কক্সবাজারের গৌরব বীরোচিত একজন ডাঃ মোঃ মাহবুবুল আলম

29570745_2010218685865403_633258841883505052_n.jpg

অনলাইন ডেস্ক।।

ডাঃ মোঃ মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ১০ম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। অনেকগুলো পরিচয় তাঁর। টানা ছয় বছর ১০০মি. দৌড়, বর্শা নিক্ষেপ, হাই জাম্পে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। ছিলেন ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশানের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিএমএর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ইউনিটের মেডিকেল অফিসার। সব কিছু ছাপিয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় আজ থেকে ৪৮ বছর আগে, ৪র্থ বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন তিনি দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। কক্সবাজারের জন্য গৌরবের বিষয় হল তিনি সমুদ্রের বালিয়াড়ি  কক্সবাজার পৌরসভার বাহরছড়ার সন্তান। তাঁর বীরোচিত দিনগুলোর কথা নিয়ে আজকের ফিচার।

“২৬শে মার্চ, ১৯৭১। প্রথম প্রহর।
চট্রগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ ভিড়লো। শহরের উপর মর্টারের গোলাবর্ষণে রাতের আকাশ রক্তিম হয়ে যায়। খবর পাই, পাক হানাদার বাহিনী বাঙ্গালীদের উপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে সারাদেশে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের মাঝে যে স্বাধীনতার অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত করছিলো তা দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো, প্রতিজ্ঞা করলাম রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত দেশের জন্য লড়ে যাবো।

পুরাতন ফরেনসিক মেডিসিন ডিপার্টমেন্টের নিচে আমরা চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম তৈরী করা হলো এবং পরবর্তীতে আমরা কন্ট্রোল রুমটিকে ছাত্রবাসের সি ব্লকে স্থানান্তর করি। আমরা কয়েকটা গাড়ি এবং অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে,মুক্তিসংগ্রামের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করি।”

“ক্রমেই মানুষজন শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে শুরু করলো। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা যেন মাছের মতই, আর মানুষ হলো পানি। যদি পানিই না থাকে, সেখানে তো মাছ থাকতে পারে না। আমি আর আমার সাথের চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের মুক্তিযোদ্ধারা মিলে রাঙ্গুনিয়া চলে গেলাম। দুই দিন পর চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ,মহসিন কলেজ,সিটি কলেজের সব মুক্তিযোদ্ধারা মিলে হাটহাজারি মাদ্রাসা হোস্টেলে অবস্হান নেই। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্নেল হাট অতিক্রম করে শহরে প্রবেশ করলে,আমরা রামগড় চলে যাই। বীরমুক্তিযোদ্ধা অশোক ঘোষের সাথে সেখানে আমাদের দেখা হয়। অশোক ঘোষ আর আমরা ছাত্ররা মিলে মধুনগর ব্রীজ উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করলাম,যেন পাক বাহিনী যে গতিতে এগুচ্ছে তা বাধাগ্রস্থ হয় এবং মুক্তিযোদ্ধারা প্রস্তুতির সময় পায়।”

“আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করেছিলাম নৌকায়,রাতের অন্ধকারে,রাউজান পৌছেছিলাম ভোরে। আমরা জানতাম দিনের বেলা আক্রমণ করে আমরা হয়তো ফিরে যেতে পারবো না, তাই আমরা সেদিন রাতে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিই। আমরা সেখানকার একজন নেত্রস্থানীয় ব্যক্তির বাড়িতে যাই, তার বাসায় সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকার অনুমতি চাইলাম। আমরা রাতে ব্রিজ আক্রমণ করে চলে যাব। কিন্তু তিনি বললেন যে তিনি আমাদের কোন সাহায্য করতে পারবেন না। কারন পুরো গ্রাম তখন পাকিস্তানিদের দখলে আর তিনি যদি আমাদের আশ্রয় দেন তাহলে পাকিস্তানিরা তার পরিবারকে মেরে ফেলবে। আমরা চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমরা জানতাম যে আমরা সবার সাহায্য ছাড়া ব্রিজ আক্রমণ করতে পারবো না। আমাদের পিছু হটতে হল,কিন্তু নৌকায় ফেরার আগে আমরা একজন রাজাকারের বাড়িতে আক্রমণ করি ও পুরো এলাকার সব পাকিস্তানি পতাকা ভেংগে, পুড়িয়ে ফেলি।”

