চট্টগ্রামে ইতিহাসের বড় ইয়াবা চালান নিয়ে দুই সহোদর আটক

FB_IMG_1525419531263.jpg

জে,জাহেদ চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের ইতিহাসে সবচাইতে বড় ইয়াবা চালান উদ্ধার করেছে সিএমপি ডিবি পুলিশ। আটক করেছেন দু সহোদরকে।

গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিএমপি ডিবি পুলিশ কর্তৃক ৪৫ কোটি টাকা মূল্যমানের ১৩ লক্ষ পিচ ইয়াবা ও ০১টি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা যায়, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকার জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং এর চতুর্থ তলায় অভিযান চালিয়ে ১৩ লক্ষ পিস ইয়াবা সহ ২জনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (বন্দর)পুলিশ।

সিএমপি ডিবি পুলিশ সূত্রে জানায়, গত ৩রা মে সহকারী পুলিশ কমিশনার ডিবি (পশ্চিম) মোঃ মঈনুল হোসেন এর নেতৃত্বে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কামরুজ্জামান, এসআই আবদুর রব, এসআই,শিবু প্রসাদ চন্দ সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হালিশহর থানাধীন শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিক এলাকার জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং, ৪র্থ তলায় রাত ১০টা হতে রাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আসামী সহ দুই বস্তায় ৩০টি বড় প্যাকেটের মধ্যে তিন লক্ষ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নিচে পার্কিং এ থাকা আসামীদের প্রাইভেটকার চট্টমেট্রো-গ-১১-৫৯২৪ হতে ৫ বস্তায় ১০০ টি বড় প্যাকেটের মধ্যে দশ লক্ষ ইয়াবা ট্যাবলেট মোট ১৩ লক্ষ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন।

জব্দকৃত ইয়াবার অনুমান মূল্য ৪৫ কোটি টাকা।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন ১। আশরাফ আলী(৪৭), ২। মোঃ হাসান(২২), উভয় পিতা-মৃত তৈয়ব, মাতা-মৃত দিল বাহার, সাং-গিলাতলী (হাসান এর বাড়ী), থানা-নাইক্ষ্যংছড়ি, জেলা-বান্দরবান।

বর্তমানে-জেড এস এঞ্জেন্স বিল্ডিং, ৪র্থ তলা/বাসা নং-ঋ-৪ই, মসজিদের পাশে শ্যামলী আবাসিক, শান্তিবাগ, থানা-হালিশহর, জেলা-চট্টগ্রাম।

১। আশরাফ আলী(৪৭), ২। মোঃ হাসান(২২) উভয়ে আপন সহোদর ভাই।

আশরাফ আলী ১৯৯৮ সাল হইতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে বসবাস করতো। সৌদি আরবে থাকাকালীন সময় রোহিঙ্গা আব্দুর রহিমের সাথে তার পরিচয় হয়।

বার্মার নাগরিক রোহিঙ্গা আব্দুর রহিম বার্মার নাগরিক লা-মিম এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

গত বছরে  আশরাফ আলী সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে চলে আসে।

রোহিঙ্গা আব্দুর রহিম এর সাথে যোগাযোগ করে বেশ কয়েকবার বার্মা হইতে ইয়াবা ট্যাবলেট সমুদ্র পথে বাংলাদেশে নিয়ে আসে।

গত ৭এপ্রিল বিমান যোগে আসামী আশরাফ আলী ঢাকা হইতে রেংগুন যায়।

রোহিঙ্গা আব্দুর রহিম সহ রেংগুনে হোটেল এলিমিউন এ অবস্থান করে। পরে বার্মার নাগরিক লা-মিম হতে ইয়াবা সংগ্রহ করার পর সাগর উত্তাল থাকায় রওয়ানা দিতে বিলম্ব করে। গত ৩০ এপ্রিল রেংগুন হইতে একটি ট্রলার ও স্পীড বোড সহ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়া রওয়ানা হয়।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রে ট্রলার হইতে ইয়াবা ট্যাবলেট গুলো স্পীড বোডে স্থানাস্তর করিয়া আসামী আশরাফ আলী নিজেই স্পীড বোড চালিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।

পথিমধ্যে কুতুবদিয়া চ্যানেল এ ঝড়ে কবলে পড়ে স্পীড বোড উল্টে গেলে স্থানীয় মাছ ধরা ট্রলারদের সহায়তায় ইয়াবা ট্যাবলেট এর বস্তাগুলো উদ্ধার করে।

মাছ ধরা ট্রলার এর মাঝিকে বিভিন্ন কসমেটিক্স বার্মা হইতে আনিতেছে বলে জানায়।

মাছ ধরা ট্রলারের সহায়তায় ইয়াবা ট্যাবলেটের বস্তা ভাটিয়ালী জেলে পাড়া ঘাটে নিয়ে আসে। পরে শহরে প্রবেশ করায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় মামলা হয়েছে বলে জানায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top