২০১৪ সালে আমি ধর্ষণের শিকার হই, বিচার পাইনি: বিচিত্রা

195338_1.jpg

দিসিএম ডেস্ক।।: আমরা খেলার মাঠে বসতে পারি না। স্বাধীন রাষ্ট্রে বাস করেও মেয়েরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমাদের কী স্বাধীনতা নেই? বলে আক্ষেপ করেছেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সভাপতি বিচিত্রা তির্কী।

স্বাধীন দেশে যদি নারীরা স্বাধীনতা না পায় তাহলে থাকব কোথায়?

পরিবার, রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব জায়গায় প্রতিনিয়ত নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু আমি কোনও বিচার পাইনি। কেন বিচার পাইনি সে প্রশ্নের উত্তরও কী পাবো না?’

‘যৌন সন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেনশনে’ এসব কথা বলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সভাপতি বিচিত্রা তির্কী (৩৫)। শ্রক্রবার (১১ মে) বেলা এগারোটায় রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এ গণ কনভেনশনের আয়োজন করা হয়।

বিচিত্রা তির্কীর (৩৫) অভিযোগ, ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট তিনি ধর্ষণের শিকার হন। কিন্তু সে ঘটনার বিচার এখনও পাননি।

তিনি বলেন, ধর্ষণের যদি বিচার হতো তাহলে আর কোন মা বোনকে ধর্ষণের শিকার হতে হতো না। আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে যদি বিচার করি তাহলে আর এমন ঘটনা ঘটবে না। যৌন হয়রানীর শিকার হয়ে মেয়েরা ভাবে, যদি তা প্রকাশ করি তাহলে হয়ত এই সমাজে আমার আর বিয়ে হবে না। তাই তারা মুখ বন্ধ করে থাকে। কিন্তু আমরা মুখ বন্ধ করে থাকব না। আমাদের সব প্রকাশ করতে হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আর ধর্ষণের বিচার যেন দ্রুত হয় সেই দিকটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

নারী নেত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, জন্মের পর থেকে বাবা, স্বামী ও ছেলেরা নারীর রক্ষাকর্তা। কিন্তু তারা নারীদের রক্ষা করতে পারেনি। তাই নারীদেরই ধর্ষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।

বিচারপতি জিনাত আরা বলেন, বেশির ভাগ সময় ধর্ষণের শিকার ভিকটিমকে এমন ভাবে ধর্ষণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়; তাতে সে আবারও ধর্ষণ হবার মতো অবস্থায় পড়ে। এমনকি ধর্ষিতা নারীর চরিত্র নিয়েও কথা বলা হয়। অনেক সময় প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করে হাসাহাসি করেন।

তিনি বলেন, এখন ধর্ষণ নিয়ে অনেক মিথ্যা মামলা হচ্ছে। তাই বেশিরভাগ সময় ধর্ষণ মামলা হলে ভাবা হচ্ছে তা অসত্য। কিন্তু সবক্ষেত্রে মামলাগুলো অসত্য নয়। এখন বিয়ের আশ্বাস দিয়েও ধর্ষণের পরিমাণ বেড়েছে। আর তাই মামলাও অনেক বেড়ে গেছে। অনেক সময় ধর্ষণ হওয়ার পর নারীরা ভাবেন সে অনেক অপবিত্র হয়ে গেছেন। তাই সে বারবার গোসল করেন। এতে মা্মলার আলামত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিচারের ক্ষেত্রে অনেক বড় বাধা হয়ে যায়। আবার আমাদের দেশে সব জায়গাতে ঠিক মতো ডিএনএ টেস্ট ঠিক মত করাও হয় না।

অভিযোগ রয়েছে ধর্ষণ মামলার বিচার হয়না, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধর্ষণ মামলা বিচারিক আদালতে অনেক পরে আসে। এর আগে গ্রামের মাতব্বররা মিমাংসা করার চেষ্টা করেন বা টাকা দিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা হয়। ফলে মামলা যদি কেউ করেনও দেরি হওয়াতে ধর্ষণের সকল আলামতও নষ্ট হয়ে যায়। আবার ধর্ষণ হওয়ার পর সাক্ষীর অভাবেও ধর্ষণ মামলা বেশি দূর এগুতে পারে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top