“রামগড় ছিল আমাদের শেষ শক্ত ঘাঁটি। ১মে, রামগড়ে হানাদার বাহিনীর থার্ড কমান্ডো ব্যাটালিয়ন এবং ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্ট আক্রমণ করে। এরা ছিল পাক সেনাবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী পদাতিক দল। তিন দিক থেকে তারা আক্রমণ করে আর একদিক ছিলে ফেনী নদী, নদীর ওপারে ভারত। ফেনী নদীর ধারে আমরা ছাত্ররা ট্রেঞ্চে অবস্থান নিলাম। আমাদের কাছে ছিল এসএলআর(সেলফ লোডিং রাইফেল)। আমরা চারজন একটা ট্রেঞ্চে অবস্থান নিই, আমাদের সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেশিনগানার ছিলেন, তার কাছে ছিল একটি এলএমজি (লাইট মেশিন গান)। দুপুর নাগাদ প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু। ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে, বারংবার পড়ছে ট্রেঞ্চ মর্টারের গোলা। আমরা ছিলাম সংখ্যায় কম, আমাদের অস্ত্র ছিল অপ্রতুল। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাছে বুলেট ছিল আমরা গুলি চালিয়ে গিয়েছি, শেষমেষ নির্দেশ এল ‘রিট্রিট, রিট্রিট’। আমরা নদী পার হয়ে ওপাড়ে গেলাম,ভারতে। ভারতের মাটিতে পা দিয়েই আমার প্রথম অনুভূতি হয়, এ মাটি আমার না। ফিরে যেতে হবেই আমাকে। স্বাধীন করতেই হবে দেশকে।”

“রামগড়ের পতনের পর,আমরা হরিণা ক্যাম্পে গেলাম,সীমান্ত থেকে ২ কিমি দূরে। তখন আমরা ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। আমি সেই প্রথম ৩০০ বাঙালির ১ জন ছিলাম যে কিনা গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। শিলিগুড়ি, হরিয়ানা,ডেরাডাং জঙ্গলের ক্যাম্পে আমার প্রশিক্ষণ হয়। তারা আমাদেরকে মাইন পাততে,বোমা বানাতে,গুলি চালাতে শিখিয়েছিল। তারপর আমাকে কর্ণফুলী কন্টিঞ্জেন্সি গ্রুপ ১, (KC-1)গেরিলা ইউনিট এর কমান্ডার বানানো হয়। আগস্ট মাসে আমরা আবার চট্টগ্রাম ফিরে আসতে সক্ষম হই।”

“চট্টগ্রামে পুণরায় প্রবেশের পর আমি একদিন একটা চিঠি পাই যেটাতে আমাকে বলা হয় আমাদের প্রধাণ ছাত্রাবাস খালি করতে হবে। কারণ পাকিস্তানিরা বর্হিবিশ্বের কাছে উপস্থাপন করছিলো দেশে আসলে কিছুই হচ্ছে না, কলেজ গুলোতে ঠিকমতো ক্লাস চলছে। ছাত্রাবাস খালি করলে তারা আর তা করতে পারবে না। আমি চিঠিটি পড়ে সিদ্ধান্ত নিই মেডিকেলে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটাব। এর ফলে সব ছাত্রছাত্রী ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাবে এবং বাঙালী ছাত্ররা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাবে এবং পুণরায় প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে আসবে আর পাকিস্তানী ছাত্ররা হোস্টেল ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। আমার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল লোয়ার লেকচার গ্যালারির ছাদে বোমা ফাটানো কিন্তু তাতে ছাত্ররা হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকার কারণে আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি। গেরিলা যুদ্ধের প্রথম কৌশল ছিল “আঘাত কর এবং পালাও ” আর আমাদের প্রশিক্ষণে শিখানো হয়েছিল কিভাবে সর্বনিন্ম ঝুকি নিয়ে আক্রমণ করে পালাতে হয়। সেসময় হোস্টেলের চারতলা নবনির্মিত ছিল এবং কাউকে সেখানে রুম দেয়া হয়নি। আমি বি ব্লকের একটি রুম উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করি। আমি রুমের দুই দেয়ালে দুটি মারাত্নক বিস্ফোরক “জি সি স্লেব ” বেধে তার সংযুক্ত করি এবং ডিটেনেটর স্থাপন করে ফিউজটি জ্বালিয়ে দিই। সাথে সাথে আমি দোতালায় চলে আসি এবং বিস্ফোরণের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। অপেক্ষা করি, অপেক্ষা করি। বিস্ফোরণ হয় না। ভাবি, পরিকল্পনা বানচাল হয়ে গেল না তো? সিঁড়ির নিচে ছিল রাজাকার ক্যাম্পঃ তাদের হাতে ধরা পড়ে যাবো না তো?

