বন্দুকযুদ্ধে নিহত একরামকে নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা রাশেদুল ইসলামের স্ট্যাটাস

Presentation1-40.jpg

রাশেদুল ইসলামের ফেসবুক আইডি থেকে

মা ও মেয়েকে নিয়ে বেশ কয়েকদিন দেশের বাহিরে অবস্থান করছিলাম। মোবাইল বিড়ম্বনায় বলতে গেলে সবার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলাম একপ্রকার। দেশে ফিরে শুনলাম একরাম ভাই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন। তকমা লেগেছে ইয়াবা গড়ফাদার হিসেবে। শুনে বিস্মিত হলাম। কারণ- রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে অনেকদিন থেকেই তাকে খুব কাছ থেকে চিনি- স্বজ্জন, বন্ধু বৎসল। দীর্ঘ দু’যুগের কাছাকাছি মেশার সুযোগে বুঝেছি বুনিয়াদি ঘরে জন্ম হলেও ব্যক্তি জীবনে বেশি স্বচ্চল ছিল বলে মনে হয়নি কখনও। তিন- তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন, একযুগ উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বপালন করার পাশাপাশি জড়িত ছিলেন নানা সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সাথে। আমরণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি।

টেকনাফ শহরের প্রাণ কেন্দ্রে বাড়ি ও পূর্বপুরুষ থেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার হলেও ‘ইয়াবা গড়ফাদার’ হিসেবে যা বুঝাই তা একরাম ভাই কখনো ছিলেন না এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। কিন্তু এমন একজন মানুষ মিথ্যা অভিযোগে প্রাণ হারালো এটা মেনে নেয়া যায় না। মনে কষ্ট নিয়ে বলি, যেখানে আছনে ভাল থাকেন একরাম ভাই। আপনার পরিবারের জন্য সমবেদনা জানাই। সংশ্লিষ্ট মহলকে বলি এ ব্যাপারে আরো সচেতন হউন।

তবে, দু:খজনক হলেও সত্যি-ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখন অধিকাংশই সরকারি দলের ছত্রছায়ায়। অনেকে আবার নেতা-কেতাও! কালো টাকায় ক্রয় করে নিয়েছেন বড় বড় পোস্ট-পদবীও। বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও যে এ ব্যবসায় বেশি পিছিয়ে তা নয়। নীরবে, নিভৃতে তারা ভালই চালাচ্ছে এ ব্যবসা। বরং তাদের পার্টনার সরকারি দলের কিছু নেতা! সহযোগিতাকারি নেতারা চিহ্নিত বলেই সরকারি দলের প্রচারটা বেশি। অনেক ক্ষেত্রে কিছু ইয়াবা সম্রাটের কাগজে কলমে পার্টনারও সরকারি দলের এসব নেতারা। গলায় গলায় ভাব নিয়ে তাদের সাথে উঠা-বসাও দৃশ্যমান সবসময় । তাই ভয়ে অনেকে এসব ইয়াবা সম্রাটদের বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। কে নেই এ ব্যবসায়? সাংবাদিক-পুলিশ-ডিবি-মৌলভীসহ টাকার নেশায় সবাই মত্ত । কিছু সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতাও এদের বাইরে নয়। কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের টাকায় নির্বাচন করারও স্বপ্ন দেখেন!

এরপরও সাধারণ মানুষ খুশি-সরকারের মাদকবিরোধী এ অভিযানে। তবে চুনুপুটির পতনের খবর শুনতে চান না জনগণ। পারলে তালিকার উপর থেকে নিচে দিকে আসুন। তবেই বাহবা পাবে মাদকবিরোধী এ অভিযান..

আবার কক্সবাজার শহরে যারা মাদকের রমরমা ব্যবসা করছে তাদের নাম খুব একটা দেখি না। অভিযান ও নেই। যারা হোটেল-মোটেল জোন থেকে শহরের অলিগলিতে মাদকের বিস্তার কেবল বাড়াচ্ছে তারা সবাই বহাল তবিয়তে। প্রশ্ন জাগে, তারা কি এতই প্রভাবশালী? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকা তৈরীতেও কি তাদের হাত আছে ? নাকি কক্সবাজার শহরে বলার মতো কোন মাদক ব্যবসায়ী নেই বা এখানে কোন মাদক পাওয়া যায় না..???

 

 রাশেদুল ইসলাম ,

সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ
কক্সবাজার জেলা

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top