মাতারবাড়িতে স্থানীয়দের আপত্তিতেও ঠেকানো যাচ্ছে না বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগ

images-8.jpeg

দিসিএম ডেস্ক

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে স্থানীয়দের কঠোর আপত্তিতেও ঠেকানো যাচ্ছে না বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগ। শ্রমিক নিয়োগে মাতারবাড়িতেই গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকিটে। যার ফলে স্থানীয়রা পাহারা বসালেও তা কাজে আসছে না।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় মাতারবাড়ির দিনমুজুররা দিন-দিন অসহায় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তাদের মাঝে বাড়ছে উত্তেজনা ও উদ্বেগ। কোল পাওয়ার কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের শুরুতে শ্রমিক নিয়োগে স্থানীয়দের প্রধান্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ থেকে মাতারবাড়ির আবদুস সত্তার নামের এক ব্যক্তি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজসে নিয়োগ দিচ্ছে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ায় সত্তার সিন্ডিকেটের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় রাজঘাটের শ্রমিক বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন, বহিরাগত শ্রমিক নিয়ে আসছেন আবদুস সত্তার। একজন শ্রমিককে প্রতি ঘন্টায় ১৫০ টাকার চুক্তিতে নিয়োগ দিলেও তাদের বেতন দেওয়া হয় ৮০/৯০ টাকা করে। নিয়োগ দেওয়া বহিরাগত শ্রমিকদের টাকা অর্ধেক অংশ ভাগ করে নেয় এজেন্টও দালালরা। রানা নামের একজন এজেন্টও প্রায় সময় মাতারবাড়িতে আসেন। এদের অপতৎপরতা বন্ধ না হলে কোনভাবেই সরকারের প্রতিশ্রুতি মতে স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আবদুস চত্তারের কারণে স্থানীয় লোক প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। সে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধিকাংশ কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম ছমিউদ্দিন জানিয়েছেন, বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগ হলে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কোন ভাবেই এটি গ্রহনযোগ্য নয়। আমরা এটি মেনে নিতে পারি না। স্থানীয় সাধারণ মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
জেলা পরিষদ সদস্য মাস্টার রুহুল আমিন জানিয়েছেন, যারা বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগের চক্রান্তে লিপ্ত তারা মাতারবাড়ির শ্রত্রু। মাতারবাড়ির শ্রমজীবী মানুষ তাদের কোন দিনও ক্ষমা করবে না। মাতারবাড়িবাসী তাদের চিহ্নিত করে রাখবে। দালাল চক্রটি যেভাবে বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছে এতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠবে। অবিলম্বে তদন্ত করে দালাল চক্র চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। না হয় মাতারবাড়ির মানুষ আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top