টেকনাফের হাবিবুরকে ১২ বছর পর ফিরে পেলেন হারিয়ে যাওয়া স্বামীকে

2292b0b9f25c7acc7fa03bc84089a4c5-5b0f248e4ef29-7.jpg

ওমর ফারুক হিরু :
আজ থেকে ১২ বছর আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন মানষিক ভারসাম্যহীন মোঃ হাবিবুর রহমান (৫৬)। অনেক জায়গায় খোঁজাখুজির পরেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এত বছর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকের মাধ্যমে মোঃ হাবিবুর রহমানের সন্ধান পেয়েছে তার পরিবার। তাকে খোঁজে পায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। এতে খুশিতে আত্মহারা তার স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪৯)। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় আশাবাদি ছিলাম আমার স্বামীকে একদিন ফিরে পাব। তিনি সবার কাছে পাগল হলেও তার কাছে স্বাভাবিক।’
সোমবার দুপুরে চিকিৎসা শেষে মোঃ হাবিবুর রহমানকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় এ কথা বলেন, তার স্ত্রী নাছিমা বেগম। মোঃ হাবিবুর রহমান হলেন, টেকনাফের বাহারছড়া এলাকার জাহাজপুরা দক্ষিণ শিলখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে।
কিভাবে মোঃ হাবিবুর রহমানকে হাঁরিয়েছে এবং পরে খুজে পেয়েছে এ প্রশ্নের উত্তরে নাছিমা আক্তার বলেন, আজ থেকে ৩১ বছর আগে নাছিমা বেগমের সাথে বিয়ে হয় মোঃ হাবিবুর রহমানের। তারা সর্ম্পকে চাচাত ভাই-বোন। তাদের সুন্দর সংসার জীবন কাটছিল। বিয়ের ১২ বছর পর হঠাৎ একদিন তার প্রচন্ড জ¦র হয়। এর পর থেকে দিনে ২-৩ বার করে অজ্ঞান হতে থাকে। আর জ্ঞান আসার পরে অস্বাভাবিক আচরন করত। লোকজনকে মারধর করতে চাইত। একা একা কথা বলত। ঠিকমত খাবার খেতনা। এই প্রবনতা দিন দিন বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করেও কোন সুরাহা হয়নি। ওই অবস্থায় মোঃ হাবিবুর রহমান ঘরের মধ্যে থাকে। মোঃ হাবিবুর রহমান এলাকায় পাগল হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান। হাবিবুর রহমান মানষিক ভারসাম্যহীন হয়ে সবার সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করলেও স্ত্রী নাছিমা বেগমের সাথে স্বাভাবিক ছিল। তার সব দেখাশোনা করতেন স্ত্রী নাছিমা বেগম। এভাবে দীর্ঘ ৭ বছর থাকার পর হঠাৎ একদিন বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান মোঃ হাবিবুর রহমান। অনেক খোঁজাখুজির পরেও তাকে আর খুজে পাওয়া যায়নি। এভাবে একযুগ কেটে গেলেও আর সন্ধান পাওয়া যায়নি মোঃ হাবিবুর রহমানের। স্বামী নিখোঁজ হওয়ায় ৯ মাস আগে আমিন উল্লাহ নামে এক শিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন নাছিমা বেগম। বর্তমানে তার বয়স ১২ বছর ৯ মাস। এই সন্তান নিয়েই মানষিক ভারসাম্যহীন স্বামীর অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন নাছিমা বেগম।
কিভাবে স্বামীর সন্ধান পেয়েছেন এমন প্রশ্নে বলেন, স্থানীয় এক প্রতিবেশির মোবাইলে ফেইসবুকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা স্বামীর ছবি দেখতে পান। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য হুমায়ন কবিরের সহযোগিতায় হাসপাতালে এসে তার স্বামীকে নিয়ে যান। এখন থেকে তার স্বামীকে তার কাছেই রাখবেন। তিনি ধন্যবাদ জানান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কক্সবাজার ব্লাড ডোনার’স সোসাইটিকে। কারণ ওই সংগঠনের সহযোগিতায় তার স্বামীকে ফিরে পেয়েছেন নাছিমা বেগম।
কক্সবাজার ব্লাড ডোনার’স সোসাইটর সহ-সভাপতি আশরাফুল হাসান রিশাদ বলেন, হাসপাতালের নার্স ও দায়িত্বরত পুলিশ মোঃ মানিকের সহযোগিতায় তারা মোঃ হাবিবুর রহমানের সন্ধান পান। তাকে আহত অবস্থায় কারা যেন হাসপাতালে রেখে চলে গেছে। এরপর থেকে শুরু হয় মোঃ হাবিবুর রহমানের সেবা। তার চুল কাটা থেকে শুরু করে খাওয়ানো, পরানো সহ নানা সেবা প্রদান করা হয় কক্সবাজার ব্লাড ডোনার’স সোসাইটির পক্ষ থেকে। পাশাপশি তাকে সুস্থ করতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এর মধ্যে স্বজনদের সন্ধানে ফেইসবুকে তার ছবি দেওয়া হয়। আর ওই ছবি পেয়ে তার স্বজনেরা হাসপাতালে এতে তাকে বাড়ি নিয়ে যান। এই ধরনের কাজ কক্সবাজার ব্লাড ডোনার’স সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ইর্মাজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাঃ নোবেল কুমার বড়–য়া জানান, গত ১০ দিন আগে অজ্ঞাতনামা রোগী হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন মোঃ হাবিবুর রহমান। তার হাতে আঘাত ছিল। তিনি মানষিকভাবে ভারসাম্যহীন। তাকে সুস্থ করতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top