১৫ মাসে কক্সবাজার সদরের চার ইউএনও বদলি

234307Cox-bazar_KalerKantho.jpg

দিসিএম ডেস্ক

কক্সবাজার সদর উপজেলায় গত ১৫ মাসেই ৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলি হয়েছেন।

সর্বশেষ বর্তমান ইউএনও নোমান হোসেন প্রিন্স কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে বান্দরবান জেলায় বদলির নির্দ্দেশ পেয়েছেন।

একজন ইউএনও গড়ে মাত্র ৪ মাসেরও কম সময় অবস্থান করেছেন একই স্থানে। স্থানীয় এমপি’র সাথে বৈরিতার কারনেই ঘন ঘন ইউএনও’র অন্যত্র বদলির প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার সদরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার ইউএনওকে ঘন ঘন বদলি করার কারনে এখানকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। একের পর এক এক ইউএনও বদলি হওয়ার কারনে নতুন করে দায়িত্ব নিয়ে একজন ইউএনওকে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। কখন যে তারও বদলি আদেশ আসে এরকম অজানা আতঙ্ক কাজ করে থাকে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি এবং খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন জানান, ঘন ঘন ইউএনও বদলি হবার কারনে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভেস্তে যাচ্ছে। একজন ইউএনওর কয়েক মাস সময় লাগে ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট চিনতে। সেখানে কয়েক মাসের মাথায় ইউএনও’র বদলি এখন আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরোয়ার কাবেরী জানান, আমরা যদ্দুর জানি স্থানীয় এমপি সাইমুম সরোয়ার কমলের সাথে গরমিলের কারনেই কোনো ইউএনও এখানে টিকে থাকতে পারছেন না।

বিশেষ করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে ইউএনও’দের সাথে এমপি’র গরমিল লেগেই থাকে।

তিনি বলেন, এলাকার কোনো কাজ নিয়ে জনপ্রতিনিধির সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিরোধ হতেই পারে। তবে সেই মতবিরোধ নিয়ে একের পর এক কর্মকর্তাকে বদলি করে দিলেই এলাকার স্বার্থ সংরক্ষিত হয় না।

এমন বিষয় নিয়ে স্থানীয় এমপি সাইমুম সরোয়ার কমলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।

এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারী আবু বকর এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলির বিষয়টি সবাইকে জানান দেওয়া প্রয়োজন। তিনি এমপি সাহেবকে সহজেই যে কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে চান না। এ বিষয়টি ছাড়াও ইউএনও’র আরো অনেক দোষত্রুটি রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, আমি বদলির আদেশ পেয়েছি। আমাকে বান্দরবানে বদলি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এমপি মহোদয়ের সাথে আমার কোনো গরমিলের ঘটনা নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার সরকারি কলেজের একটি সড়কসহ আরো কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একটুখানি কথাকাটাকাটি হয়েছিল।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top