‘সুইস’ নাইফকে ভোঁতা বানিয়ে কোয়ার্টারে সুইডেন

ramu-3.jpg

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই। কিন্তু ম্যাচে উত্তেজনার পারদ ছড়াতে পারল আর কোথায়! বরং সুইজারল্যান্ড ও সুইডেনের ম্যাচটা গ্রুপ পর্বের কোনো নিয়ম রক্ষার ম্যাচ হলেই বুঝি ভালো হতো! ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচ বলতে যা বোঝায়, সেন্ট পিটার্সবার্গে হলো তা-ই। এমন ঘুমপাড়ানি ম্যাচের মীমাংসা করে দিয়েছেন সুইডিশ স্ট্রাইকার এমিল ফোর্সবার্গ। তাঁর একমাত্র গোলেই শেষ আটে পা রাখল সুইডেন

ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধের ৬৬ মিনিটে। তা-ও আবার অনেকটা প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্ডারের সহায়তায়। ফোর্সবার্গের শট সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজির পায়ে লেগে বলের গতি পরিবর্তন হয়ে জালে। অথচ বলটা আকানজি না ঠেকালে সোজা গোলরক্ষকের কাছেই যেত। সুইস গোলরক্ষক সমার কোমরে হাত দিয়ে যেন বলছেন, ‘বলের এমন গতি পরিবর্তন হলে আমার কী করা।’ এই একটি গোল বাদ দিলে বেশ কয়েকবার ইশ্‌ শব্দ উঠেছে—ম্যাচের উত্তেজনা বলতে এটুকু।

ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সুইজারল্যান্ডের বলের দখল ছিল ৬৬ ভাগ। অর্থাৎ ম্যাচের নাটাই ছিল সুইজারল্যান্ডের হাতে (পড়ুন পায়ে)। কিন্তু কার্যকরী ফুটবল বলতে যা বোঝায়, তা খেলেছে সুইডিশরাই। সুইস উইঙ্গার জাদরান শাকিরি ডান প্রান্ত দিয়ে আড়াআড়ি বল নিয়ে বারবার বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তা চোখে দেখার জন্যই ছিল ভালো। সুইডেনের ডাভল পিভট হোল্ডিং মিডফিল্ডারের একজন তাঁকে বাড়তি নজরে রাখায় শাকিরিকে বারবার এসে থামতে হয়েছে বক্সের সামনে। এরপরে ব্যাক পাস অথবা দূরের পোস্টে ক্রস। কিন্তু তা আর সুইডেন রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিতে পারল কোথায়?

সুইডিশদের প্রতি–আক্রমণের প্রশংসা বরং করা যাক। বল দখলের লড়াইয়ে তারা অনেক পিছিয়ে থাকলেও প্রতি–আক্রমণে গোলের সুযোগ তারাই বেশি তৈরি করেছে। ২৯ মিনিটে মার্কাসের ভলি দুর্দান্ত সেভ না হলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত সুইডেন। তবে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেছেন সুইডেনের মিডফিল্ডার আলবিন একদাল। ৪১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মিকায়েল লাসতিগের ক্রসে গোলমুখ থেকে আনমার্কড থাকা অবস্থায় ভলি নিয়েছিলেন। কিন্তু বার উঁচিয়ে বল বাইরে।

দ্বিতীয়ার্ধে সেই পাপস্খলন মোচন হয়েছে ‘নম্বর টেন’ ফোর্সবার্গের পায়ে। স্কোরবোর্ডে তাঁর নামই থাকবে। কিন্তু ম্যানুয়লের পায়ে না লাগলে গোলটা না হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল ৯০ ভাগ। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে দুর্দান্ত খেলে আসছিলেন ফোর্সবার্গ। কিন্তু নামের পাশে যোগ হচ্ছিল না শুধু গোলটাই। এই পর্যন্ত ১৩ বার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে গেলেও আজ তা হলো। 

আজ তাঁর গোলেই অনেক দিন পরে শেষ আটের চৌকাঠে পা রাখল সুইডেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার পর আর কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি সুইডেন। অবশ্য শেষ ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে তো খেলতেই পারেনি তারা। এবার তো গত এক যুগের সবচেয়ে বড় তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে ছাড়াই এসেছিল। আর সে দলই কিনা প্রত্যাবর্তনেই পৌঁছে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে!

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top