শহরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

New-market20150707170001.jpg

এম. বেদারুল আলম :
আসছে মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদে সবারই চাই নতুন জামা বিশেষ করে পাঞ্জাবি- পায়জামা। শহরের বিপণি বিতানগুলোতে চলছে বিকিকিনির ধুম। রাত অবধি চলছে এ বেচাকেনা। কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলে মজেছে নতুন জামায়। শহরের ফিরোজা শপিং কমপ্লেক্সের বাংলাবাজার বস্ত্র বিতাণের মালিক মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, এ বছর মানুষ রোহিঙ্গাদের জন্য কাপড় বেশি ক্রয় করছেন। বিশেষ করে জাকাতের জন্য শাড়ি কিনছেন অনেকে। ১৪ রমজান থেকে বিকিকিনি একটু বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এ ব্যবসায়ি।
রোহিঙ্গাদের জন্য জাকাতের কাপড় কিনতে আসা রামু তেচ্ছিপুলের শাহ আলম জানান, এ বছর আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য সৌদিয়ায় খুবই কম হয়েছে। কিন্তু জাকাত তো না দিয়ে পারবনা। রোহিঙ্গাদের নিদারুন কষ্টের মধ্যে হয়ত আমার দান তাদের অনেক কাজে আসবে।
শহরের মার্কেটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভীড় দেখা গেছে হকার মাকের্টে। নি¤œমধ্যবিত্তদের বরাবরই প্রথম পছন্দের মার্কেট এটি। এখানে সব ধরনের কাপড়ের দাম ক্রেতাদের আয়ত্বে। ফলে দরিদ্ররা এখানে বেশি ভীড় করছে। পানবাজারের শেষ প্রান্তের হকার মার্কেট, কৃষি অফিসের সামনের হকার মার্কেটে এবং ফায়ার সার্ভিস রোডের হকার মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। পানবাজার সড়কের হকার জাফর আলম জানান, গত কয়েকদিনে শিশুদের কাপড় বেশি বিক্রি হয়েছে। তবে এ বছর গত বছরের চেয়ে বিকিকিনি কম।
শহরের এ সালাম মাকের্টের পিএমখালী বস্ত্র বিতানের মালিক আবদুর রশিদ জানান, গত কয়েকদিনে ক্রেতার সংখ্যা বাড়লেও তা গত বছরের তুলনায় কম। ব্যবসায়ি রশিদের ভাষায় এ বছর সৌদি আরবে প্রবাসিদের আয় কমেছে । অনেকে ব্যবসা বানিজ্য গুটিয়ে দেশে চলে আসার কারনে আর্থিক সংকটের প্রভাব ঈদ বাজারে পড়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এখনো ঈদ বাজার তেমন চাঙ্গা হয়নি। ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে হয়ত বিক্রি আরো বাড়তে পারে।
এদিকে শহরের বার্মিজ মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট, ফিরোজা শপিং কমপ্লেক্স, সালাম মার্কেট, সীকুইন মার্কেট, আপন টাওয়ার , সুপার মার্কেট, ফজল মার্কেট এবং ৩টি হকার মার্কেটে গত কয়েক দিনে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে জানা গেছে। তবে আগামি সপ্তাহে এ বিক্রি আরো বাড়বে বলে ব্যবসায়িদের আশা।
এদিকে শহরের মার্কেটসমুহে ক্রেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাঠে রয়েছে পুলিশের ৬টি মোবাইল টিম। কক্সবাজার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল আজম নিরাপত্তা জোরদার বিষয়ে বলেন- শহরের সবক’টি মার্কেটে পুলিশ মোতায়েম রয়েছে । এছাড়া ৬টি মোবাইল টিম কাজ করছে। আগামি ৩ দিন পর আরো কয়েকটি টিম নামানো হবে। ক্রেতা বিক্রেতারা যাতে কোন ধরনের নিরাপত্তার শংকা বোধ না করেন সেই বিষয়ে সর্তক রয়েছে পুলিশ। এছাড়া যে সব জায়জায় ছিনতাই কিংবা আশংকাজনক হারে ইভটিজিং এর আশংকা আছে সে সব জায়গা চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top