রামুতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

Screenshot_2018-05-10-19-19-46-069_com.facebook.katana.jpg

দিসিএম ডেস্ক

ছাত্রী ধর্ষণসহ নানা কেলেংকারি নিয়ে কক্সবাজারের রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক ছৈয়দ করিম বিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হলেও তিনি অপকর্ম থেকে থেমে নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার বিতর্কিত শিক্ষক ছৈয়দ করিমের হাতের লাঞ্চনা ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা মোতাহেরা বেগম।

বুধবার সকাল সাড়ে এগারটায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে সংগঠিত এ ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা ও শ্রেণি কার্যক্রমে কর্মবিরতি পালন শুরু করে। বিদ্যালয় শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সকল শিক্ষকবৃন্দ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বহিস্কৃত শিক্ষক ছৈয়দ করিমের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

সভায় লাঞ্চনা ও শ্লীলতাহানির শিকার বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা মোতাহেরা বেগম জানান, ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে ছৈয়দ করিম তাকে নানা অঙ্গভঙ্গি ও কটূক্তি করতেন। সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিনের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম তদারক করছিলেন।

এ সময় বহিস্কৃত শিক্ষক ছৈয়দ করিম আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়ে এসে তার সাথে পুনরায় অঙ্গভঙ্গি ও কটূক্তি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ছৈয়দ করিম তার পরনের কাপড়-চোপড় ধরে টানা-হেচড়া এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ সময় নিজের সম্ভ্রম ও জানের নিরাপত্তার জন্য তিনি দ্রুত অফিস কক্ষ থেকে শিক্ষক মিলনায়তনে দৌড় দিলে ছৈয়দ করিমও পেছনে তাকে ধাওয়া করে এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলে সজোরে তাকে ধাক্কা দেয়। বিষয়টি স্বচক্ষে দেখে শিক্ষকরা এগিয়ে এলে ছৈয়দ করিম দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে চাইলে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. লুৎফুর রহমান দুপুরে বিদ্যালয়ে যান। এ সময় তিনি শিক্ষকদের সাথে উল্টো দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সুমথ বড়ুয়া নামের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কালের কণ্ঠকে অভিযোগ করে জানান, ‘ইউএনও বিদ্যালয়ে এসে আমরা শিক্ষকদের সাথে তুই-তামারি করে কথা বলেছেন। এমনকি মানববন্ধন করলে শিক্ষকদের জেলে নিক্ষেপেরও হুমকি দিয়েছেন।

বিষয়টি রাতে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের দৃষ্টিতে নেওয়া হলে তিনি জানান, ইউএনও’র দুর্ব্যবহারের ব্যাপারটি তিনি দেখছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের একজন বহিষ্কৃত শিক্ষক কর্তৃক একজন প্রবীণ শিক্ষিকাকে শ্লিলতাহানীর ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে তিনি থানার ওসিকে নির্দ্দেশ দিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে জানার জন্য রামু বালিকা বিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষক ছৈয়দ করিমের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের একজন বহিষ্কৃত শিক্ষক কর্তৃক একজন প্রবীণ শিক্ষিকাকে শ্লিলতাহানীর ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে তিনি থানার ওসিকে নির্দ্দেশ দিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে জানার জন্য রামু বালিকা বিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষক ছৈয়দ করিমের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top