বুম!!! মিনিটখানেক পর একটা জোড়ালো শব্দ হল এবং পার্শ্ববর্তী দুই রুম সহ মোট তিনটি রুম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল। আল্লাহর অশেষ রহমত। হোস্টেলের সকলে আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিল। ঐ সময় আমি রাজাকারদের ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাই। পরেরদিন জানতে পারলাম যে বিস্ফোরণের পর পাকবাহিনী হোস্টেলে এসেছিল এবং তারপর সবাই হোস্টেল ছেড়ে চলে যায়। এটা ছিল আমার ঐ সময়ের অন্যতম একটি সেরা অপারেশন।”

“পরবর্তীকালে শীঘ্রই KC-1 KC-2 মনসুরাবাদের রাজাকার মোহাম্মদ আলীর বাড়ি আক্রমন করেছিল। আমরা তার বাড়ি ও পেট্রোল পাম্প আক্রমন করেছিলাম দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম এই তিনটি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দক্ষিণ দেয়াল ধ্বংস ও তার বাড়ি আক্রমন ও দখলের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু যেহেতু আমাদের গ্রেনেড যথেষ্ট পরিমানে ছিলনা,আমরা আমাদের যুদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে তার পেট্রোল পাম্পে গোলাগুলি শুরু করে দিলাম। যে সকল রাজাকাররা আশ্রয় নিয়েছিল তারা পলায়ন করতে শুরু করল এবং আমরা তখন দেখলাম কিছু পাক বাহিনীর ট্রাক অগ্রসর হচ্ছে। আমরা তাদের উপর গুলি চালাতে লাগলাম ও গোলাগুলির কিছু সময় পর তারাও পিছনে হটে যেতে লাগল। আমরা ছিলাম বিজয়ী।”

“আমি অবশ্যই এটা বলব যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল চট্টগ্রামে। আজকালের ছেলেমেয়েরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন। আমি বলব চেতনা হবে সততা আর দেশপ্রেমের। দেশপ্রেম ছাড়া সততা আসবে না।আবার সততা ছাড়া দেশপ্রেম হয় না। আমি আজ সত্তরোর্ধ, যেকোন দিন ডাক আসবে চলে যাবো, তোমাদের কাছে আমার একটাই চাওয়া যে দেশটার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি-রক্ত দিয়েছি-সম্ভ্রম দিয়েছি-জীবন দিয়েছি তাকে রক্ষা করো, তাকে ভালোবেসো।”

“Underneath the old Forensic Medicine Department, we created a control room, for the students of Chittagong Medical College. That’s where I first enlisted my name as a Freedom Fighter in our Liberation War.”

“Later on, we moved the control room to the C – Block of the Boys’ Hostel. We collected some arms, guns and pick-ups and made the primary preparations to defend our country. It was Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman’s speech in the Race Course Field that ignited the flame in our hearts to fight for our beloved country’s freedom till our last breath.”

“On the night of the 26th of March, I remember the first attack by the Pakistanis. They stationed a warship at the port, and the night sky of the city turned red, as the mortars they fired rained down from above upon the city. The very next day, the whole city had been abandoned and everyone had left. The people are the water, and we, the freedom fighters are the fish. If there was no water, then what would we do staying here?”

