‘মেদা কচ্ছপিয়া ট্রি অ্যাডভেঞ্চার’ অন্য রকম এক রোমাঞ্চের ঠিকানা

34135113_1681763915277670_7434963017898393600_n-6.jpg

দিসিএম ডেস্ক।।

নির্জন বনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় মুহুর্তেই চোখের সামনে ধরা দেবে নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী। তবে তাতে দর্শনার্থীদের বিপদের কোন শঙ্কা নেই। বিরক্ত হবে না বন্য প্রাণীরাও। কারণ দর্শনার্থীরা হাটবে বনের সারি সারি গর্জন গাছের সাথে বেঁধে দেওয়া রোপওয়ে বা দড়ির সেতুর ওপর দিয়ে। দড়ির সেতু দিয়ে হাঁটার সময় এক অন্য রকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি হবে দর্শনার্থীদের।
দর্শনার্থীদের জন্য এমন ব্যবস্থার নাম ইকো অ্যাডভেঞ্চার। কক্সবাজারের চকরিয়ার মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানে চালু হয়েছে এই ব্যবস্থা। কেবল কক্সবাজারে নয়, সারা দেশে এই প্রথম কোনো বনে চালু হলো ইকো অ্যাডভেঞ্চার বিনোদন। গত জানুয়ারি মাসে এই ট্রি অ্যাডভেঞ্চার উদ্বোধন করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।
জানা গেছে, প্রকৃতিপ্রেমীদের নীরবে ও নিরাপদে জীববৈচিত্র দেখার সুযোগ করে দিতেই বন বিভাগের এমন উদ্যোগ। ৩৯৬ হেক্টর বনভূমিতে গড়ে ওঠা মেধাকচ্ছপিয়া উদ্যানে এমন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডির নেকম ও ক্রেল প্রকল্পের অর্থায়নে।
উদ্যানে যেতে হলে চকরিয়ার মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় বাস থেকে নামতে হবে। রোপওয়ে’র মাধ্যমে হাটতে জনপ্রতি গুণতে হবে ১০০ টাকা। বনের ভেতরে রাতের থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাবু টাঙিয়ে রাত্রিযাপন করা যাবে সেখানে। এরজন্য গুনতে হবে মাত্র ৪০০ টাকা। সেই সঙ্গে খাওয়ারেরও নানা ব্যবস্থা আছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে সিপিসি সদস্যরা। সবমিলিয়ে রাতের বনকে উপভোগ করার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানে আছে।
ট্রি অ্যাডভেঞ্চারে গাইডের দায়িত্বপালন করেন সিপিসি সদস্যরা। গাইডরা জানান, ইতোমধ্যে ট্রি অ্যাডভেঞ্চার পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। প্রতিদিন কমবেশি পর্যটক উপভোগের জন্য ছুটে আসেন। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ক্রেলের চকরিয়া উপজেলার সমন্বয়কারী আবদুল কাইয়ুম বলেন, পরিবেশবান্ধব ট্যুরিজমের মাধ্যমে ট্রি রোপওয়ে অ্যাডভেঞ্চার, ট্রেইল হাইকিংয়ের মাধ্যমে বন্য প্রাণী ও অন্যান্য জীববৈচিত্র দর্শন, মৎস্যশিকার, ক্যাম্পিং, হেমক-এর মাধ্যমে গাছে ঝুলে থেকে প্রকৃতির কোলে বিশ্রাম নেওয়ার অনন্য সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে মেধাকচ্ছপিয়ায়।
ক্রেলের কক্সবাজার আঞ্চলিক সমন্বয়কারি মো. আলম খান বলেন, এক সময় মেধাকচ্ছপিয়ার আশপাশের লোকজন বন ধ্বংস করতো। বনবিভাগের একার পক্ষে বন পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে উঠে। পরে বন রক্ষার জন্য সিপিসি টীম গঠন করা হয়। ওই সিপিসি সদস্যরাই এখন বন পাহারা দেয়। আর ট্রি অ্যাডভেঞ্চার প্রকল্প থেকে যা আয় হয়, সেগুলো দিয়ে সিপিসি’র সদস্যরা জীবিকা নির্বাহ করে। আর বিনিময়ে বন পাহারা দেয় তারা। এরফলে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top