ্যে যেকোনো একটি কাজ করতে হবে।

এক. ১০ জন দরিদ্রকে মধ্যম শ্রেণির খাদ্য সকাল-বিকাল দুই বেলা খাওয়াতে হবে।

দুই. ১০ জন দরিদ্রকে ন্যূনতম সতর ঢাকা পরিমাণ পোশাক-পরিচ্ছদ দান করতে হবে।

তিন. ক্রীতদাস থাকলে একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিতে হবে। কেউ যদি এ আর্থিক কাফফারা দিতে সমর্থ্য না হয়, তার জন্য কাফফারা হলো তিনটি রোজা রাখা।

কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করে, যেমন, মা,বাবা, ছেলে বা মাথা ছুঁয়ে, মাজার অথবা পীরের নামে শপথ করে
তাহলে তার কাফফারা হলো কালেমা পড়া, কালেমা ত্বাইয়েবা লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ পাঠ করা। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি শপথ করতে গিয়ে লাত ও উজজার (আরবের মূর্তির) নামে শপথ করে বসে, সে যেন বলে, লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস : ৩৪০৯

কোনো বিষয়ে কসম করার পর যদি তা ব্যতীত অন্য কিছুর মধ্যে কল্যাণ দেখতে পায়, সেই কসমের হুকুম কী?

আল্লাহ তাআলা বান্দাদেরকে নিষেধ করেছেন যাতে ভালো কাজ করার ক্ষেত্রে অথবা খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে অথবা মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যেন তাদের শপথ প্রতিবন্ধক না হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ্‌কে প্রতিবন্ধক বানিয়ো না তোমাদের শপথের দ্বারা তোমাদের ভালো কাজ করার বেলা ও ভয়ভক্তি দেখাতে, ও লোকদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে। আর আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা। [সুরা বাকারাহ}, [আয়াত: ২২৪]।

এটা আল্লাহর রহমত যে তিনি বান্দা শপথ করে তা ভঙ্গ করলে কাফফারার বিধান রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ তোমাদের জন্যে কসম থেকে অব্যহতি লাভের উপায় নির্ধারণ করে দিয়েছেন}। [সূরা আত তাহরীম , আয়াত: ২]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো কিছুর ব্যাপারে কসম করে এবং তা ব্যতীত অন্য কিছুর মধ্যে কল্যাণ দেখতে পায়, তাহলে সে যেন তার কসমের কাফফারা দিয়ে যেটি উত্তম সেটি গ্রহণ করে»। (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top