শিবগঞ্জে চারজনকে হত্যা একই কায়দায়, পুলিশের ধারণা পূর্ববিরোধ

31932670_1630934853668671_8543136254680629248_n-13.jpg

বগুড়ার শিবগঞ্জে চার ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে একই কায়দায়। পেছন থেকে হাত বেঁধে ও  গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তাদের। একজনের পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত তিন জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে হত্যার বিষয়ে তাদের স্বজনরা কিছুই বলতে পারছেন না। এলাকাবাসী ও পুলিশের ধারণা, কোনও পূর্ববিরোধের জেরে চারজনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

সোমবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের ডাবইর এলাকার ধানক্ষেত থেকে পেছনে হাত বাঁধা ও গলাকাটা চারটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় কৃষকরা ধান কাটতে গিয়ে লাশগুলো দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। লাশগুলো দেখতে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা, শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মশিউর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত তিন জনের নাম-পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন- শিবগঞ্জ উপজেলার কাঠগড়া চকপাড়া গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে পানের দোকানি সাবরুল ইসলাম সাবু (৩৫) ও একই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রংমিস্ত্রি জাকারিয়া ইসলাম (৩২)। স্বজনরাই সাবু ও জাকারিয়ার লাশ শনাক্ত করেছেন। সন্ধ্যায় আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি হলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট গ্রামের আজাহার উদ্দিনের ছেলে হেলাল (৩০)। শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আনিসুর রহমান জানান, স্থানীয় এক চৌকিদার তাকে হেলালের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। এক জনের পরিচয় মেলেনি।

.বগুড়ায় চার জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ

বেলা ২টার দিকে পুলিশ লাশ চারটি উদ্ধার করে শিবগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। পরে সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা সাংবাদিকদের জানান, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনও ক্লু পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী কেউ কেউ বলেছেন, এরা সবাই মাদকসেবী; মাদক নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাদের ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন, এলাকায় জুয়া ও একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরেও তারা খুন হতে পারেন। হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটনে জেলা পুলিশ ছাড়াও পিবিআই, সিআইডি, ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।.

বগুড়ায় চার জনের লাশ উদ্ধার

সোমবার দুপুরে ডাবইর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলের কাছে বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী-পুরুষের ভিড়। সবাই এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করছেন। রাস্তার উভয়পাশে শুধু ধানক্ষেত। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি ধানক্ষেতে হাঁটু পানিতে চারটি লাশ পড়েছিল। লাশের পাশে ব্যাগ ও রুটিও ছিল।

নিহত রংমিস্ত্রি জাকারিয়ার ভাই জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমার ভাই কোনও নেশা বা জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল না। রবিবার (৬ মে) বেলা ১০টার দিকে সে বাড়ি থেকে জয়পুরহাটে কাজের জন্য বের হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাকারিয়া ফোনে জানায় কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরছে। সবাই তার জন্য অপেক্ষা করলেও সে রাতে বাড়ি ফেরেনি। সোমবার সকালে আমরা ডাবইর মাঠে জাকারিয়ার লাশ শনাক্ত করি।’

নিহত সাবুর ভাবি জেবুয়ারা জানান, তার দেবর স্থানীয় আলিয়ারহাটে পানের দোকান করতেন। রবিবার বিকালে সাবু দুধ বিক্রি করতে ওই হাটে যান। দুধ বিক্রির পর দোকানে বালতি রেখে তিনি নিখোঁজ হন। সোমবার সকালে ডাবইর গ্রামের ধানক্ষেতে তার গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। এ হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে দুটি পরিবারের কেউ কোনও মন্তব্য করতে পারেননি।.

বগুড়ায় চার জনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উৎসুক জনতার ভিড়

শিবগঞ্জের মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান জানান, রবিবার রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। তার ধারণা, কোনও বিরোধের জের ধরে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ওই চার ব্যক্তিকে হাতবেঁধে ডাবইর মাঠে নিয়ে গলাকেটে হত্যা করেছে।

শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মশিউর রহমান বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা চারজনকে পেছনে হাত বেঁধে ও গলাকেটে হত্যা করেছে। একজনের পায়ে কোপ ও সবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে দুজনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কোনও ক্লু পাওয়া যায়নি।’ পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা খুনিদের শনাক্ত করতে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন- ডোবা থেকে ৪ জনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top