মস‌জি‌দে বৈষ‌ম্যের শিকার কোমলম‌তি শিশুরা

images-1.jpeg

রিয়াজ মোহাম্মদ শাকিল

মস‌জি‌দে জামা‌তে নামাজ পড়‌তে গি‌য়ে বৈষ‌ম্যের শিকার কোমলম‌তি শিশুরা

ফরজ নামা‌জ মস‌জি‌দে জামাতবদ্ধ ভা‌বে আদায় করার সুষ্পষ্ট ও ক‌ঠোর নি‌র্দেশনা থাক‌লেও, ক‌তিপয় ব্যা‌ক্তি ও হুজুর‌দের অজ্ঞতার কার‌নে, ইসলা‌মের এই মহান ফরজ ইবাদ‌তে অনুৎসাহীত হ‌চ্ছে সমা‌জের কোমলমতী শিশুরা। প্রায়শ আমরা দে‌খি বড়‌দের অনুসরণ কর‌তে গি‌য়ে বা মস‌জি‌তে আ‌গে পৌ‌ছে আ‌গের কাতা‌রে দাড়ানোর কার‌নে ভৎসনার শিকার হয় শিশু‌রা। ছোট্ট শিশুটা‌কে পিছ‌নের কাতা‌রে বা এক কোনায় ঠে‌লে দেওয়াটাই তা‌দের জন্য বড় সওয়া‌বের কাজ হ‌য়ে দাড়ায়। আর ভুলক্র‌মে য‌দি কোন শিশু একটু দুষ্টামী বা শব্দ ক‌রে ব‌সে, তাহ‌লে‌ তো কথায়‌ নেই, পু‌রো মস‌জিত তার উপর হাম‌লে প‌ড়ে।
গতকাল শহ‌রের এক মস‌জি‌দে এশার নামাজ পড়‌তে গি‌য়ে দেখলাম, প্রথম কাতা‌রে কিছু মুসল্লী, ২য় কাতার খা‌লি আবার ৩য় কাতা‌রে ৮/১০ জন মস‌জিদ সংলগ্ন হিফজখানার শিশু জামা‌তে নামাজ আদায় কর‌ছে। দেরী‌তে আসা কিছু মুস‌ল্লি বাধ্য হ‌য়ে ৩য় কাতা‌রের শিশু‌দের সাম‌নের জায়গাটা ফাঁকা রে‌খে ২ ভাগ হ‌য়ে ২য় কাতা‌রে জামাতে শরীক হ‌লেন। বিষয়টা আ‌মিসহ কজন মুসল্লী ইমাম সা‌হে‌বের দৃ‌ষ্টি আকর্ষন কর‌লে, উ‌নি ”ওগু‌লো ছোট ছে‌লে” তীর্যক মন্তব্য ক‌রে চ‌লে গে‌লেন। তার মা‌নে ছোট ছে‌লেরা বড়‌দের সা‌থে এক কাতা‌রে দাড়া‌তে পার‌বেনা!
অথচ হাদী‌সে এস‌ছেঃ জাবির ইব্ন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) একবার আমাদেরকে দলে দলে বিভক্ত দেখে বললেন, তোমরা পৃথক পৃথক রয়েছ কেন? আরেকবার আমাদের সামনে এসে বললেন, তোমরা কেন ফিরিশতাদের মত কাতার বেঁধে দাঁড়াচ্ছ না যেভাবে তারা তাদের প্রভুর সামনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়? আমরা জিজ্ঞাসা করলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ্! ফিরিশতাগণ তাদের রবের সামনে কিভাবে কাতারবন্দী হন? তিনি বললেন, ফিরিশতাগণ সামনের কাতারগুলি আগে পূর্ণ করেন এবং গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়ান । (মুসলিম-ই:ফা:৮৫১)
হযরত আয়শা (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা কাতারের খালি জায়গা পূরণকারীদের উপর রহমত নাযিল করেন এবং ফেরেশতাগন তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করেন।
ম‌নে পড়‌লো, ছোট বেলায় বড়বাজার মস‌জি‌দে এক মুয়া‌জ্জি‌নের ঝা‌ড়ি খে‌য়ে দেড় বছর আ‌মি ঐ মস‌জি‌দমুখী হই‌নি!
অথচ মস‌জিদুল হারাম, মস‌জি‌তে নববী, রি‌য়া‌দের গ্রান্ড মস‌জিদ (যেখা‌নে সৌ‌দি গ্রান্ড মুফ‌তি, বাদশা বা প্রিন্সরা নামাজ প‌ড়ে) সেখা‌নে আমার নামাজ পড়ার সু‌যোগ হ‌য়ে‌ছে। ওখা‌নে শিশুরা বড়‌দের সা‌থে একই কাতা‌রে নামাজ আদায় কর‌ছে। মস‌জি‌দে দৌড়া‌দৌ‌ড়ি, নামাজ চলাকা‌লে চিৎকার-কান্না, এমন‌কি কা‌রো গা‌য়ের উপর পড়‌লেও টু শব্দ‌টি করা হয় না। আর বাংলা‌দে‌শে! কোথায় সে ইসলাম?
বুখারী শরীফে এসেছে- রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামা বিনতে যায়নাব (রাঃ) কে বহন করে (কোলে কিংবা কাঁধে) নামাজ আদায় করতেন। যখন তিনি দন্ডায়মান হতেন তখন তাকে উঠিয়ে নিতেন আর সিজদাহ করার সময় নামিয়ে রাখতেন ।
আমরা একদা যুহর কিংবা আসর নামাজের জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। বেলাল (রাঃ) রাসুল (সাঃ) কে নামাজের জন্য ডাকলেন। রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামাহ (রাঃ) কে কাঁধে করে নিয়ে আমাদের কাছে আসলেন। রাসুল (সাঃ) ইমামতির জন্য নামাজের স্থানে দাড়ালেন আমরা তার পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম অথচ, সে (উমামাহ রা.) তার স্থানে তথা রাসুল (সাঃ) এর কাধেই আছে। রাসুল (সাঃ) নামাজের তাকবির দিলেন আমরাও তাকবীর দিলাম। রাসুল (সাঃ) রুকু করার সময় তাকে পাশে নামিয়ে রেখে রুকু ও সিজদাহ করলেন। সিজদাহ শেষে আবার দাড়ানোর সময় তাকে আগের স্থানে উঠিয়ে নিতেন। এভাবে নামাজের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাকাতেই তিনি এমনটি করে যেতেন।(সুনান আবু দাউদ ৯২০)
এ ছাড়াও রাসুল (সাঃ) এর খুতবা দেয়ার সময় তার নাতি হাসান ও হুসাইন (রাঃ) আসলে তিনি খুতবা দেয়া বন্ধ রেখে তাদেরকে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন, কোলে তুলে নিতেন চুম্বন করতেন আর বলতেন খুতবা শেষ করা পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। তাই, আমি খুতবা দেয়া বন্ধ করেই এদের কাছে চলে এসেছি।(নাসায়ী শরীফ)
মুহাম্মাদ সঃ নিজে বাচ্চাদেরকে কোলে রেখে নামায পড়িয়েছেন। আর আমাদের বুজুর্গ-মুসল্লিরা মসজিদেই তাদের উপস্থিতি সহ্য করতে পারেন না। রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন
যে আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং বড়দেরকে সম্মান করতে জানে না সে আমার দলভুক্ত নয়।(আবু দাউদ, তিরমীজি, মুসনাদে আহমদ)
অতএব তথাক‌থিত বুজর্গ‌দের চিন্তার প‌রিশু‌দ্ধি সম‌য়ের দাবী।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top