রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ওআইসি’র বৈঠক থেকে বাংলাদেশ যা চাইতে

31932670_1630934853668671_8543136254680629248_n-2.jpg


মানবিক কারণে অাশ্রয় দেয়া রোহিঙ্গাদের আরো অনেকটা সময় রাখতে হতে পারে বাংলাদেশকে। এর আগে আরো অনেক দেশের, সংগঠনের ও জোটের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ঘুরে গেলেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে স্পষ্টত তাদের কোনো কর্মসূচি ছিলো না। শুধু ঘোষণা আর আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ ছিলো তাদের প্রতিক্রিয়া।

রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে বাংলাদেশ মুখোমুখি হচ্ছে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার। এমনই প্রেক্ষাপটে শনিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। ওআইসি’র সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, পরিদর্শন করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ওআইসি’র এই বৈঠকে বাংলাদেশ কী প্রত্যাশা করতে পারে সেই বিষয়ে জানালেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

আশেকা ইরশাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আশেকা ইরশাদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: এই বৈঠকে বাংলাদেশ রাজনৈতিক বা নিরাপত্তার দিক থেকে খুব বেশি সহায়তা পাবে বা ওআইসি খুব কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করবে বলে আমার মনে হয় না। তবে বাংলাদেশ যেটা করতে পারে, এর আগে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া রোহিঙ্গা বিষয়ে খুব উৎসাহ দেখিয়েছিলো। তুরস্কও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলো, আর্থিকভাবেও তারা অনেক সহায়তা করেছে। এখন ওআইসি’র কাছে বাংলাদেশ একটা পরিকল্পিত বাজেট বা পরিকল্পনা দিতে পারে। সেখানে বাংলাদেশ বলতে পারে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা যতদিন থাকবে, ততদিনে যত টাকা খরচ হবে, সেটা যেনো পাওয়া যায় এবং সেটা কার্যকর করা যায়।

রাজনৈতিক দিকে দেখতে গেলে তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার সাহায্য নিতে পারে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গারা মুসলিম হওয়ার কারণেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এমন বক্তব্য আমরা অনেকের মুখেই শুনি। বাংলাদেশ তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কাছ থেকে একটা ছোট গ্রুপ করে নিতে পারে। বলতে পারে যে, তোমরা আমাদের একটা ছোট গ্রুপ করে দাও, যেন তারা এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারে ও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরাসরি কাজ করবে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। চীন, ভারত ও রাশিয়ার সঙ্গেও কথা বলবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে।’’

আশেকা ইরশাদ বলেন: একটা দিক আছে রিজিওনাল বা সাবরিজিওনাল। আরেকটা দিক হচ্ছে বড় বড় ফোরামের দিক যেমন ওআইসি বা জাতিসংঘ। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে থাকায় ওই এলাকায় পরিবেশের ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও বলছেন, তাদের চরাঞ্চলের দিকে সরিয়ে নেয়া হবে। সেই পরিকল্পনা থাকলেও এটি বড় কর্মযজ্ঞ। সেখানেও একটি গ্রুপ থাকতে পারে। ওআইসি’র দলটি সেখানে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যাদের কাজই হবে এই বিষয়গুলো নিয়ে ক্রমাগত কথা বলে যাওয়া। আলাদাভাবে অনেককে বিষয়গুলোতে সংযুক্ত করা।

অধ্যপক মুহা.রুহুল আমীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মুহা. রুহুল আমীন বলেন: রোহিঙ্গা সমস্যার পরে সারা বিশ্বের সহায়তা কেবল আশ্বাস, ঘোষণা আর দুঃখপ্রকাশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কেউই সেভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি দল বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমারে গেছে। তবে সেখানেও সেভাবে কোনো সমাধানের দেখা মেলেনি।

‘‘সমস্যার সমাধানে এখন নজর দিতে হবে বহুমুখী কূটনৈতিক সমাধানের দিকে। সেজন্য সরকারের সকল ক্ষেত্রকে কাজে লাগাতে হবে। ওআইসির ভেতরে আবার দুটি দল রয়েছে। একটি সৌদি আরব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক দল। আর অন্যটি লেবানন ও রাশিয়াকেন্দ্রিক জোট।

আমরা যদি বলতেই থাকি যে, রোহিঙ্গারা মুসলিম বলেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাহলে বরং আমরা সমর্থন হারাবো। এটি ধর্মীয় কোনো ইস্যু নয়। রোহিঙ্গারা কোন ধর্মের সেটা বড় বিষয় নয়। তারা আমাদের জন্য হুমকি। অর্থনৈতিক হুমকি, রাজনৈতিক হুমকি এবং পরিবেশগত হুমকি। সে কথা বললেই এই সংকট সমাধানে সবার সমর্থন মিলবে। যেমন- আইএস নির্মূলে সবার অভিন্ন লক্ষ্য ছিলো বলেই সেটা নির্মূল করা গেছে। এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও তাই ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে।’’

অধ্যাপক মুহা. রুহুল আমীন আরো বলেন: বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের খাবার এবং অন্যান্য বিষয় নিয়েও ভুগতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। চীন, ভারত ও রাশিয়া যদি মিয়ানমারের দিকে ঝুঁকে থাকে। তাহলে তারা কেন সেদিকে ঝুঁকে আছে সেটা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের সেসব স্বার্থকে অতিক্রম করে কিভাবে তাদের সমর্থন নিজেদের দিকে আনা যায় সেটা ভাবতে হবে। সেজন্য বিভিন্ন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে দেশে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় কমিটি থাকতে পারে যারা, এই বিষয়গুলো নিয়েই রিসার্চ করবে প্রতিনিয়ত।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top