শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরে বিজিপির গুলিতে শিশু আহত, বিজিবির প্রতিবাদ

34815581_2038121826438091_4760730755217227776_n-8.jpg

নিউজ ডেস্ক।।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে গুলি চালিয়েছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি (বর্ডার গার্ড পুলিশ)। এতে শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরে থাকা এক রোহিঙ্গা শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার নাম আনসার উল্লাহ (১২)। তার বাবার নাম জামাল হোসেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক ইমন চৌধুরী বলেন, গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা শিশু আনসার উল্লাহকে উদ্ধার করে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-সংলগ্ন রেড ক্রিসেন্ট ফিল্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুলি লাগে শিশুটির বাঁ ঊরুতে।
আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা (মাঝি) আরিফ উল্লাহ বলেন, শূন্যরেখার আশ্রয়শিবিরের পেছনে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া আছে। বিকেলে কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে খেলার সময় বিজিপি গুলি করে আনসারকে। পরে স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাকে উদ্ধার করে উখিয়া নিয়ে গেছে। এতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা আছে প্রায় চার হাজার।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুরুল হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, কাঁটাতারের বেড়ার কাছে আনসার উল্লাহ জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিল। এ কারণে সম্ভবত গুলি করেছে। গুলি করার কারণ জানতে চেয়ে বিজিপির কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানায়, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে শূন্যরেখার এই আশ্রয়শিবিরে অবস্থান নেয় ১ হাজার ২৩ পরিবারের প্রায় ৯ হাজার রোহিঙ্গা। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীদের গুলি ও হুমকি-ধমকির মুখে অনেকে আশ্রয়শিবির ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। এখন আশ্রয়শিবিরে আছে প্রায় চার হাজার রোহিঙ্গা।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top