বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ছিটকে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়া

a7817cbeb31431d0448f82e677311a67-5b39096da3df5.jpg

স্পোর্টস ডেস্ক

ছিটকে গেল স্পেনও। শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে রাশিয়া। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় পায় বিশ্বকাপের আয়োজকরা।

নির্ধারিত সময় শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়। ফল নির্ধারণের জন্য স্পেন-রাশিয়ার শেষ ষোলোর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, সেখানেও স্কোরলাইন থাকে একই। ফল নিষ্পত্তির জন্য শেষে ম্যাচ গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। রাশিয়ান গোলরক্ষক ইগোর আকিনফেভের বীরত্বে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দেয় রাশিয়া। আকিনফেভ ঠেকিয়ে দেন স্পেনের দুটো পেনাল্টি শট, বিপরীতে ৪ শটের একটিও ঠেকাতে পারেননি স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ দে গেয়া।

টাইব্রেকারে প্রথম স্পট কিক মিস করেন কোকে। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন আকিনফেভ। এরপর পঞ্চম কিকটিও মিস করেন ইয়াগো আসপাস। এই ফরোয়ার্ডের শট সৌভাগ্যক্রমে রাশিয়ান গোলরক্ষকের পায়ে লেগে যায়। তাই পঞ্চম শট নেওয়ার আর দরকারই পড়েনি রাশিয়ার, ৪-৩ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতে স্বাগতিকরা।

প্রথমার্ধেই হয়েছিল ম্যাচের দুটি গোল। এরপর স্পেন এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেনি রাশিয়ার রক্ষণ দেয়াল ভেঙে। মস্কোর স্পেন-রাশিয়ার শেষ ষোলোর লড়াইয়ের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে তাই ১-১ গোলের সমতায়। ফল নিষ্পত্তির জন্য ম্যাচ গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে।

শুরুতে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। রাশিয়া খেলায় ফিরতে সময় নেয়নি, বিরতিতে যাওয়ার আগেই ফেরে সমতায়। পেনাল্টি গোলে স্কোর ১-১ করে বিশ্বকাপের আয়োজকরা। এগিয়ে গিয়েও তাই লিডটা ধরে রাখতে পারেনি সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

নিজেদের বক্সের ভেতর স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জেরার্দ পিকের হাতে বল লাগলে রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। স্পট কিক থেকে পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল হয়নি রাশিয়ান ফরোয়ার্ড আরতিম জিউবা। ৪১ মিনিটে স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ দে গেয়াকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে রাশিয়াকে সমতায় ফেরান তিনি।

এর আগে সের্হিয়ো রামোসকে ঠেকাতে গিয়ে স্পেনকে গোল ‘উপহার’ দেন রাশিয়ার সার্জেই ইগনাশেভিচ। ১১ মিনিটে রুশদের আত্মঘাতী গোলে শেষ ষোলোর ম্যাচে এগিয়ে যায় স্পেন। ইস্কোর ফ্রি কিক রামোসকে পায়ে নিতে দেননি ইগনাশেভিচ। স্প্যানিশ ডিফেন্ডারকে টেনে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন, কিন্তু বল রুশ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে তাদের জালে জড়ায়। একটি লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন ইগনাশেভিচ। সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হয়ে বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল দিলেন ৩৮ বছর ৩৫২ দিনের এই ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে যাওয়ার বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল স্পেন।  ৫৮ মিনিটেই যেমন ২-১ হতে পারতো স্কোরলাইন। ডিয়েগো কোস্তার ক্রস বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রাশিয়ান ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইসকো, কিন্তু গোলমুখে শট নেওয়ার সুযোগ পাননি রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। রাশিয়ার কড়া ডিফেন্সে আটকা পড়েন এই উইঙ্গার।

স্পেনের ছিটকে যাওয়ার হতাশাস্পেনের ছিটকে যাওয়ার হতাশা

৬০ মিনিটে আবার সুযোগ আসে স্পেনের, কিন্তু হেডটা ঠিকমতো করতে পারেননি দাভিদ সিলভা। নাচোর ক্রস বক্সের ভেতর ফাঁকায় থাকলেও ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

৮৫ মিনিটে আসে দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের সবচেয়ে ভালো সুযোগটি। কিন্তু রাশিয়ান গোলরক্ষক ইগোর আকিনফেভের বীরত্বে হতাশ হতে হয় ‘লা রোহাদের’। বাঁ প্রান্ত থেকে জোর্দি আলবার ক্রস ইয়াগো আসপাস বুক দিয়ে ঠেলে দিয়েছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের হাফভলি ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন রাশিয়ান গোলরক্ষক। তার ফেরানো বলে শট করেছিলন আসপাস, কিন্তু আবারও ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন আকিনফেভ।

স্পেনের সুযোগগুলো ভেস্তে দিয়ে রাশিয়া ঠিকই ম্যাচ নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হওয়ায় রাশিয়া বিশ্বকাপ প্রথমবার দেখে অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ। সেখানেও স্কোরলাইন থাকে একই, শেষে টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে গোলরক্ষকের বীরত্বে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় রাশিয়া, আর টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের দৌড় থেমে গেল শেষ ষোলোতেই।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top