জুলাইয়ে কক্সবাজার পৌর নির্বাচন, শীর্ষ দলের টিকিট পেতে একাধিক প্রার্থী মরিয়া

Screenshot_2018-05-19-01-03-13-047_com.facebook.katana.jpg

নিউজ ডেস্ক

আগামী জুলাই মাসের শেষের দিকে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই লক্ষ জুনের শেষ সপ্তাহে কক্সবাজার পৌরসভার তফসীল ঘোষনা করবেন নির্বাচন কমিশন। তফসীল ঘোষনা হওয়ার খবরে নড়েছড়ে বসেছে বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে তারা নির্বাচনী শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছে। চালিয়ে যাচ্ছে গণসংযোগ। এলাকায় এলাকায় করছে ঘন ঘন বৈঠক। ফলে
কক্সবাজার পৌরসভায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ চলছে সমানতালে। ভোটের অংকে কক্সবাজার পৌরসভা বরাবরই আওয়ামীলীগের জন্য ঊর্বর হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী হেভিওয়েট প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রার্থী সিলেকশনে দলের হাই কমান্ডকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ২০১১ সালের ২৭শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একই দলের রাশেদুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী সরওয়ার কামাল বিজয়ী হন। এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি-জামায়াত ঘরণার প্রার্থীদের তালিকা সংক্ষিপ্ত হলেও আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা দীর্ঘ। আসন্ন পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এবার যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে, তারা হলেন- কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক ৪ বারের পৌর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাসেদুল ইসলাম, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েল।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে গনসংযোগ শুরু করেছেন। জামায়াত দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে না পারলেও দলের সমর্থনে একজন প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করবে। মেয়র পদে কোন ভাবেই বিএনপিকে ছাড় দেবে না জামায়াত এটি নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের একটি সুত্র।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলার নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫/৬ জন থাকলেও পৌর এলাকায় প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাপক গনসংযোগে নেমেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান। তিনি ইতোমধ্যে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে প্রতিনিধিসভা ও গনসংযোগ করেছেন। কুশল বিনিময় করছেন সাধারণ মানুষের সাথে। পৌর এলাকা ভিত্তিক রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তিনি এমন প্রচারণা রয়েছে পৌর এলাকায়।
অন্যদিকে পৌরসভার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরীও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি স্বল্প সময়ে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও অভ্যন্তরীণ সড়কের উন্নয়নের মাধ্যমে পৌরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। তিনিও দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। এ ছাড়াও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, রাশেদুল ইসলাম ও কাইছারুল হক জুয়েল।
এদিকে কক্সবাজার বিএনপিও পৌর নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিগত পৌর নির্বাচনে কোন সময়ই পৌর চেয়ারম্যান কিংবা মেয়র পদে দলটি বিজয়ী হতে পারেনি। এবার মেয়র পদে জোর প্রতিদ্বন্দিতা করবে বলে জানিয়েছে নেতৃবন্দ। গত পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি সমর্থিত কোন প্রার্থী না থাকায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীকে তারা সমর্থন দিয়েছিল। আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী সরওয়ার কামাল বিজয়ী হন। পরে দুর্নীতি ও নাশকতার মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় তাকে সাময়িক বহিস্কার করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
বিএনপি’র দলীয় সুত্রে জানা যায় পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রাসেদ মোঃ আলী, এস.আই.এম আকতার কামাল, পৌরসভার প্যানেল মেয়র জিসান উদ্দিন জিসান, প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম ও কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামসেদ সম্ভাব্য প্রার্থী। এ ছাড়া জামায়াত এর সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহী বহিস্কৃত মেয়র সরওয়ার কামাল।
তবে জামায়াত কক্সবাজার পৌরসভায় মেয়র পদে একক প্রার্থী দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের একটি সুত্র। তারা কোন ভাবেই কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দেবে না। নিজেদের অস্থিত্ব রক্ষায় নির্বাচনে থাকবে জামায়াত।
কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, তবে দলের মনোনয়ন পেলে মেয়র পদে অবশ্যই নির্বাচন করবেন। তাই দলের মনোনয়ন বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে তাই মেনে নেব। তিনি বলেন, দলে কোন বিভেদ হওয়ার আশংকা নেই।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাসেদ মোঃ আলী জানিয়েছেন, পৌর নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরে কেন্দ্রিয় নির্দেশনা মোতাবেক প্রার্থী চুড়ান্ত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে এমন প্রত্যাশা সকলের।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, গত পৌর নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলাম, এবারও দলের মনোনয়ন পাবেন এমন আশাবাদী তিনি। দলের জন্য কাজ করেছি, কক্সবাজারে আওয়ামীলীগকে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী করেছি। আশাকরি দলের মনোনয়ন পেলে মেয়র পদটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব।
কক্সবাজার পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালের ২৭শে জানুয়ারি। ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশিত হয়। দায়িত্ব নেয়ার পর নির্বাচিত মেয়র সরওয়ার কামাল বেশিদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতার মামলা ও দুর্নীতির মামলার অভিযোগপ্রত্র আদালত গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মেয়র সরওয়ার কামালকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ২৪শে নভেম্বর প্যানেল মেয়রকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চিঠি ইস্যু করেন। প্যানেল মেয়র-১ জিসান উদ্দিন ও প্যানেল মেয়র-২ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা থাকায় দায়িত্বভার নিতে পারেননি। প্যানেল মেয়র-৩ কুহিনুর ইসলাম বর্তমান মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে সমর্থন করায় মন্ত্রণালয় মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top