হাত বদল হলেই বাড়ে সবজির দাম

Screenshot_2018-05-21-05-35-56-051_com.android.chrome.jpg

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজার পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়ার পাড়ার চাষী শহিদুল ইসলাম তার নিজের ৮০ শতক জমিতে টমোটে চাষ করেছেন,ফলন ও হয়েছে ভাল। প্রথম পর্যায়ে মাঠ থেকে টমোটে বিক্রি করেছিল প্রতি মনে ৩০০ টাকায়। বর্তমানে কিছুটা বাড়তি অর্থাৎ প্রতি মনে ৪০০ টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে গেছে (অর্থাৎ কেজি ১০ টাকা) মোহম্মদ আলী নামের আরেক ব্যবসায়ি। সেই ব্যবসায়ি লিংক রোড় বাজারে গিয়ে টমোটো বিক্রি করছে কেজি প্রতি ২০ টাকা। আবার একই টমোটে কক্সবাজার শহরের বড় বাজার বা কালুর দোকান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
ঝিলংজা পূর্ব খরুলিয়া এলাকার চাষী নজরুল ইসলাম জানান তিনি প্রায় ৪ কানি(১৬০ শতক) জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। রমজানে কাচাঁ মরিচের দাম বাড়তি থাকে সে সময় কিছু লাভের আশায় আগে মরিচ বিক্রি করেনি। কিন্তু এখন বাজারে কাচা মরিচের দাম খুব কম তবুও সে খরুলিয়া এবং লিংকরোড় বাজারে নিয়ে গিয়ে কাচা মরিচ বিক্রি করেছে কেজিতে ২০ টাকায় কিন্তু তার কাছ থেকে মরিচ কিনে এনে বাহারছড়া বাজারের আবদুর রশিদ বিক্রি করছে ৪০ টাকায়। বেগুন রামু বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা সেই বেগুন খুচরা ব্যবসায়িরা কিনেএনে বাজারে বিক্রি করছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।
রামু বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ি আবুবক্কর ছিদ্দিক কাজল বলেন,বর্তমানে বাজারে সবজির দাম খুবই কম। প্রবিত্র রমজান মাসে সবজির দাম এত কম আগে কখনো দেখিনি। এবার বেগুন বিক্রি করছি ১২ থেকে ১৫ টাকায়,আলু কেজিতে ১৫ টাকা,ঢেরশ ৬ টাকা,ঝিঙ্গা ১০ টাকা,টমোটো ২০ টাকা,বরবটি ২৫ টাকা,দেশী করলা ৩০ টাকা আর শাক সবজিরও খুব দাম কম। তবে এ সব সবজি শহরের বাজারে গেলে একটু দাম বেড়ে যায়।
আলাপকালে কক্সবাজার শহরের বড় বাজার এলাকার আবদুল মান্নান বলেন,মুলত মানুষ রাস্তার পাশের সবজির দোকান থেকে সবজি কিনে তাই দাম একটু পড়ে কারন রাস্তার পাশের দোকানদার গুলো আমাদের কাছ থেকে ৫/১০ কেজি সবজি কিনে বিক্রি করছে আর তারাওতো লাভ করবে। আসলে একটু কস্ট করে প্রকৃত বাজার থেকে তরকারি কিনলে অনেক টাকা সস্তা পাবে। আর রামু চকরিয়া থেকে এখানে তরকারি আনতে বিপুল টাকা পরিবহন খরচ লাগে তার উপর পথে পথে চাঁদা দিতে হয়,এছাড়া আমাদের দোকানের ভাড়া আছে সব মিলিয়ে আমরা একটু বেশি দামে বিক্রি না করলে পোষাবে না। আরেক ব্যবসায়ি আবদুর রাজ্জাক বলেন,গত বছর রমজানের সময় কাচাঁ মরিচ বিক্রি হয়েছিল ২০০ থেকে ১৫০ টাকায়,আর বেগুন ৮০ টাকার নীচে ছিল না,প্রতিটি সবজির দাম ৫০ টাকার উপরে কিন্তু বর্তমানে সে হিসাবে বাজারের পরিস্থিতি খুবই ভাল এখন ৩০ টাকার উপরে তেমন সবজির দাম নেই। এতে সাধারণ মানুষ জনের লাভ হলেও ব্যবসায়িদের ক্ষতি হয়েছে। কারন অনেকে লাভের আশায় কিছু সবজি আগাম কিনেছিল।
এদিকে ৩ রমজান রবিবার কক্সবাজার শহরের বড় বাজার,পিটিস্কুল বাজার,বাহারছড়া বাজার,কালুর দোকান বাজার সহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে প্রথম রমজানে যেভাবে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি ছিল সেটা এখন আর নেই। ২ দিনেই সব সবজির দাম কমে গেছে। বিশেষ করে রমজানের সংশ্লিষ্ঠ সব তরকারির দাম কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে। যেমন প্রথম রমজানের দিন শশা বিক্রি হয়েছিল কেজি ৬০ টাকা এখন সেই শশা ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে,কাচা মরিচ কেজিতে৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে,আর বেগুন প্রথা দিনে ৫০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ২৫ টাকা।
এ ব্যাপারে জেলা মার্কেটিং অফিসার মোঃ শাহজাহান বলেন, আসলে বাজারে সরবরাহ থাকলে জিনিস পত্রের দাম কমে,বর্তমানে সবজির মৌসুম তার উপর আবহাওয়া ভাল আছে কোথাও সবজি খেত নস্ট হয় নি তাই সবজি চাষীরা বাজারে আনতে পারছে। সে জন্য বাজারে সবজির দাম কমেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top