লম্বা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, নিরাপত্তা জোরদার

download.jpeg

ওমর ফারুক হিরু, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট।।

কক্সবাজার: কক্সবাজার এখন পর্যটকে ভরপুর। টানা ৯ দিন ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে আসছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের এই নগরীতে। ইতিমধ্যেই সব হোটেল-মোটেল আর কটেজের রুম বুকিং হয়ে গেছে। চলে এসছে প্রায় ১ লাখের মত পর্যটক। আর বেড়াতে আসা এসব পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করছে নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এই টানা ৯ দিন ছুটির মধ্যে শুক্র-শনি দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও রয়েছে ২৯ এপ্রিল রোববার বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি, ১ মে শ্রমিক দিবস, ২ মে পবিত্র শবে-বরাতের ছুটি। এছাড়া ৩ মে বৃহস্পতিবার কর্মদিবস থাকলেও পরের দুই দিন শুক্র-শনি রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি।

লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার থেকে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এসব পর্যটকেরা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি ছাড়াও ভ্রমণ করছে সেন্টমার্টিন, ডুলাহাজারার সাফারি পার্ক, মেদাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক, ছিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী ও মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র।

সাইমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটক জানান, ‘আমরা ২ দিন ছুটি পেলেই ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে আসি। আর এইবারে পেয়েছি ৯ দিন। তাই পরিবারের সবাই একসাথে বেড়াতে এসেছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বাপ্পী জানান, ‘কক্সবাজার না আসলে বুঝা যাবেনা এই জায়গাটা কতো সুন্দর। তাই বন্ধুরা মিলে একসাথে ঘুরতে এসেছি। আমরা আগামীকাল নীল পানির দ্বীপ সেন্টমার্টিনে যাবো। ওই দ্বীপে এই প্রথম যাওয়া হচ্ছে তাই খুবই ভাল লাগছে।’

বেড়াতে আসা নতুন দম্পতি সানজিদা আক্তার আর রুবেল চৌধুরী জানান, রাতের সমুদ্র খুবই সুন্দর। রাতেও সমুদ্র সৈকতের পাড়ে প্রয়োজনমত আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। আর জোরদার রয়েছে নিরাপত্তা।

কক্সবাজার কটেজ মালিক সমিতিরি সভাপতি কাজী রাসেল আহমদ নোবেল জনান, এই লম্বা ছুটিতে সমিতির আওতাভুক্ত ১১৭টি কটেজ ছাড়াও অন্যান্য কটেজগুলোতেও পর্যটকের চাপ বেড়েছে। আর পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে সমিতির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। পুরো কটেজ জোন রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।

কক্সবাজার হোটের মোটেল মালিক সমিতির মুখপাত্র সাখাওয়াত হোসেন জানান, পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করাই হচ্ছে তাদের কাজ। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ হোটেল-মোটেলের রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে আছে। আগত পর্যটকদের যেন কোন সমস্যা না হয় সেদিকেই লক্ষ রাখা হচ্ছে। তার হোটেল-মোটেলের নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য পর্যটন স্পটগুলোতে অতিরিক্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছে ১১৬ জন পুলিশ। থাইল্যান্ডের মত সমুদ্রের পাড়ে বীচ বাইক দিয়ে সাইকেল পেট্টোলিং করা ছাড়াও ইনানী হিমছড়ি এবং সেন্টমার্টিনে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় এসব ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড.একেএম ইকবাল হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের বিনোদনকেন্দ্রগুলো ঢাকা রয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। দায়িত্ব পালন করছে অতিরিক্ত পুলিশ।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারিতা থাকবে। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত টাকা আদায় বা অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে এই দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের জায়গা দিতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখিন হওয়ার আশংকা দেখছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কক্সবাজারে ৫ শ’ এর কাছাকাছি হোটেল-মোটেল আর কটেজে রয়েছে। ওখানে ২ লাখের মত পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো বিভিন্ন হোটেলের রুমগুলো কিছু দিনের জন্য বুকিং করে রেখেছে। এর ফলে অতিরিক্ত পর্যটকদের জায়গা দিতে সমস্যা হবে। তাই আগে থেকে এই সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top