ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ১২ খাতে শুল্ক প্রত্যাহার চান উদ্যোক্তারা

31948077_1136496349823839_8391709181136076800_n-2.jpg

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ১২টি খাতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি খাতে শুল্ক বাড়ানোর দাবিও জানান তারা।

সোমবার রাজধানীর পান্থপথে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে প্রাক বাজেট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন এ খাতের প্রতিষ্ঠান এসএমই ফাউন্ডেশন।

উদ্যোক্তাদের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরামর্শক মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, উদ্যোক্তাদের থেকে তিনশ’র বেশি প্রস্তাব এসেছে। সেগুলো বাছাই করে ৫৫টি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্ট ৪৩টি প্রস্তাব রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় কৃষি উদ্যোক্তা কম। উদ্যোক্তা তৈরিতে এ খাতে বিশেষ বিবেচনা করা দরকার।

এ সময় শাহাব উদ্দিন কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি তৈরির প্রদান উপকরণ পলিকার্বোনেট, প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল পলিমার, মেলামাইন পণ্যে ব্যবহৃত ডেকালকোম্যানিয়া ট্রান্সফার পেপার, প্লাস্টিক শিট মুদ্রণের গ্রেভার ছাপার কালি ও এতে ব্যবহৃত ইথাইল অ্যাসিটেট ও টলুইন, ইউরিয়া রেজিন, কয়্যারতন্ত্র, ইত্যাদি পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এছাড়াও স্বয়ংক্রিয় মেশিন ব্যতিত তৈরিকৃত পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, কুটির ও কারুশিল্পে মূসক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়া হয়।

একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পকে রক্ষায় কিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর আবেদন করা হয়। যেমন, বৈদ্যুতিক সুইচ, প্লাগ ও সকেট, ল্যাম্পহোল্ডার, ক্যাবল, এলইডি লাইটের যন্ত্রাংশ ইত্যাদি।

সংবাদ সম্মলনে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের সংগঠন বাপার সভাপতি ফখরুল ইসলাম মুন্সী বলেন, ঋণের সুদ অনেক বেশি। ঋণে প্রসেসিং ফিসহ নানান ফি দিতে হয়। ঋণ নিতে যেয়ে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়।

তিনি বলেন, বিভিন্ন বাহিনীর জন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসএমই খাত দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ খাতের উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ব্যবসা করতে পারে না। তাই এই খাতের জন্য ‘এসএমই ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় গার্মেন্টস অ্যাক্সেসোরিজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগে তৈরি পোশাকের সহায়ক বুতাম, জিপার এই জাতীয় ক্ষুদ্র পণ্যগুলো আমদানি করা হতো। এতে অনেক অর্থ ও সময় ব্যয় হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ১৭শ ছোট ছোট কারখানা এসব পণ্য উৎপাদন করে পোশাক উৎপাদনকারীদের চাহিদা মিটিয়ে এখন রপ্তানি করছে। কিন্তু তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা দেয়া হলেও অ্যাক্সেসোরিজ পণ্যে দেয়া হয় না। যা এক ধরনের বৈষম্য।

সভাপতির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, অর্থনীতির উন্নয়নে এসএমই খাতের অবদান অনেক বেশি। উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় না। প্রতি বছর ৭/৮ টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। আশা করি এ বছর এনবিআর এসএমই খাতকে গুরুত্ব দিবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top