কক্সবাজার দ্বীপানঞ্চলের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক একজন মিফতাহুল করিম বাবু

20031631_153185185242947_6342875697854963899_n.jpg

দিসিএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী অন্যতম চেনা মুখ মিফতাহুল করিম সিকদার বাবু। হাই্রবিডের এই যুগে পরগাছা শ্রেণীর নেতা কর্মীদের ভীড়ে প্রকৃত নেতা কর্মী পাওয়া যেখানে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে একজন মিফতাহুল করিম সিকদার বাবু অবশ্যই ব্যতিক্রম।

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী এমন এক অঞ্চল যেখানে স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষগুলো বিগত সময়ে এতই শক্তিশালী যে, সেখানে স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকজন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। মিছিল-সমাবেশ ছিল কাল্পনিক বিষয়।  ভূল ব্যাখ্যার কারণে সাধারণ মানুষের কাছেও চক্ষুশূলে পরিণত হয় ছাত্রলীগ।মহেশখালীর পৌরসভায় মৌলবাদি শক্তিগুলো বেপরোয়াভাবে আধিপত্য বিস্তার নসাৎ করতে ছাত্রলীগে হাজির হয় বাবু। চরম প্রতিকূল পরিবেশে ছাত্রলীগের বিস্তার ঘটিয়ে অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চল মহেশখালীতে সরকার ও স্বাধীনতার বিরোধী শক্তির একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। কেউ সাহস করে এসে স্বাধীনতার স্বপক্ষে শক্তিশালীভাবে হাল না ধরায় দ্বীপের সহজ-সরল মানুষ গুলোতে ধর্মের দোহায় দিয়ে তাদের মন জয় করে ভুলপথে পরিচালিত করে মৌলবাদীরা।

সাধারণ মানুষকে বুঝতে দেয় না মুক্তিযুদ্ধ কি, বঙ্গবন্ধু কে এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল মানে কি। অন্ধের মধ্যে রেখে এই তিনটি বিষয়ের প্রতি বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি করে তাদের মধ্যে। একারণে ছাত্রলীগের নাম ধরলেই অনেক সময় ভাল হিসেবে পরিগণিত হতো না।

কিন্তু সেই দুঃসময়কে উপড়ে দিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিতে হাজির হয় টগবগে তরুণ মিফতাহুল করিম সিকদার বাবু। মহেশখালী পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়ে দৃশ্যপট পরিবর্তনের যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সেই যুদ্ধ ক্ষমতার নয়। ভালবাসা এবং মানবতা দেখিয়ে জয় করেন আম জনতার মন। ছাত্রলীগকে পরিণত করেন শক্তিশালী ও আদর্শিক সংগঠন হিসেবে।

জানা গেছে, পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়ে ছাত্রলীগকে ব্যাপকভাবে বিস্তারে মাঠে নামেন বাবু। ঘরে ঘরে ক্যাম্পেইন করে সহযোদ্ধা জোগাড় করেন। জয় করতে সক্ষম হয় মানুষের মন। মারাত্মক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও ঢাকডোল পিঠিয়ে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে পৃথক পৃথক সম্মেলন করে ছাত্রলীগের কমিটি দিতে সক্ষম হন তিনি। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মত করে দেখিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকেই মহেশখালীতে পৌর ছাত্রলীগের কমিটি ছিল নামেমাত্র। স্বাধীনতা বিরোধীদের আধিপত্যের কারণে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি দিতে সক্ষম হয়নি বিগত কমিটিগুলো। এমনকি কোন কমিটি সাহসও করেনি। সেই দুর্ভেদ্য পরিস্থিতি ভেদ করে পৌর ছাত্রলীগের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করেন পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক বাবু। প্রতিটি ওয়ার্ডে ঝাঁকজমক পূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন করে কমিটি দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে প্রতিকূল পরিবেশেও ছাত্রলীগের বিস্তার ঘটানো যায়।

শুধু ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্রলীগের বিস্তার করে থেমে নেই মিফতাহুল করিম সিকদার বাবু’র কার্যক্রম। দ্বীপের রক্ষণশীল পরিবার থেকেও ছাত্রলীগে তুলে এনেছেন নারী নেতৃত্ব। নারী নেতৃত্ব তুলে এনে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে মনে করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের মূলমন্ত্র এবং আদর্শ প্রচার করে নারীকর্মীদের দলে ভিড়িয়েছেন বাবু। তাদেরকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দেন এগিয়ে যাবার। বতর্মানে মহেশখালী পৌর ছাত্রলীগে ৫৬ জন নারীকর্মী রয়েছে। যারা উঠে এসেছেন বাবুর হাত ধরে।

পৌর ছাত্রলীগের প্রতিটি মিছিল-মিটিংয়ে অর্ধশত নারীকর্মীর সরব উপস্থিতি থাকে। শুধু মহেশখালী পৌর ছাত্রলীগের মিছিল-সমাবেশে নয়, জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ডাক পড়ে বাবুর হাতেগড়া নারীকর্মীদের। জেলা ছাত্রলীগের প্রতিটি কার্যক্রমে উপস্থিত করে নারী নেতৃত্বের অভাব দূর করেন তিনি।

