কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের পিটুনি (ভিডিও)

noor_1.jpg

দিসিএম

সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটুনির শিকার হয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা।

শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাসের গ্রন্থাগারের সামনে এই হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন আন্দোলনকারীরা। হামলার সময় সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে দেখাও গেছে।

তবে হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে সরকার সমর্থক সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, আন্দোলনকারীদের ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলে’ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ব্যানারে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে একদল শিক্ষার্থী।

তাদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ‘ঘোষণা’ দিলেও সরকারি প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে আন্দোলনকারী পরিষদের নেতারা পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের জন্য জড়ো হন।

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান ও নূরুল হক নূর সেখানে ছিলেন। ওই সময় তাদের উপর হামলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরের এক পর্যায়ে হাসান আল মামুন ও ফারুক হাসান ওই স্থান থেকে সরে পড়েন। তবে নূরকে মাটিতে ফেলে বেদম পেটানো হয়।

নূরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র।

হাসান আল মামুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১০টা ৪৫ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এ সময় ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের কয়েকশ নেতা-কর্মী আমার, নূর ও ফারুকীর উপর হামলা করে।

“এক পর্যায়ে আমি ও ফারুক সেখান থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছিলাম। নূরকে এত বেশি মারধর করা হয়েছে যে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। নূরের অবস্থা সংকটাপন্ন।”

আন্দোলনকারীদের কেউ গ্রন্থাগারের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে কি না, তা দেখতে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ভেতরে ঢুকলেও তাদের বের করে দেন গ্রন্থাগারের পরিচালক অধ্যাপক জাভেদ আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। হামলা কারীরা ছাত্রলীগের বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।

নূরকে মারার সময় ঠেকাতে গিয়ে অধ্যাপক জাভেদ আহমেদও আঘাত পান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় কিছু বলতে চাননি তিনি।

বেলা ১২টার দিকে আন্দোলনকারীদের আরেক নেতা পরিষদের সূর্যসেন হল শাখার আহ্বায়ক আরশ গ্রন্থাগার থেকে বের হলে তাকেও মারধর করা হয়। মাটিতে ফেলে  উপর্যুপরি লাথি মারা হয় তাকে।

আরশকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সেখানে উপস্থিত না থাকলেও মধ্যম সারির নেতাদের সেখানে দেখা গিয়েছিল।

সেখানে উপইস্থত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সভাপতি মেহেদী হাসান রনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়েছেন। এরপরও শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

“তারা নানা সময়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় ও দেশকে স্থিতিশীল রাখতে যা কিছু করা দরকার ছাত্রলীগ তা-ই করবে।”

দুপুর দেড়টার দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী শাহবাগে গণগ্রন্থাগার বা পাবলিক লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আন্দোলনকারী পাঁচজনকে বের করে নিয়ে আসে।

তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিন নামে একজনসহ দুজনকে মারধর করা হয়।  এসময় গণগ্রন্থাগারের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনেই অবস্থান নিয়ে ছিল।আন্দোলনকারীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের একটি কক্ষে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল মোবাইল টিম গিয়ে গ্রন্থাগারের পেছনের ফটক দিয়ে বের করে গাড়িতে করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

সাড়ে ৩টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে আন্দোলনকারীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এখানে ছাত্রলীগের কেউ ছিল না। যদি কেউ গিয়ে থাকে, তবে তারা ব্যক্তিগতভাবে গেছে, ছাত্রলীগের হয়ে যায়নি।”

আন্দোলনকারীদের দোষারোপ করে জাকির বলেন, “তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও আন্দোলন করছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর এটা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কাজ হচ্ছে। কিন্তু তারা অপেক্ষা না করে আন্দোলনের নামে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে।”

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top