প্রতিদিন ১৬ ঘন্টা বিদ্যুৎহীন টেকনাফবাসী

download.jpeg

কারেন্ট যাইতে দেখিনা, মাঝে মধ্যে ফুসকি দিয়া আইতে দেখি
ছৈয়দ আলম, টেকনাফ থেকে ফিরে :
টেকনাফের হ্নীলা রংগীখালী গ্রামের ৬৫ উর্ধে এক বৃদ্ধা বলেন, অ নাতি কারেন্টতো যাইতে দেখিনা, মাঝে মাঝে ফুসকি দিয়া আসতে দেখি। ঐ ২০/২৫ মিনিট দেখাদিয়ে আবার চলে যায়। দিনে রাতে ২৪ ঘন্টার ৪ ঘন্টাও ঠিকমত কারেন্ট মিলছে না। কি করে বাঁচবো। তাই গরমে অতিষ্ট হয়ে বারান্দায় নাতিরে নিয়ে বসে একটু হাওয়া লাগাচ্ছি। তার মধ্যে এই গরমে মাথাটাও ভার ভার লাগছে। তিনি আরো বলেন, কারেন্টের লোক যদি সামনে পাইতাম তাইলে জিজ্ঞেস করতাম ওদের পরিবারে কি সদস্য নেই। এই গরমে তারা কি করে বসবাস করছে। আবার একটু রেগে গিয়ে বলেন, এর উত্তর না দিলে ঘরের ঝাটা দিয়ে………..? টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে একাধিকবার লোডশেডিং। এতে করে জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপন্ন। টেকনাফ পৌর এলাকায় মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ আসলেও গ্রামের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সারাদিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেনা টেকনাফবাসী। কোন কোন এলাকায় বিদ্যুৎ থাকছেনা বলেও অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। তাদের আরো আভিযোগ, যখন বিদ্যুৎ থাকেনা তখন টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হট লইনের সেল ফোন ব্যস্ত করে রাখা হয়। আবার রিসিভ করলেও দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। তাপদাহ যত তীব্র হয়, বিদ্যুতের লোডশেডিং যেন ততই পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। দিনে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী লোডশেডিং দিয়ে শুরু হয় প্রথম ধাপ। দুপুর ও সন্ধ্যার পরে বিভিন্ন ধাপে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে বিদ্যুৎ দেয়া নেয়ার খেলা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ সংকটের ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিদ্যুৎ নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, অফিসিয়াল কার্যক্রমসহ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা হচ্ছে চরমভাবে ব্যহত। বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজিতে অনেকেই তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এলাকাবাসীর বিভিন্ন মতামতে জানা গেছে, আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে কিংবা একটু বাতাসের চাপ থাকলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে পানির সংকট দেখা দেয়। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে পল্লী বিদ্যুৎ জোনের প্রায় শতভাগ গ্রাহকের জনজীবনসহ ব্যবসা-বানিজ্য পড়েছে বিপর্যয়ের মুখে। বিদ্যুৎ এর ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ জনজীবন। তাই বিভিন্ন এলাকার মানুষ রেগে ও ফুসে উঠছে। যেকোন সময় সৃষ্টি হতে পারে বড় ধরনের হট্টগোল, তার ই সুত্র ধরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের এর দাবীতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহাড়ছড়ায় মানববন্ধন করেন এলাকার শত-শত মানুষ। আবার অনেক সাংবাদিক ও সচেতনমহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। টেকনাফের সাংবাদিক নুরুল করিম রাসেল লিখেছেন-টেকনাফে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক সংগ্রাম কমিটি গঠন জরুরী হয়ে পড়েছে। ১. প্রথম কাজ হবে বিল পরিশোধ না করা। এভাবে অনেকেই বিদ্রোহের আগুনে পুড়ছে। করে যাচ্ছে প্রতিবাদ। শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্যুৎ সমাস্যা নিয়ে তুলে ধরছেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও যন্ত্রনার কথা। এছাড়া টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার আশেপাশে থেকেও এরকম কথা শুনা যাচ্ছে। যে কোন মুহুর্তে বিক্ষোভ করতে পারে একযুগে এলাকাবাসী। তেমনি গ্রামের ৬৫ উর্ধে এক বৃদ্ধা বলেন, নাতিরে কারেন্টতো যাইতে দেখিনা, মাঝে মাঝে ফুসকি দিয়া আসতে দেখি। ঐ ২০/২৫ মিনিট দেখা দিয়ে আবার চলে যায়। দিনে রাতে ২৪ ঘন্টার ছয় ঘন্টাও ঠিকমত কারেন্ট দিচ্ছে না। তাই গরমে অতিষ্ট হয়ে বারান্দায় নাতিরে নিয়ে বসে একটু হাওয়া লাগাচ্ছি। তার মধ্যে এই গরমে মাথাটাও ভার ভার লাগছে। তিনি আরো বলেন, কারেন্টের লোক যদি সামনে পাইতাম তাইলে জিজ্ঞেস করতাম ওদের পরিবারে কি সদস্য নেই। এই গরমে তারা কি করে বসবাস করছে। আবার একটু রেগে গিয়ে বলেন, এর উত্তর না দিলে ঘরের ঝাটা দিয়ে মারতাম। তীব্র গরমে জ্বর, নিউমোনিয়া, টাইফয়েডের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে শিশুদের চিকিৎসাসেবা ব্যহত হচ্ছে সর্বোচ্চ মাত্রা। বিদ্যুতের ভোগান্তি থেকে মুক্তি চায় টেকনাফবাসী।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top