কক্সবাজারে চলছে অভিরাম বনভূমি দখল ও পাহাড় কাটা

base_1528129876-g.jpg

দিসিএম ডেস্ক

কক্সবাজার শহরে ৬১৩ একর পাহাড়ি জমি নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিরোধ সাড়ে ১৪ বছরেও সমাধান হয়নি। এ সুযোগে ওই এলাকায় নির্বিচারে চলছে বনের জমি দখল ও পাহাড় কাটার উৎসব। দুই মন্ত্রণালয়ের টানাপড়েন ও কাগজে-কলমে সংরক্ষিত হিসেবে না থাকায় পাহাড় দখল করে স্থাপনা নির্মাণ সহজ হয়ে গেছে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সেখানে নিত্যনতুন স্থাপনা গড়ে তুলছেন প্রভাবশালীরা। এক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও।

বন নীতিমালা ও বন বিভাগের অনুরোধ উপেক্ষা করে ২০০৪ সালের ১১ জানুয়ারি ৬১৩ দশমিক ৪৩ একর পাহাড়ি ভূমি সংরক্ষিত বনভূমি থেকে অবমুক্ত করে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে ওই পাহাড় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে রাখতে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রথম দফায় বন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। একই বছরের ৩ জুন ওই বনভূমি অবমুক্ত না করার অনুরোধ জানিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসককেও চিঠি দেয় বন বিভাগ। এতেও কোনো ফল না হওয়ায় ২০১১ সালের ৭ জুলাই তত্কালীন ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরাকে চিঠি দিয়ে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তত্কালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। পরিবেশ ও প্রতিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ অবমুক্তি আদেশ বাতিল করারও অনুরোধ জানানো হয়। সম্প্রতি আবারো পাহাড়ি এ জমি ফিরে পেতে উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আলী কবির এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাহাড়টি আবারো সংরক্ষিত বনভূমির অন্তর্ভুক্ত করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু বারবার যোগাযোগ সত্ত্বেও ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া মিলছে না। এ সুযোগে কক্সবাজারে অবাধে পাহাড় কাটা হচ্ছে। সেখানে বসবাসকারী মানুষের কথা কেউ ভাবছে না। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি পরিবেশ ও মানবিক কারণেও ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জমি ফিরে পেতে আবারো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘সব জমির মালিক মূলত ভূমি মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন বিভাগকে দেয়া জমি যখনই প্রয়োজন হবে, ভূমি মন্ত্রণালয় তা ফেরত নিতে পারবে।’

সংরক্ষিত বন দখল করা কঠিন হওয়ায় এ জমি অবমুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের চেয়ারম্যান মো. হাসানের। তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালীদের দখলকৃত জমির বৈধতা দিতেই বন নীতিমালা উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ভূমি মন্ত্রণালয়কে দিয়ে সংরক্ষিত বনভূমি অবমুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকার পুনরায় সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিলেও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে তা আর সম্ভব হচ্ছে না।’

সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্ত করায় ঝিলংজা মৌজায়ই পাহাড় কাটা হচ্ছে উল্লেখ করে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, ‘বন বিভাগের অধীনে ফিরিয়ে এনে এখানে নতুন করে বনায়ন করা প্রয়োজন।’

এদিকে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় বয়ে আনবে। একই সঙ্গে ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে ঝিলংজা মৌজার জমিতে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে আপিল বিভাগও এ আদেশ বহাল রেখে রায় প্রদান করেন। তবে এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা। নির্বিচারে কাটা হচ্ছে বনের গাছ।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, অবৈধ দখলের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার সুযোগ নেই, বিষয়টি দেখছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top