শুধু দলের জন্য, দলের হয়ে সাধারণ মানুষের জন্যও নিরন্তর ছুটে চলে মানবতাবাদী এই ছাত্রনেতা। টাকার অভাবে স্কুলে যেতে না পারা অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এপর্যন্ত ২৫ জন দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে ভর্তি করে দিয়ে তাদের যাবতীয় চাহিদা মিটিয়েছেন। আর দুইজন খেটে খাওয়া মানুষকে রিক্সা কিনে দিয়ে পরিবারের অভাব দূর করতে পাশে দাঁড়িয়েছেন। একেবারেই প্রচারবিমুখ এই ছাত্রনেতা চান না এসব ফলাও করে জানাজানি হউক।

বাবুর কাছ থেকে রিক্সা পাওয়া মো. বেলাল সেই সময়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অজোরে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, সেই দুঃসময়ে বাবু পাশে না দাঁড়ালে পরিবারকে সামনে টেনে নিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল। তিনি প্রত্যাশা করেন, বাবু একদিন ছাত্রলীগের অনেক বড় নেতা হবে।

মহেশখালী পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ মোশারফ সুমন বলেন, ছাত্রলীগের হাল ধরে মিফতাহুল করিম সিকদার বাবু স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরে হলেও ছাত্রলীগের বিস্তার ঘটিয়ে ইতিহাস করেছেন। তাঁর (বাবু) নেতৃত্বে পৌর ছাত্রলীগ অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ এবং সুসংগঠিত।

মহেশখালী পৌর আওয়ামী লীগের ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাকের বলেন, অতীতে কোন ছাত্রলীগ নেতাকে ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম বিস্তারে তিনি সাহস করতে দেখেননি। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাবু একেবারেই ব্যতিক্রম। অদম্য এই যুবক ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্রলীগকে অত্যন্ত শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেছেন।

মাতারবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম বলেন, কিভাবে প্রতিকূল পরিবেশেও ছাত্রলীগের বিস্তার ঘটনো যায়, সেটা তিনি (বাবু) করে দেখিয়েছেন। তার মত নেতৃত্বগুণ ও যোগ্যতা সম্পন্ন ছাত্রলীগ নেতা একেবারেই হাতেগুনা। তাই পুরো মহেশখালী ছাত্রলীগ প্রত্যাশা করে, আগামীতে  বাবু জেলা ছাত্রলীগের মূল নেতৃত্বে উঠে আসবে। তিনি বাবুকে জেলা ছাত্রলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।

পারিবারিক ঐতিহ্যগত ভাবেও ছাত্রলীগ রক্তে মিশে আছে মিফতাহুল করিম সিকদার বাবুর। তাঁর আপন চাচা প্রখ্যাত পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনসারুল করিম। তিনি ২০০৯ সালে নৌকা প্রতীকে সর্বোচ্চ ভোট নিয়ে বাজিমাত করেছেন। বাবুর পরিবারে ধন-দৌলতের অভাব নেই। বাবার টাকা অকাতরে বিলিয়ে দেন ছাত্রলীগ এবং মানবতার কল্যাণে।

বাবুর মুখে শোনা গেল ছাত্রলীগের হাল ধরার গল্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এক সময় তিনি দেখেন যে, তাঁর এলাকার সবাই ছাত্রলীগকে খুব ঘৃণা করছে। সেই ঘৃণাকে মুছে দিতে তিনি ছাত্রলীগের কর্মী হন। এরপর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ছাত্রলীগকে তিনি সাধারণ মানুষের ‘ভালবাসার’ সংগঠনে পরিণত করেছেন। এখন ছাত্রলীগের কর্মী বললে আর কোন অভিভাবক সন্তানকে বকা দেয় না। বরং গর্ববোধ করে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার উঠে আসার পেছনের কারিগর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রিয়নেতা ইশতিয়াক আহমেদ জয়। তাঁর (জয়) দিক নির্দেশনায় আমি ছাত্রলীগকে অন্যন্য আদর্শিক সংগঠনে পরিণত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’

বাবু বলেন, ‘কখনো পদপদবী চিন্তা করিনি। সব সময় একজন সাধারণ নগণ্য কর্মী হিসেবে থেকে সংগঠন ও দলের জন্য কাজ করে যেতে চাই। যদি প্রিয় নেতা (জয়) ও অন্যান্যরা মনে করেন তিনি যোগ্য তাহলেই তারা যেখানে বসিয়ে দেন সেখানে থেকেই তিনি আমৃত্যু দলের জন্য কাজ করে যেতে চান’।

উদীয়মান এই নেতা বলেন, ঘরে-ঘরে, মাঠে-ময়দান থেকে শুরু করে সবখানে প্রচার করে বেড়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের গল্প। উন্নয়ন কর্মকান্ড গুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উদ্যমী ছাত্রলীগ নেতা বাবু। তিনি তাঁর এলাকায় আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, মিফতাহুল করিম সিকদার বাবু মহেশখালী পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়কের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বপালন করছেন।

 

তথ্য- পূর্বপশ্চম বিডি . নিউজ

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top