শহরের ১৪ পয়েন্টে বখাটের উৎপাত

EVEteasingshadhinbangla24.jpg

এম. বেদারুল আলম :
শহরের ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইভটিজারদের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে স্কুল কলেজ শুরু এবং ছুটির সময় বখাটেরা উক্ত পয়েন্ট সমুহে প্রতিদিন ভিড় করছে । ফলে বখাটেদের উৎপাতের কারনে অনেক অভিভাবক উৎকন্ঠায় সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন না। এ অপরাধ দমনে প্রশাসন সক্রিয় থাকলেও শহরের কোথাও না কোথাও ঘটছে ইভটিজিং। অনুসন্ধানে দেখা গেছে শহরের অভ্যন্তরের শিক্ষা প্রতিষ্টান কক্সবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জাব্বারিয়া একাডেমী, কক্সবাজার মডেল হাই স্কুল, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ, সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজার ইসলামিয়া বালিকা মাদ্রাসার সম্মুখ এলাকা, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, কক্সবাজার সিটি কলেজ এলাকার সামনে, ভোলা বাবুর পেট্রোল পাস্প , গোলদিঘীর পাড় , বায়তুশ শরফ সড়ক, সিকদারমহল এলাকার একটি কোচিং সেন্টারের সামনে, কালুর দোকান ও বার্মিজ মার্কেট এলাকার দু’একটি কোচিং সেন্টারে সামনে প্রতিদিন ভিড় জমায় বখাটেরা। স্কুল এবং কলেজগামি ছাত্রীদের বিভিন্ন কৌশলে ইভটিজিং করছে। অনেক ছাত্রী লজ্জায় কিংবা বখাটেদের ভয়ে তা কাউকে জানাতে ও পারছেনা।
ইভটিজিং কে কেন্দ্র করে বৃদ্ধি পেয়েছে মারামারি, কিশোর অপরাধ। ফলে প্রতিদিনই অগোচরে কারো না কারো মা, বোন, স্ত্রী অথবা মেয়ে লাঞ্চিত হচ্ছে ইভটিজারদের হাতে। অনেক শিক্ষার্থীর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া, বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা বাল্য বিয়ে দিচ্ছেন সম্মান বাচাঁতে। কলাতলি এলাকার বাসিন্দা কবির আহমেদ জানান, এসব ইভটিজাদের অধিকাংশের বয়স ১৫-২৫ এর মধ্যে। বেশিরভাগই প্রায় সচেতন,অনেক নামকরা পরিবারের সন্তান অথচ তাদের প্রতিদিনের কাজ হচ্ছে শহরের স্কুল কিংবা কোচিং সেন্টার গুলোর পাশে দাড়িয়ে পড়তে আসা মেয়েদের উত্যক্ত করা ।
এদিকে ইভটিজিং বিষয়ে কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রমজান আলী জানান, গত ৪ মাসে আমার কাছে ৯টি ইভটিজিং এর শিকার ছাত্রীর অভিভাবকগণ অভিযোগ করেছেন । শহরের পালের দোকানের সামনে, মহিলা কলেজের সামনে, সোহাগ গাড়ির কাউন্টারের সামনে বখাটেরা দাঁড়িয়ে স্কুলগামি ছাত্রীদের উত্যক্ত করে, কেউ কেউ কাগজে লিখে মোবাইল নাম্বার ছুঁড়ে মারার খবর ও এসেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করার পর তাৎক্ষনিক সহযোগিতাও পেয়েছি । গত বছর ও পুলিশের সহায়তায় এ ধরনের কয়েকটি ঘটনার সমাধান করা হয়েছে যা প্রশাসনের শাস্তির মুখে কিছুটা কমে ও গিয়েছিল।
এদিকে ইভটিজিং এর শিকার বিষয়ে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, প্রতিদিনই ইভটিজিং এর ঘটনা ঘটছে তবে অভিভাবকগণ লিখিত অভিযোগ করতে ভয় পান। মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর গত মাসে অন্তত ৩টি ইভটিজিং সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। শহরের প্রত্যন্ত এবং কয়েকটি চিহ্নিত গলিতে বখাটেরা ইভটিজিং করছে। কিন্তু অভিভাবকগণ ভয়ে না বললে সমাধান করব কিভাবে। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও পাওয়া যায় বলে জানান।
এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, আমরা ইয়াবা, ইভটিজিং, বিশেষ করে নারি সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছি। ইতোমধ্যে অনেক বখাটেদের আটক ও করেছি। আমাদের মোবাইল টিম মাঠে স্কুল কলেজ চলাকালিন সময়ে সক্রিয় রয়েছে। আমরা নির্দেশ দিয়েছি উক্ত সময়ে স্কুল কলেজের সামনে বখাটে পেলেই যেন ধরে নিয়ে আসে। ইভটিজিং প্রতিরোধে সামাজিক, পারিবারিকভাবে অভিভাবকদের সচেতনতা দরকার বলে মনে করেন শিক্ষক, প্রশাসন ও বিজ্ঞমহল।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top