যারা বুকে কোরআন সংরক্ষন করছেন, তাদের যেন আমাদের বুকে জড়িয়ে রাখি

1452433964.jpg

আমিনুল ইসলাম ।।

আমি যে মসজিদের রমজানের তারাবির নামাজ আদয় করি, সেখানে জেলার গুরুত্বপূর্ন এবং অনেক দূর থেকে  মুসল্লিরা  তারাবি আদায় করতে আসেন । মাশাআল্লাহ দেখতে অনেক ভাল লাগে। তেলাওয়াতের সুরেলা  কন্ঠ, নামাজের ধারাবাহিকতার ধীর গতি, পরিবেষ মুসল্লিদের আকৃষ্টের মূল কারণ। তারাবি শেষে হাফেজদের সাথে একটু হাত মিলানো একটু দোয়া নেয়ার জন্য মুসল্লিদের কত  নমনীয়তা, কত অন্তরিকতা । এটা শুধু  এই মসজিদের চিত্র নয়, এটা বাংলাদেশের প্রায় সব মসজিদেরই চিত্র।

হাফেজদের প্রতি এক মাসের এত ভালবাসা  দেখে আবেগ প্রবন হই তখন, যখন চিন্তা করি  রমজান ছাড়া বাকি ১১ মাসে হাফেজদের উপর কতইনা অবহেলার  আচরন আমরা করি । আমরা কি পারিনা ১২টি মাস তাদের ভালবাসতে । যুগ যুগ ধরে যারা বুকে কোরআন সংরক্ষন করছেন তাদের আমাদের বুকে জড়িয়ে রাখতে।

আমরা মাহে রমজানে টিভিতে হাফেজদের কোরআন তেলাওয়াত শুনে, সমাজে হাফেজদের এত অবহেলার পরও , আল্লাহর কাজে তাদের মর্যাদা, তাদের পিতা মাতার মর্যাদার লোভে আমাদের প্রথম সন্তানকে কোরানে হাফেজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

এখন আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, আল্লাহ যেন আমাকে আমার ছেলের পিছনে তারাবি অদায় না করিয়ে মৃত্যু না দেয়।

হাফেজে কোরআনদের মর্যাদা আল্লাহর কাজে কত লোভেনিয় তা চিন্তা করলে শুকরিয়াতে মাথা নত হয় বার বার। হাফেজে কুরআনগণের মর্যাদার সাথে  তাঁদের পিতা-মাতাকেও কিয়ামতের ময়দানে নূরের তাজ পরিধান করানো হবে বলে হাদীস শরীফে এসেছে।

কোরআনে হাফেজরা আল্লাহ্পাকের বিশেষ রহমতপ্রাপ্ত এবং আল্লাহ্ প্রদত্ত বিরল প্রতিভার অধিকারী। তাইতো তাঁরা আল্লাহ্পাকের ৩০ পারা কুরআনের আমানত বক্ষে ধারণ করার তাওফিক লাভ করেছেন। তাঁদের অন্তর কুরআনের আলোয় আলোকিত আর চেহারা ঈমানের জ্যোতিতে দীপ্তিমান। তাই হাফেজে কুরআনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সকলেরই উচিত।

যাদের শ্রেষ্ঠ মর্যাদার ঘোষণা স্বয়ং রাসূল (সাঃ) দিয়েছেন, যাদেরকে কিয়ামতের ময়দানে খোদ মহান আল্লাহ্ তা’আলা সম্মাননায় ভূষিত করবেন, সেই হাফেজে কুরআনগণের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান প্রদর্শন করা কুরআনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শামিল। আর  সেটি কেন আমরা একটি মাসে সিমাবদ্ধ রাখব।

কুরআনের ভাষায়, রাসূল (সাঃ) এর দৃষ্টিতে যারা শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় অভিসিক্ত সেই হাফেজে কুরআনগণ সমাজে আজ অবহেলার শিকার।

অতচ বিশ্বের অনেক মুসলিম রাষ্ট্রে হাফেজদের অখেরাতের মর্যাদা আগেই তাদের দেশে বিশাল সম্মাননায় ভূষিত করেন।

তুরষ্কের এরদুয়ান সরকার সে দেশের ছেলে মেয়েদের যদি কেউ কোরআনের অর্থসহ হাফেজ বা হাফেজা হয়, তাহলে তাদেরকে দুনিয়াতেও সোনার মুকুটের তাজ উপহার  আর হজ্ব করানোর ব্যবস্থা ঘোষনা করেন।

বিশ্বে বৃহত্তম এই মুসলিম দেশে  জাগতিক কৃতিত্ব অর্জনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ট ঘোষণা দিয়ে সরকারী-বেসরকারী ভাবে পুরস্কার সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। অপরদিকে আল্লাহ কালাম ৩০ পারা কুরআনের হিফ্জ প্রতিযোগিতায় শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়; আর্ন্তজাতিক ভাবে ১ম, ২য় হওয়ার মতো গৌরব অর্জন করে আমাদের দেশের অনেক কিশোর হাফেজে কুরআন স্বদেশের ভাব-মর্যাদাকে বিশ্ব সভায় সমুন্নত করেছেন। কিন্তু তাদেরকে সরকারীভাবে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেয়ার উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ তেমন পরিলক্ষিত হয় না।

এর কিছু দায় কোরআনে হাফেজদেরও  নিতে হবে।তারা শুধু ৩০ পারা কুরআনের হিফ্জ করেন,  এই কোরআনকে  তারা বুঝার এবং মানুষদের বুঝানোর চেষ্টা করেন না।মূর্খ মানুষ গুলির সাথে অনেক হাফেজরাও মনে করেন, কুরআন খতম মৃত ব্যক্তির জন্য ,ব্যবসা বাণিজ্যে উন্নতি, বিদেশ যাত্রায় সাফল্য, চাকুরি লাভ, পরীক্ষায় পাস, মামলা-মকদ্দমায় খালাস, দোকান, বাড়িঘর, লঞ্চ-জাহাজ,
বাস-ট্রাকের উদ্বোধন-ইত্যাদি জন্য।

এ দেশের মুসলমানরা কোরআন না বোঝার কারণে যেমনিভাবে হেদায়াত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তেমনি ইসলামী মূল্যবোধ তাদের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূরা ফুরকানের ৩০ নং আয়াতে এসেছে, আর রাসূল বলবে- হে আমার রব! আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা এ কোরআনকে হাসি-ঠাট্টার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। যদিও এ আয়াতটি মোনাফেকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে তবুও বলতে হয়, বর্তমান সময় এ আয়াতটি যেন আজকের নামধারী মুসলমানের উপযোগী।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top