গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে যারা

328815_144.jpg

দিসিএম

ফুটবল দলীয় খেলা, দলের সাফল্যই সেখানে শেষ কথা। বিশ্বকাপ জিততে মরিয়া দলগুলো এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে শেষ ষোল নকআউট রাউন্ডের। তবে এই দলীয় সাফল্য-ব্যর্থতার বাইরেও থাকে কিছু ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশ। ব্যক্তিগত সাফল্যের কিছু পদকও রয়েছে বিশ্বকাপে, যা প্রতিটি খেলোয়াড়ের কাছেই কাঙ্ক্ষিত।
তার মধ্যে একটি হচ্ছে গোল্ডেট বুট। পুরো আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার জন্য বরাদ্দ থাকে এই পুরস্কারটি। এবারের আসরের এখন পর্যন্ত প্রতিটি দল তিনটি করে ম্যাচ খেলেছে। এরই মধ্যে জমে উঠেছে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াই। কতটা জমে উঠেছে তা বোঝার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট, গতবার পুরো আসরে ছয়টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন কলম্বিয়ান তরুণ হামেস রদ্রিগেজ। কিন্তু এবার প্রথম তিন ম্যাচেই পাঁচ গোল করে ফেলেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন।

প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে পানামার বিরুদ্ধে হ্যাট্রিক করেছেন। শেষ ম্যাচে অবশ্য বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোল পাননি ইংলিশ স্ট্রাইকার।

তবে তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করেও নির্ভার থাকতে পারছেন না হ্যারি কেন। চার গোল করে তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন বেলজিয়ামের কঙ্গোলিজ বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু, ও পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রোনালদো স্পেনের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছেন। পরের ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে করেছেন এক গোল। আর লুকাকু ১৯৮৬ সালে করা দিয়াগো ম্যারাডোনার পর পর দুই ম্যাচে জোড়া গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। পানাম ও তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছেন চেলসির এই ফরোয়ার্ড। তিনটি করে গোল নিয়ে এই দুজনের পেছনে আছে রাশিয়ার ডেনিশ চেরিশেভ ও স্পেনের ডিয়াগো কস্তা।

কাজেই এবার গোল্ডেন বুটের লড়াই যে বেশ জমজমাট হয়ে উঠছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যে কয়জন  আছেন, তাদের সবার দলই গ্রুপ পর্বে দাপটের সাথে খেলে দ্বিতীয় পর্বে উঠেছে। কাজেই এ লড়াই যে আরো অনেক দূর যাবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

বিশ্বকাপেই এল ক্ল্যাসিকো!
এল ক্ল্যাসিকো। স্প্যানিশ ফুটবল লিগে বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের লড়াইটিকে এল ক্ল্যাসিকো বলা হয়। তবে চলতি বিশ্বকাপেই এল ক্ল্যাসিকো দেখতে পারে ফুটবল বিশ্ব। কিভাবে? না, বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ খেলছে না বিশ্বকাপে। শেষ ষোলোতে নিজ নিজ খেলায় আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল জিতলেই বিশ্বকাপে ল’ক্ল্যাসিকো দেখতে পারবে ফুটবল বিশ্ব।

চলতি বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে থেকে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হয় স্বাগতিক রাশিয়া। আর ‘বি’ গ্রুপ থেকে ৫ পয়েন্ট নিয়ে সেরা স্পেন। ৫ পয়েন্ট ছিলো পর্তুগালেরও। কিন্তু ফেয়ার প্লে’র নিয়মে পড়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হতে হয় পর্তুগালকে। ফলে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে লড়বে ‘বি’ গ্রুপের রানার্স-আপ পর্তুগালের। এ ম্যাচে পর্তুগাল জিতলে টিকিট পাবে কোয়ার্টারফাইনালের।

আবার, চলতি বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হয় ডেনমার্ক। আর ‘ডি’ গ্রুপ থেকে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সেখানে সেরা হয় ক্রোয়েশিয়া। ৪ পয়েন্ট গ্রুপ রানার্স-আপ হয় আর্জেন্টিনা। তাই ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স লড়বে ‘ডি’ গ্রুপের রানার্স-আপ আর্জেন্টিনার। ফরাসিদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতলেই নাম লেখাবে কোয়ার্টারফাইনালে। তখন শেষ আটে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল।

স্প্যানিশ লিগে মেসির বার্সেলোনা ও রোনাল্ডোর রিয়াল মাদ্রিদ এল’ক্ল্যাসিকো খেলে থাকে। তাহলে তো বিশ্বকাপে মেসির ও রোনাল্ডোর দলের দেখা হলে সেটিই তো হবে বিশ্বকাপের এল’ক্ল্যাসিকো। এজন্য শেষ ষোলোতে জিততে হবে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালকে।

আগামীকাল কাজানে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে লড়বে আর্জেন্টিনা। একই দিন সোচিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়  রুগুয়ের বিপক্ষে লড়বে পর্তুগাল। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল নিজ নিজ খেলায় জিতে গেলে, কোয়ার্টার ফাইনালে দু’দলের লড়াই হবে ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় ৮টায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top