“All the students of Chittagong Medical College who were with us in the war moved to Rangunia, and after 2 days, we set up our post in the Hathazari Madrasa Hostel, along with students of Chittagong College, Mohsin College, City College and other freedom fighters. When the Pak Army crossed Colonel Hat and entered into the city, we moved to Ramgar. At Ramgar, we met the brave-hearted Ashok Ghosh, and along with him and 3 other students, we plotted to demolish the Modhunagat Bridges in Raujan, in order to halt the progress of the Pak Army, and protect Ramgar, our last stronghold against our enemies.”
“We began our journey in the dead of night, by boat, and reached Raujan around 3 a.m. There, we saw a small market by the riverside, and all of the shops had a Pakistani Flag. We needed to stay here for the next day, so we could make our attack the following night, and so we went to the house of one of the village leaders. We knocked on his door for several minutes, and when he finally opened, we asked him to let us stay there till the next evening. We would make our attack on the bridge and leave the following night. But, he told us that he could not help us at all. He said that the whole village was under control of the Pakistanis and he was fearful that if he gave us shelter, they would kill his family. We were deflated. We knew we could not attack the bridge without the help of the people. We had to head back, but before doing so, we attacked the house of a Pakistani Chairman and then broke all the Pakistani flags as we got back on our boat.”
“On the 1st of May, we could hear gunfire, all around Ramgar. The Pakistanis has arrived. We knew we had to fight. On the banks of the River Feni, we, the students, dug a trench and took our positions with the Army. On the 2nd of May, the fierce fighting ensued, as bullets flew over and around us, and mortars littered the sky. We had semi-automatic SLRs, and even after the Army had retreated, we kept on firing till our last bullet was worn out. Then, we crossed the River onto the opposite bank, in India. I remember stepping on the Indian soil beneath my feet and feeling like I don’t belong here. I felt a desperate urge to go back to my country.”
“After Ramgar fell, we went to Horina Camp, for the Bangladeshis, 2km from the border. During our time in India, we were trained in Guerilla warfare in various camps around India. Our Army had a shortage of soldiers and they requested us to join us. I was among the first 300 Bangladeshis to be selected for guerrilla training, and went to camps in Shiliguri, Hariyana, and even in the Deradung jungle. They taught us how to set booby-traps, make bombs, fire guns and load ammo. There, I was made the Commander of the Karnaphuli Contingent (KC-1) Commando unit, and in August, we finally were able to infiltrate back in Chittagong.”

“After re-entering Chittagong,one day, I received a letter that said that we should evacuate the medical college hostel. I read the letter, and decided that I would explode a bomb in the hostel. In doing so, all the students would evacuate the hostel; the Bangalis could cross the border to India and come back with training, while the Pro-Pakistanis would flee the scene. The first rule of guerrilla warfare is “Hit and Run”, and our training taught us to attack fast, and escape, but to take minimal risks. My initial plan was to detonate the bomb on the roof of the lecture gallery, but I opted against it due to the high risks involved. At that time, the 4th floor of the Boys’ Hostel was new and no one had been given allotment there. I selected one of the rooms of the B-Block as a suitable target. I tied up two highly explosive GC Slabs to two walls of the room, connected the wiring, set up the detonator, and with everything in place, I ignited the fuse. I immediately went down to the second floor and awaited for the blast.”

“BOOM! After a minute, there was an enormous explosion that demolished three adjacent rooms. Everyone in the hostel started running around in fear. In the confusion and chaos, I made my escape to the hospital. The next day, I learned that the Pak Army had come to the hostel after the explosion and interrogated the students, after which almost everyone had left. This was one of my successful operations of that time.”
“We ran a small hotel for the freedom fighters, where they took their meals and came to congregate. It was one of our bases. One day, I saw some Pakistani Army jeeps pull up to the hotel as we sat there. I immediately yelled “Run!” and sprinted towards the fields from the back of the hotel. There, I trudged through knee-high mud and managed to escape the chasing Pakistanis. However, they managed to catch Dr. Zafarullah, Dost Mohammed, who ran the hotel and Abu Sayeed Sardar, who was a base-worker in charge of arms. Luckily, they all were released after being taken to jail, and were unharmed.”

“Soon afterwards, KC-1 and KC-2 attacked the house of the Rajakar Mohommad Ali, of Monsurabad. We attacked his house and petrol pump from three directions; south, east and west. We planned to destroy the south wall and invade his premises, but when our grenades weren’t enough, we fired at his petrol pump with our ammunition. The rajakars he was sheltering started running out, and then we saw some Pak Army trucks advancing. We opened fire at them and after a few minutes of cross-fire, they retreated too. We were victorious.”

“I recall the war in 1971, and I must say that Chittagong Medical College played a vital part in the Liberation War in Chittagong. Spirit of liberation war consisted of two key elements – honesty and patriotism. There can’t be patriotism without honesty. I’m now over 70 years old, I’m now counting days on this earth. My only request to the future generations is that, protect the country we fought for-bled for-died for.Love this country.”

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top