উখিয়ায় ইয়াবা ডন লাদেন এখনো অধরা

20180606_194220.jpg

আজিজুল হক নাইক্ষ্যংছড়ি:

সরকার পূর্ব ঘোষিত মাদক নির্মূলের অংশ হিসেবে গত ১০ দিন পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথিত বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হন সাবেক টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও তিন বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় পৌর কাউন্সিলর কে কে পাড়ার একরাম।

টেকনাফ থানার ওসি রনজিত গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন, একরামের বিরুদ্ধে কোন ইয়াবা সংশ্লিষ্ঠতার কোন মামলা ছিলনা, একটি মাদকের মামলা ছিল তাও চূড়ান্ত চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে আইন-শৃংখলা বাহিনীর নাকের ডগায় তেমনি একজন কক্সবাজার জেলার উখিয়ার রোহিঙ্গা ইয়াবা ডন খ্যাত মোঃ লাদেন।

ভিক্ষুক থেকে ইয়াবার উছিলায় কোটিপতি বনেছে। ইয়াবা পাচারের মামলা থেকে রক্ষা এবং ইয়াবার “তকমা” লুখাতে লাখ টাকার মিশন নিয়ে পুলিশের নিকট না গেলেও দালাল -ফড়িয়ার দারস্থ হয়েছে। লাদেনের মত তার অন্য রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ও কুতুপালং বাজার কেন্দ্রিক ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই।

ফলে পুরনো রোহিঙ্গা হারুনুর রশিদ লাদেনের নেতৃত্বে বিরামহীন পাচার যজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা চোরাচালানীরা।

ব্যবসার ধরণ পাল্টিয়ে সিন্ডিকেটভুক্তরা একেক সময় একেক রকম অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে লাদেন সিন্ডিকেট। পুরনো রোহিঙ্গা হওয়ায় স্থানীয় ইয়াবা মহাজনদের সাথে গড়ে তুলেছে চোরাই ব্যবসার সিন্ডিকেট। লাদেন সিন্ডিকেট ইয়াবা, সোনা চোরাচালানে, মিয়ানমার পণ্যের দোকান,কুতুপালং বাজারে জেনারেটর,ক্যাম্পে নানা ব্যবসা চালিয়ে গেলেও সরকারের নিয়মনীতি তোয়াক্কা করছেনা।

স্থানীয় পাচারকারী সিন্ডিকেটের সাথে আতাঁত করে এখন ইয়াবা ডিলার হিসেবে দায়ীত্ব পালন করছে লাদেন। তার সাথে একাধিক স্ত্রী ইয়াবা ব্যবসার টাকা আদান- প্রদানে সহযোগিতা করছে। লাদেনের ইয়াবা সিন্ডিকেট কুতুপালং হয়ে ঢাকা,চট্রগ্রাম,কক্সবাজার কেন্দ্রিক ইয়াবা সরবরাহ,বিক্রি,টাকা গ্রহণে রয়েছে সিন্ডিকেটভুক্ত আতœীয়স্বজন।

আড়াঁলে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা,প্রত্যাবাসন বিরোধী রোহিঙ্গাদের অর্থযোগান, মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গী রোহিঙ্গাদের সাথে যোগসুত্রসহ বহুমুখী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে অবাধে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে উখিয়ার কুতুপালং পুরনো ক্যাম্পের আশ্রিত আল ইয়াকিন সদস্য রোহিঙ্গা (ইয়াবা ডিলার) সিন্ডিকেট হিসেবে কুখ্যাতি লাভ করেছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে সরকার বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা লাদেন মিয়ানমারের হলেও এপারে পালিয়ে আসে প্রায় ২ যুগ আগেই। সে গত কয়েক বছর আগেও একজন দরিদ্র রোহিঙ্গা ছিল। মিয়ানমার ও কুতুপালংয়ের স্থানীয় ইয়াবা সিন্ডিকেটের হয়ে মজুরীতে ইয়াবা পাচার, হুন্ডির টাকা বহনের দায়ীত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেকে ইয়াবার বিশাল সাম্রাজ্যে জড়ান লাদেন।

ফলে দিন দিন তার ইয়াবা ব্যবসা ছাড়াও অবৈধ ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে। তার বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ইয়াবা পাচারের মামলা রয়েছে। তার এক সহযোগী রোহিঙ্গা ইয়াবা সহ ঘুমধুম পুলিশের হাতে আটক হয়ে বান্দরবান কারাগারে রয়েছে।

ওই মামলার পলাতক আসামী হারুনুর রশিদ লাদেন,এমনটি জানান ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের ইনচার্জ ওসি ( তদন্ত )ইমন চোধুরী।

লাদেন সে এপারে পালিয়ে এসে রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা হয়েও ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়ে নাকি বাংলাদেশী পরিচয় দিচ্ছে। এক সময়ের ভিক্ষুক রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসায় শুন্য থেকে কোটিপতি বনেছে। ১ম স্ত্রী রোহিঙ্গা ছাড়াও স্থানীয় লম্বাশিয়ার বুইল্যানী নামক এক মহিলাকে বিয়ে করে সেখানে বসতি গড়ে তুলেছে।

মুলত ছৈয়দূর রহমান ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসার সিন্ডিকেট মিয়ানমারে থাকতেই শুরু। আর লাদেন ইয়াবা ডিলার হিসেবে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ায় কুতুপালং বাজারে দুইটি দোকান, সুদি ব্যবসায় লাখ-লাখ টাকা বিনিয়োগ ছাড়াও স্থানীয়দের নামে-বেনামে রয়েছে বহু সম্পদ। যে সম্পদ আতœীয়স্বজনরা দেখভাল করে থাকে।

অপর দিকে ইয়াবা ছৈয়দ,কুজুলী ইউনুসের পাচার করা চোরাই পণ্যে উখিয়ার কুতুপালং বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। মিয়ানমারের কুখ্যাত চোরাচালানী মিয়ানমারের বলী বাজারের কুজুলী ইউনুস কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়ে গড়ে তুলেছে চোরাচালানের নতুন সিন্ডিকেট।

যে সিন্ডিকেটে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের গোরামিয়া মেম্বারের ছেলে কুতুপালং বাজারের দোকানদার ভুলু মিয়া ও আরো কয়েকজন পেশাদার চোরাকারবারি রয়েছে।

এখন রোহিঙ্গা ইয়াবা ডিলার লাদেন ,কুজুলী ইউনুস,ইয়াবা ছৈয়দ সিন্ডিকেট নতুন করে হুন্ডির মাধ্যমে ইয়াবা,চোরাচালান,মানব পাচারের সকল টাকার লেনদেন করে যাচ্ছে।

স্থানীয় ইউপির জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গারা এদেশের আইনকানুন কে তোয়াক্কা করছেনা। নিজেরাই যেমন ইচ্ছে বৈধ-অবৈধ সব ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারী মোহাম্মদ নুর জানান, অবৈধ ব্যবসার কারণে বার- বার রোহিঙ্গার ভার্বমুতি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবী করেন ওই বিকাশ এজেন্টদের আটক করা হলে উখিয়ার সমস্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ প্রতি মাসে কত পরিমাণ ইয়াবা ব্যবসার টাকা লেনদেন হচ্ছে তা বেরিয়ে আসবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা সংকটে ব্যস্ত থাকার কারণে পরে ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করছি। সম্প্রতি ৩৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২দুই রোহিঙ্গাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছি।

এসব অবৈধ কারবারে প্রশাসনের আরো কঠোর নজরদারী দাবী করেছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় সরকারের মাদক বিরোধী অভিযান ভেস্তে যাবে বলে আশংকা রয়ে যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top