ঢাকায় ইয়াবা পাঠাতে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছেন ব্যবসায়ীরা

images-15.jpg

দিসিএম,

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবার চালান ঢাকায় পাঠাতে মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে কক্সবাজারের মাদক ব্যবসায়ীরা।
স্কচটেপ দিয়ে ইয়াবা পেঁচিয়ে ক্যাপসুল বানিয়ে তা পানি দিয়ে খাওয়ানো হয় তাদের। এরপর তারা পাকস্থলীতে ওই ইয়াবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করে।
রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালানোর সময় রোববার এমনই এক চক্রের ছয়জনকে ইয়াবাসহ আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ।
ওই ছয়জনের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা, যারা পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে।
আটককৃতরা হলেন- রোহিঙ্গা মো. সেলিম মোল্লা, রোহিঙ্গা মো. আফছার ওরফে বাবুল, মো. মামুন শেখ, মো. শরিফুল, মো. ফাহিম সরকার ও মো. রাজিব হোসেন।
দক্ষিণখানের পূর্ব গাওয়াইর এলাকা থেকে ৩ হাজার ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়।
সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) দেবদাস ভট্টাচার্য এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আটককৃত মামুন এবং তার সহযোগী রেজোয়ান দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। রেজোয়ান কক্সবাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ করে তা ঢাকায় পাঠায় এবং মামুন শেখ ঢাকায় ওই ইয়াবার চালান গ্রহণ করে তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই রোহিঙ্গার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ইয়াবা বহনকারী রোহিঙ্গা সেলিম মোল্লা ও কিশোর আফছার ওরফে বাবুলের সাথে কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসায়ী রেজোয়ানের পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে রেজোয়ান উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত সেলিম ও আফছারকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢাকায় নেয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। দুই রোহিঙ্গা প্রস্তাবে রাজি হলে রেজওয়ান তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ঢাকায় ইয়াবার চালান পাঠায়।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আর ওই চক্রের পলাতক রেজওয়ানসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
পাকস্থলীতে যেভাবে ঢাকায় ইয়াবা আনতো রোহিঙ্গারা
মাদক ব্যবসায়ী রেজোয়ান ৫০ পিস করে ইয়াবা স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে একটি করে ক্যাপসুল বানাতো। এরপর প্রতি সপ্তাহে সে ৭০টি ক্যাপসুল রোহিঙ্গা সেলিম মোল্লা এবং ৩০টি ক্যাপসুল রোহিঙ্গা কিশোর আফছারকে পানি দিয়ে ওষুধের মতো করে খাওয়াতো। তারপর ওই ক্যাপসুল পেটের মধ্যে নিয়ে বাস অথবা ট্রেনে করে ঢাকায় আসতো দুই রোহিঙ্গা। তারা প্রতি মাসে ৩/৪ বার যাতায়াত করতো।
যাত্রাকালীন সময়ে তারা কোন প্রকার খাবার বা পানি গ্রহণ করতো না। ঢাকায় গন্তব্যস্থলে পৌছার পর মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ সেবন করে তারা পায়ুপথ দিয়ে ওই ইয়াবার ক্যাপসুল বের করতো। পরে ইয়াবার চালান ঢাকায় গ্রহণ করতো আটককৃত মামুন শেখ, ফাহিম, শরীফ ও রাজিব। এসব ইয়াবা তারা রাজধানীর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতো। সেলিম মোল্লা প্রতি চালানে রেজোয়ানের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং আফছার ১০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করতো।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top