বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকটে কক্সবাজার শহর

images-9.jpg

শিপন পাল :
চরম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট বিরাজ করছে কক্সবাজার পৌর শহরে। কক্সবাজার শহরের ১২টি ওয়ার্ডের দৈনিক হাজার টন বর্জ্য ফেলা নিয়ে চিন্তিত পৌরবাসী। পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ডাস্টবিন স্থাপন করার কথা থাকলেও তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার তথ্য মতে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ৯৭টি মহল্লা রয়েছে। প্রায় ২ লক্ষাধিক জনসংখ্যার কক্সবাজার শহরে দৈনিক হাজার টন বর্জ্য কক্সবাজার পর্যটন শহরকে অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। স্কুল-কলেজের সামনে, মার্কেটের সামনে, রাস্তার ধারে, শহরের অলি-গলিতে স্তুপ করে রাখা বর্জ্যে শহরবাসীকে অসন্তুষ্ট করে তোলে। শহরবাসী বর্জ্যরে অব্যবস্থাপনার কারণ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের দোষারোপ করে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক তদারকি না করায় স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারকে দোষ দিতেও দেখা যায়। কক্সবাজার শহরবাসীর দাবি ছিল প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাস্টবিন স্থাপন করার।
জানা গেছে, গত বৎসরের ৩০ মার্চ কক্সবাজার পৌরসভায় নগর সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে উঠে আসে কক্সবাজার পৌরসভার নানা সমস্যা ও তা সমাধানের বিভিন্ন উদ্যোগ। এসময় পৌর কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০টি করে ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে মর্মে জানানো হয়েছিল। যা ওইসময়ে ২-৩ দিনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা ছিল। ওই সময় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দক্ষিণ মিঠাছড়িস্থ চেইন্দায় কম্পোস্ট প্ল্যান্টের নির্মাণ কাজ ৪০% সম্পন্ন হয়েছিল বলেও জানিয়েছিল পৌর কর্তৃপক্ষ এবং বাকী কাজ গত বৎসরের মে মাসে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নাগরিকবৃন্দ নিয়ে গঠিত নগর সমন্বয় কমিটির ওই সময়ের ত্রৈমাসিক সভায় পৌর কাউন্সিলর, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, আইনজীবী সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার পৌরসভাস্থ প্রতিটি ওয়ার্ডের ২০টি করে ১২টি ওয়ার্ডে ২৪০টি ডাস্টবিন স্থাপন করার কথা ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অথচ ওই সময়ের দীর্ঘ এক বৎসর অতিক্রান্ত হলেও আজ অবধি হয়নি এসব ডাস্টবিন স্থাপন। এমনকি এসব ডাস্টবিন স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ওয়ার্ড অনুযায়ী পৌর এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নাই বললেই চলে। যার কারণে স্থানীয়রা রাস্তার পাশে কিংবা ড্রেনে বর্জ্য নিক্ষেপ করে থাকে। ফলে এসব বর্জ্য ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেন ভর্তি পানি রাস্তায় চলে আসে। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন থাকলে স্থানীয় ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার সুযোগ পেত। প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০টি করে ডাস্টবিন স্থাপনের কথা থাকলেও তা দীর্ঘ সময়েও স্থাপন করা হয়নি। এসব ডাস্টবিন স্থাপন করা হলে পৌরবাসীর অনেক কষ্ট লাগব হত।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ খোরশেদ আলম জানান, আমার জানা মতে কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোন সহ প্রতিটি ওয়ার্ডে বসানোর জন্য প্লাস্টিকের ডাস্টবিন সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের এসব ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় এসব ডাস্টবিন স্থানীয় কাউন্সিলরের দায়িত্বে স্থাপন করা হবে।
সূত্রে জানা গেছে, গত বৎসরের ৩০ মার্চ সিদ্ধান্ত হওয়া এসব ডাস্টবিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় ২-৩দিনের মধ্যে স্থাপন করার কথা ছিল। প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থাপন করার জন্য ওই সময়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব ডাস্টবিন স্থানীয় কাউন্সিলরকে প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। তবে এখনো পর্যন্ত কেন এসব ডাস্টবিস বসানো হয়নি তা জানা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
এদিকে কক্সবাজার শহরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনীয় এসব ডাস্টবিন এখনো পর্যস্ত স্থাপন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যদি স্থায়ীভাবে কোন কোন এলাকায় ডাস্টবিন স্থাপন করা সম্ভব না হয় তবে অস্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপন করে অন্তত সমস্যার কিছুটা হলেও লাঘব করা যেত। কিন্তু কর্তৃপক্ষের দেয়া প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য ২০টি করে ডাস্টবিন স্থাপন করার সিদ্ধান্ত এখনো পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হওয়া খুবই দুঃখজনক। যার কারণে দৈনন্দিন কস্ট পেতে হচ্ছে পৌরবাসীদের।
দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের দেয়া প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০টি করে ডাস্টবিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য পৌর পিতার দৃষ্টি কামনা করেছেন কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top