খালেদা জিয়া ছাড়া পাবেন, তবে…

Presentation1-14.jpg

দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সনের ছাড়া পাওয়ার উপায় বাতলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেছেন, ওনার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আছে; তা যদি ওনি আপিলে খণ্ডন করতে পারেন, তাহলে তিনি ছাড়া পেতে পারেন।

মঙ্গলবার সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন বাতিলে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের আংশিক শুনানি হয়।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।

আদালতে শুনানির পর এ বিষয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এসময় তিনি বলেন, ‘আদালতকে আমি জানিয়েছি, এই মামলার পেপারবুক তৈরি হয়ে গেছে। যে কোনো দিন হাইকোর্টে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি শুরু হতে পারে। এই অবস্থায় মামলার শুনানি পেন্ডিং রেখে খালেদা জিয়া জামিন পেতে পারেন না।

‘এছাড়াও আমি বলেছি, নিম্ন আদালত বেগম খালেদা জিয়ার এই মামলাটি যেভাবে বিচার করেছিন এরকম স্বচ্ছভাবে অন্য কোনো আসামিকে এমন সুযোগ দিয়ে উপমহাদেশে কোনো মামলা নিস্পত্তি হতে আমি দেখিনি। যদিও এই মামলায় বার বার  সময়ক্ষেপণ করা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে হাইকোর্ট যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা তা সঠিক হয়নি।’

বিচার চলাকালীন এই মামলায় খালেদার জামিন পাওয়া প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিতে বলেন, ‘নিম্ন আদালতে উনি জামিনে ছিলেন, কারণ তখন ওনি দণ্ডিত ছিলেন না। কিন্তু এখন ওনি দণ্ডিত ব্যক্তি। তাই তখন আর এখনকার জামিনের বিষয়টি এক নয়।’

খালেদার চিকিৎসা বিষয়ে শুনানিতে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যদি এমআরআই কিংবা সিটি স্ক্যানের দরকার হয়, তাহলে তার পছন্দের হাসপাতালেই রাষ্ট্রপক্ষ তা করিয়ে দেবে। কিন্তু ওনার  নিরাপত্তার জন্য বাইরের কোনো হাসপাতালে তাকে রাখা যাবে না।’

এদিন আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। এর আগে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

একই মামলায় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়াও খালেদাসহ দণ্ডিত সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়।

এই রায়ের পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। পরবর্তীতে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল ও জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

গত ১২ মার্চ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন।

তবে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিল চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর ১৪ মার্চ জামিন স্থগিত করে নিয়মিত লিভ টু আপিলের জন্য বলেন আদালত ।

এরপর ১৯ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা সে আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top