ইয়াবা মামলায় জামিন জালিয়াতি!

123-4-31.jpg

সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান ও কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ইয়াবা-সংক্রান্ত একটি মামলা হাইকোর্টে না এনেই সেখানকার জামিনের আদেশের অনুলিপি জালিয়াতি করে কারাগার থেকে দুই আসামির বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘জামিন জালিয়াতির’ বিষয়টি বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দৃষ্টিতে এনেছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ। প্রাথমিকভাবে জামিনের নথি না পাওয়ায় আজ এ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

জামিন পাওয়া দুই আসামি হলেন আহম্মেদ নুর ও মোহাম্মদ রাসেল। তাঁদের বাড়ি চট্টগ্রামে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৮ আগস্ট ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আহম্মেদ নুর ও মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামের সদরঘাট থানার পুলিশ। পরে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা আদালত-৩-এ বিচারের জন্য ওঠে। পরে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। মামলা চলাকালে হাইকোর্টের ‘জামিন আদেশ’ দেখিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান দুই আসামি।

হাইকোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির বিষয়টি গত ২৩ মে প্রথম নজরে আসে বলে জানান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘প্রথমে সেকশনে (হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায়) জামিন সংক্রান্ত নথি খুঁজতে যাই। কিন্তু সেখানে এ জাতীয় কোনো নথি না পাওয়ায় জালিয়াতির বিষয়টি বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চকে অবহিত করি।’

মো. আলী জিন্নাহ বলেন, বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর আদালত সেকশনের সুপারিনটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের জামিন আদেশের মূল কপি ও মামলার নথি হাজির করতে বলেন। কিন্তু সেকশনের কর্মকর্তারা আজ পর্যন্ত ওই জামিনের বিষয়ে কোনো নথি আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি। এরপর বিষয়টি আদেশের জন্য আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আজ আদেশ দেন।

আদালত জামিনের আদেশ জালিয়াতির ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে অথবা তাঁর অফিসের অন্য কোনো কর্মকর্তাকে দিয়ে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে হাইকোর্ট তার আদেশে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতকে (মহানগর দায়রা আদালত-৩) আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়া-সংক্রান্ত নথিতে রাষ্ট্রপক্ষের যেসব আইনজীবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কেউ এ মামলার বিষয়ে অবহিত নন। এমনকি আসামিদের আইনজীবী হিসেবে রফিকুর রহমানের নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি এ ধরনের কোনো মামলায় শুনানি করেননি বলে জানিয়েছেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলী জিন্নাহ আরো বলেন, এ মামলা কখনো হাইকোর্টের কার্যতালিকায় শুনানির জন্যও ছিল না। তাই আসামি দুজনের জামিন পাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top