রাইফার মৃত্যু: চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

images-7.jpeg

দিসিএম ডেস্ক

চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে সমকালের সাংবাদিকের মেয়ে রাফিদা খান রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাক্স হাসপাতালে সেদিন কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং গাফলতি ছিল।

শুক্রবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদ সম্মেলন করে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সাংবাদিক ইউনিয়ন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনটি সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বিএমএ নেতাদের কাছে হস্তান্তর করে।

প্রতিবেদনে  বলা হয়, ‘শিশু রাইফা যখন তীব্র খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়, তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অনভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতার অভাব দেখা যায়। ওই সময় সংশ্লিষ্ট নার্সদের এ রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো দক্ষতা বা জ্ঞান কোনটাই ছিল না।’  এতে আরও বলা হয়, ‘অভিযুক্ত শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিধান রায় চৌধুরী মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা করে দেখেননি। ডা. দেবাশিষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতার বিপদকালীন সময়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেননি বলে শিশুটির বাবা-মা যে অভিযোগ করেছেন, তদন্তে তার সত্যতা মিলেছে।’

প্রতিবেদনে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াসহ চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। অপর সুপারিশগুলো হলো- ম্যাক্স হাসপাতালের সার্বিক ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অতিদ্রুত সংশোধন করা, ডিপ্লোমা নার্স দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক দ্রুত ও আন্তরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিক নেতারাসংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দিন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, প্রেসক্লাব সভাপতি শুকলাল দাশ, বিএফইউজে যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী ও তদন্ত কমিটির সদস্য সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় আমরা কর্তব্যরত চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলার যে অভিযোগ করেছিলাম— তদন্তে তাদের অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ভুল চিকৎসার বিষয়টি প্রমাণিত হবে বলে আশা করছি।

২৮ জুন বিকালে গলা ব্যথার কারণে রাফিদা খান রাইফাকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ২৯ জুন রাতে রাইফার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে রাইফার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এই ঘটনায় ওই দিন রাতে ম্যাক্স হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্সদের শাস্তি দাবি করেন সাংবাদিক নেতারা। এসময় সাংবাদিক নেতাদের দাবির মুখে পুলিশ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিএমএ নেতাদের চাপের মুখে ওই দিন রাতেই তাদের ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ।

ঘটনার তদন্তে ওই রাতে সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ।

এদিকে সাংবাদিকদের দাবির মুখে এ ঘটনায় আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের কার্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) কাজী জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই কমিটি গত রবিবার ঘটনার তদন্তে চট্টগ্রাম আসেন। এসময় তারা ম্যাক্স হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তদন্ত কমিটি হাসপাতাল পরিচালনায় বেশ কিছু ত্রুটি পেয়েছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত এই কারণ দর্শানোর নোটিশে লাইসেন্স নবায়ন না করাসহ ১১ ধরনের ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top